কঠিন সময়ে সিটির পাশে সাবেক কোচ গার্দিওলা

ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি এখন তাদের ইতিহাসের অন্যতম বড় সংকটের সামনে। আর্থিক নিয়ম ভাঙার গুরুতর অভিযোগে স্বাধীন কমিশনের রায় বিপক্ষে যাওয়ার পর সাবেক ক্লাবের পাশে দাঁড়িয়েছেন দলটির সাবেক কোচ পেপ গার্দিওলা।
গত মৌসুম শেষে ম্যানচেস্টার সিটির দায়িত্ব ছেড়েছেন গার্দিওলা। এক দশকের অধ্যায় শেষে তার জায়গায় দায়িত্ব নিয়েছেন সাবেক সহকারী এনজো মারেসকা। তবে ক্লাবের বর্তমান সংকটে নিজেকে দূরে রাখেননি স্প্যানিশ কোচ।
নিজের ‘এক্স’ অ্যাকাউন্টে গার্দিওলা লিখেছেন, ‘ম্যানচেস্টার সিটির প্রত্যেক সমর্থককে জানাতে চাই, আমি এখানেই আছি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। আমি আমার ক্লাব, মালিক, চেয়ারম্যান, ফেরান, খেলোয়াড়, স্টাফ, এনজো এবং তোমাদের; আমাদের অনন্য সমর্থকদের পাশে আছি, সবসময় ছিলাম এবং থাকব।’
এরপর তিনি লিখেছেন, ‘একটি বিষয় পরিষ্কার করে বলতে চাই—আমরা একসঙ্গেই এই সময় পার করব। তোমাদের সবাইকে ভালোবাসি।’
প্রিমিয়ার লিগ মঙ্গলবার জানায়, স্বাধীন কমিশন ২০০৯-১০ থেকে ২০১৭-১৮ এই নয় মৌসুমে গুরুতর আর্থিক বিধিভঙ্গ-সংক্রান্ত সব অভিযোগে সিটিকে দোষী পেয়েছে। একই সঙ্গে লিগের তদন্তে সহযোগিতা না করার চার অভিযোগের তিনটিও প্রমাণিত হয়েছে।
কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, একাধিক বাণিজ্যিক অংশীদারের সঙ্গে এমন চুক্তি ব্যবহার করেছিল সিটি, যেগুলো প্রকৃত আর্থিক ব্যবস্থাকে সঠিকভাবে তুলে ধরেনি। এর মাধ্যমে ক্লাবের আয় কৃত্রিমভাবে বাড়ানো এবং ব্যয় কম দেখানো হয়েছিল। সিটি তাদের আর্থিক হিসাবেও প্রকৃত অবস্থা গোপন করেছিল বলে জানিয়েছে প্রিমিয়ার লিগ।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে নয় মৌসুমে আয় বাড়িয়ে ও ব্যয় কমিয়ে দেখানোর পরিমাণ ছিল ৯০০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি।
ম্যানচেস্টার সিটি অবশ্য কমিশনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছে। ক্লাবের দাবি, রায়ে আইন, নীতি ও তথ্যগত গুরুতর ত্রুটি রয়েছে। সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবে বলেও জানিয়েছে তারা। এখনো কোনো শাস্তি ঘোষণা করা হয়নি।
রায়ের পর ক্লাবের কর্মীদের উদ্দেশে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন প্রধান নির্বাহী ফেরান সোরিয়ানোও। সেখানেও কমিশনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। সেই অবস্থানের পর এবার সাবেক কোচ গার্দিওলার কাছ থেকেও প্রকাশ্যে সমর্থন পেল সিটি।
২০১৬ সালে ম্যানচেস্টার সিটির দায়িত্ব নিয়েছিলেন গার্দিওলা। তার অধীনে ছয়টি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জেতে ক্লাবটি, যার মধ্যে আছে টানা চারটি লিগ শিরোপা। এ ছাড়া তিনটি এফএ কাপ, পাঁচটি লিগ কাপ এবং ক্লাবের ইতিহাসের প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগও আসে তাঁর সময়ে।
তবে এখন সিটির লড়াই মাঠে নয়, আইনি প্রক্রিয়ায়। আপিলের পাশাপাশি পরবর্তী ধাপে কী শাস্তি আসে, তার ওপরই নির্ভর করবে ক্লাবটির সামনে পরিস্থিতি কতটা কঠিন হয়ে ওঠে।
