সাড়ে পাঁচ কোটি টাকায় নির্মিত বাইতুল মামুর নজর কাড়ছে সবার

এশিয়া পোস্ট নিউজ, ঝিনাইদহ
সাড়ে পাঁচ কোটি টাকায় নির্মিত বাইতুল মামুর নজর কাড়ছে সবার
লাল-সাদা অলংকরণ, ব্যতিক্রমধর্মী গোলাকার সিঁড়ি মসজিদকে করে তুলেছে আকর্ষণীয়। ছবি : এশিয়া পোস্ট

আধুনিক স্থাপত্যশৈলী, ইসলামী নান্দনিকতা ও মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশের সমন্বয়ে ঝিনাইদহের খাজুরা গ্রামে গড়ে উঠেছে দৃষ্টিনন্দন ‘বাইতুল মামুর জামে মসজিদ’। ইবাদতের পাশাপাশি দ্বীনি শিক্ষার আলো ছড়াতে নির্মিত এই শৈল্পিক স্থাপনাটি ইতোমধ্যেই জেলার অন্যতম আকর্ষণীয় ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

সবুজে ঘেরা শান্ত-সুনিবিড় প্রকৃতির মাঝে নির্মিত এই মসজিদের সুউচ্চ মিনার দূর থেকেই দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে। সাদা রঙের প্রাধান্য, দেয়ালের সূক্ষ্ম কারুকাজ, লাল-সাদা অলংকরণ, ব্যতিক্রমধর্মী গোলাকার সিঁড়ি ও শৈল্পিক স্থাপত্য পুরো পরিবেশজুড়ে এক অনাবিল প্রশান্তি তৈরি করেছে।

পারিবারিক পরিবেশ ও নারীদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা

মসজিদের নিচতলায় রয়েছে সুসজ্জিত ফুলের বাগান। শুধু স্থানীয় মুসল্লিরাই নন, দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে এখানে আসেন। শিশুদের জন্য রয়েছে খেলার স্থান ও দোলনার ব্যবস্থা। এছাড়া নারীদের নামাজ আদায়ের জন্য রাখা হয়েছে সম্পূর্ণ পৃথক ও সুসজ্জিত ব্যবস্থা। মার্বেল ফ্লোর, দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জা এবং মিহরাব-মিনবারের শৈল্পিক নকশা মসজিদের অভ্যন্তরকে করে তুলেছে আকর্ষণীয়। বিশেষ করে মাগরিবের পর আলোকসজ্জার ঝলকানিতে মসজিদটি এক নতুন রূপ ধারণ করে।

দূর থেকে আসা দর্শনার্থী হুমায়ুন ও মিলন সরকার জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই মসজিদের সৌন্দর্য দেখে তাঁরা জুমা আদায় করতে এসেছেন। বাস্তবের পরিবেশ ভিডিওর চেয়েও অনেক বেশি মনোমুগ্ধকর ও নান্দনিক, যা হৃদয়ে প্রশান্তি এনে দেয়।

যশোর থেকে আসা মুসল্লি হুমায়ুন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউবে বহুবার এই মসজিদের ভিডিও দেখেছি। বাস্তবে এসে দেখলাম, ভিডিওর চেয়েও অনেক বেশি মনোমুগ্ধকর ও দৃষ্টিনন্দন। মসজিদটির সৌন্দর্য শুধু চোখকে মুগ্ধ করে না, হৃদয়েও এক ধরনের প্রশান্তি এনে দেয়। মনে হচ্ছে, যেন আল্লাহর রহমতের ছায়াতলে দাঁড়িয়ে আছি। মহান আল্লাহ যেন এই মসজিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে উত্তম প্রতিদান দান করেন।

সবুজে ঘেরা এই মসজিদের সুউচ্চ মিনার দূর থেকেই দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে। ছবি : সংগৃহীত
সবুজে ঘেরা এই মসজিদের সুউচ্চ মিনার দূর থেকেই দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে। ছবি : সংগৃহীত

নাটোর থেকে আসা মুসল্লি মিলন সরকার বলেন, অনেক দিন ধরেই ইচ্ছা ছিল এই মসজিদে এসে নামাজ আদায় করব। অবশেষে আল্লাহ তাআলা সেই তাওফিক দিয়েছেন। মসজিদটির পরিবেশ অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন, নান্দনিক ও প্রশান্তিময়। এখানে এসে মনে হয়েছে, আল্লাহর ঘরের সৌন্দর্য মানুষের ঈমানকে আরও দৃঢ় করে। আজ জুমার নামাজ আদায় করে দেশ, জাতি এবং সমগ্র মানবজাতির শান্তি, কল্যাণ ও হেদায়াতের জন্য দোয়া করব।

নিজ গ্রামের কৃতি সন্তানের উপহার

মসজিদের খাদেম নুর উদ্দিন শেখ জানান, এই মসজিদটি নির্মাণ করেছেন গ্রামের কৃতি সন্তান মেরিন ইঞ্জিনিয়ার রবিউল ইসলাম। তার স্বপ্ন ছিল নিজ গ্রামে এমন একটি আল্লাহর ঘর নির্মাণ করা, যেখানে মানুষ ইসলামের সৌন্দর্যের সঙ্গে পরিচিত হবে এবং এলাকার শিশু-কিশোররা দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত হবে।

মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা মুফতি ইনজামামুল হক বলেন, এই মসজিদ শুধু পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের স্থান নয়, এটি কোরআন-সুন্নাহর আলো ছড়িয়ে দেওয়ার একটি দ্বীনি প্রতিষ্ঠান। মসজিদের সাথে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ‘মদিনাতুল উলুম কওমি মাদ্রাসা ও হিফজখানা’, যেখানে শতাধিক শিক্ষার্থী পবিত্র কোরআন হিফজ করছে।

স্থানীয় মুসল্লিদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে বাইতুল মামুর জামে মসজিদ ও মাদ্রাসার নির্মাণকাজ শুরু হয়। মেরিন ইঞ্জিনিয়ার রবিউল ইসলামের অর্থায়নে নির্মিত এই দৃষ্টিনন্দন স্থাপনায় এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। আধুনিক স্থাপত্যশৈলী ও মনোমুগ্ধকর নান্দনিকতার কারণে এটি এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কাছে ইসলামী স্থাপত্য সৌন্দর্যের এক উজ্জ্বল প্রতীক।

বিষয় :ঝিনাইদহ