প্রতিদিন ডিম খাওয়া কি ভালো

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
প্রতিদিন ডিম খাওয়া কি ভালো
ছবি : সংগৃহীত

ডিমকে অনেকেই সুপারফুড বলে থাকেন। সকালের নাশতা থেকে শুরু করে দুপুর বা রাতের খাবার, ডিম এমন একটি খাবার যা সহজেই খাবারের তালিকায় যোগ করা যায়।

তবে একটি প্রশ্ন অনেকের মনেই থাকে। প্রতিদিন ডিম খাওয়া কি সত্যিই স্বাস্থ্যকর? নাকি এতে শরীরে কোলেস্টেরল বেড়ে যেতে পারে?

পুষ্টিবিদদের মতে, সুস্থ বেশিরভাগ মানুষের জন্য প্রতিদিন একটি ডিম খাওয়া নিরাপদ এবং উপকারী। তবে ডিম খাওয়ার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি।

কেন ডিম এত উপকারী?

একটি বড় ডিমে প্রায় ৬ গ্রাম উচ্চমানের প্রোটিন থাকে। এই প্রোটিন দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে এবং পেশি গঠন ও রক্ষণাবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এ ছাড়া ডিমে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি১২, আয়োডিন, সেলেনিয়াম এবং কোলিন।

যুক্তরাষ্ট্রের নিবন্ধিত পুষ্টিবিদ এবং টুডে-এর পুষ্টিবিষয়ক সম্পাদক নাটালি রিজ্জোর মতে, ডিমে থাকা কোলিন মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ডিমে আরও রয়েছে লুটেইন ও জিয়াজ্যানথিন নামের দুটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা দীর্ঘমেয়াদে চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে।

ডিমে কি কোলেস্টেরল থাকে?

হ্যাঁ, একটি বড় ডিমে প্রায় ১৮০ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল থাকে।

আগে মনে করা হতো, খাবারের কোলেস্টেরল সরাসরি রক্তের কোলেস্টেরল বাড়ায়। তবে বর্তমানে গবেষণায় দেখা গেছে, বেশিরভাগ সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে খাবারের কোলেস্টেরল রক্তের কোলেস্টেরলের ওপর তেমন বড় প্রভাব ফেলে না।

এ কারণেই বর্তমানে বিশেষজ্ঞরা শুধু একটি খাবার নয়, পুরো দিনের খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর দিতে বলেন।

সাম্প্রতিক গবেষণায় এমনও দেখা গেছে, সপ্তাহে ১২টি ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ ফোর্টিফায়েড ডিম খাওয়া কিছু মানুষের ক্ষেত্রে রক্তের কোলেস্টেরল এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে যাদের হৃদরোগ রয়েছে বা ঝুঁকি বেশি, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডিমের কুসুমের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন হতে পারে।

ডিম প্রতিদিন খেতে চাইলে এই ৩টি বিষয় মনে রাখুন

শুধু ডিম নয়, সঙ্গে শাকসবজি ও পূর্ণ শস্যও রাখুন

ডিম একাই পুষ্টিকর খাবার। কিন্তু অনেকেই ডিমের সঙ্গে নিয়মিত সসেজ, বেকন, অতিরিক্ত চিজ বা প্রক্রিয়াজাত মাংস খেয়ে থাকেন, যা স্বাস্থ্যকর নয়। পুষ্টিবিদদের পরামর্শ হলো, ডিমের সঙ্গে শাকসবজি, ডাল, ফল বা পূর্ণ শস্যজাতীয় খাবার রাখুন।

যেমন - বিভিন্ন সবজি দিয়ে ডিম ভাজি, সবজি ও ডিমের রোল, লাল আটার টোস্টের সঙ্গে সেদ্ধ ডিম ও এক বাটি মৌসুমি ফলের সঙ্গে ডিম।

এতে খাবারে আঁশ, ভিটামিন, খনিজ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পরিমাণও বাড়বে।

ডিম রান্নার স্বাস্থ্যকর পদ্ধতি বেছে নিন

ডিম কীভাবে রান্না করছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। পুষ্টিবিদদের মতে, যেসব রান্নায় অতিরিক্ত তেল বা চর্বি লাগে না, সেগুলো তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর। যেমন সেদ্ধ ডিম, পোচ, অল্প তেলে স্ক্র্যাম্বলড ডিম এবং বেক করা ডিম।

যদি তেল ব্যবহার করতেই হয়, তাহলে মাখনের বদলে অলিভ অয়েল, ক্যানোলা অয়েল বা অ্যাভোকাডো অয়েলের মতো স্বাস্থ্যকর তেল অল্প পরিমাণে ব্যবহার করা ভালো।

কুসুমের পরিমাণে নজর রাখুন

ডিমের কুসুমেই রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, কোলিন, ভিটামিন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান।

তাই কুসুম পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

তবে নিবন্ধিত পুষ্টিবিদ গ্রেস ডেরোচার মতে, কেউ চাইলে দুটি ডিম খেতে পারেন, কিন্তু কুসুম খেতে পারেন একটি ডিমের।

প্রিভেন্টিভ কার্ডিওলজিস্ট ডা. জেমস ও'কিফও একই ধরনের অভ্যাস অনুসরণ করেন। তিনি জানান, তিনি সপ্তাহে ১৪টি ডিম খেলেও অর্ধেক কুসুম বাদ দেন।

তার মতে, যাদের হৃদরোগ আছে বা হৃদরোগের ঝুঁকি বেশি, তাদের ক্ষেত্রে কুসুম সীমিত রাখা উপকারী হতে পারে। তিনি আরও বলেন, সুযোগ থাকলে ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ ফোর্টিফায়েড ডিম বেছে নেওয়া ভালো।

তাহলে প্রতিদিন ডিম খাওয়া যাবে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ অধিকাংশ মানুষের জন্য প্রতিদিন একটি ডিম খাওয়া নিরাপদ।

তবে শুধু ডিম খেলেই হবে না। পুরো খাদ্যতালিকা যেন সুষম হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

যাদের উচ্চ কোলেস্টেরল, হৃদরোগ বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যসমস্যা রয়েছে, তারা নিয়মিত ডিম খাওয়ার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেবেন।

ডিম সহজলভ্য, সাশ্রয়ী এবং উচ্চ পুষ্টিগুণসম্পন্ন একটি খাবার। এতে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন, প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি। ডা. জেমস ও'কিফের ভাষায়, ডিমকে অযথা ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। এটি উচ্চমানের প্রোটিনের একটি প্রাকৃতিক উৎস এবং শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে।

সূত্র: টুডে