লালমনিরহাট

২২ হাজার গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংকট কাটল ১০০ ঘণ্টা পর

এশিয়া পোস্ট নিউজ, লালমনিরহাট
২২ হাজার গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংকট কাটল ১০০ ঘণ্টা পর
নতুন পাওয়ার ট্রান্সফরমার স্থাপন শেষে সাব-স্টেশনটি থেকে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়। ছবি : এশিয়া পোস্ট

টানা ১০০ ঘণ্টা পর অবশেষে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে লালমনিরহাটের আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে। দীর্ঘ পাঁচ দিন পর আলোর মুখ দেখে স্বস্তি ফিরেছে এলাকার প্রায় ২২ হাজার গ্রাহকসহ ৫০ হাজার ভুক্তভোগী মানুষের মাঝে।

ঢাকা থেকে আনা নতুন পাওয়ার ট্রান্সফরমার স্থাপন শেষে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টায় সাব-স্টেশনটি থেকে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়।

এর আগে গত সোমবার (২৯ জুন) রাতে তীব্র ঝড় ও বজ্রপাতে আদিতমারী-২ (হাজীগঞ্জ) সাব-স্টেশনের ১০ এমভিএ ক্ষমতাসম্পন্ন প্রধান ট্রান্সফরমারটি বিকল হয়ে যায়। এর ফলে আদিতমারীর কমলাবাড়ী, পলাশী, ভেলাবাড়ী, দুর্গাপুর এবং কালীগঞ্জের গোড়ল ও চলবলা ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়েছিল।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ওই এলাকাগুলোতে তীব্র খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছিল। সেচ দিতে না পারায় কৃষিজমি শুকিয়ে যাচ্ছিল। এছাড়া তীব্র গরমে শিশু ও বৃদ্ধরা অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ব্যাহত হয় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা। ফ্রিজে রাখা সংরক্ষিত খাবার নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। বিদ্যুৎহীনতায় গোটা এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছিল।

এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা থেকে আসা নতুন ট্রান্সফরমার প্রতিস্থাপন করে বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িক চালু করা হলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই কারিগরি ত্রুটির কারণে তা আবার বন্ধ হয়ে যায়। ফলে নতুন করে চরম ক্ষোভ ও হতাশায় পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরবর্তীতে লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম এবং রংপুর থেকে আসা পল্লী বিদ্যুতের একাধিক কারিগরি দল ও প্রকৌশলীরা নিবিড় পর্যবেক্ষণের পর ত্রুটি সারিয়ে রাত সাড়ে ১০টায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে সক্ষম হন।

উপজেলার তালুক দুলালী এলাকার পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, দীর্ঘ প্রায় ৫ দিন পর আমরা বিদ্যুৎ পেলাম। বিদ্যুৎ না থাকায় আমাদের জীবনযাত্রা ও কাজকর্ম অচল হয়ে পড়েছিল। এখন বিদ্যুৎ আসায় দৈনন্দিন জীবনে স্বাভাবিকতা ফিরবে।

এ বিষয়ে আদিতমারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মুহাম্মদ আব্দুল ফাত্তাহ বলেন, বজ্রপাতে ১০ এমভিএ ট্রান্সফরমারটি বিকল হওয়ায় ২২ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন ছিলেন। ঢাকা থেকে নতুন ট্রান্সফরমার এনে প্রতিস্থাপন এবং উদ্ভূত কারিগরি ত্রুটি দ্রুততম সময়ে মেরামত করে রাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক করা হয়েছে।

আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গুঞ্জন বিশ্বাস জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির ওপর কড়া নজরদারি রাখা হয়েছিল। জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে বিদ্যুৎ বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে দ্রুততম সময়ে বিদ্যুৎ সচল করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।