সিটির শিরোপা নিয়ে উৎসবের পুরোনো সুর বদলালেন ক্লপ

ম্যানচেস্টার সিটির শিরোপা কেড়ে নেওয়া হলে লিভারপুলকে দেওয়া ট্রফি নিয়ে উৎসবে যোগ দেবেন একসময় এমনটাই বলেছিলেন ইয়ুর্গেন ক্লপ। কিন্তু সিটির বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের রায় আসার পর সেই পুরোনো সুর আর নেই সাবেক লিভারপুল কোচের কণ্ঠে। এখন তিনি বলছেন, এমন কোনো শিরোপার অপেক্ষায় নেই তিনি।
স্বাধীন কমিশন ম্যানচেস্টার সিটিকে গুরুতর আর্থিক বিধিভঙ্গের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করার পর আবারও সামনে এসেছে তাদের অতীতের শিরোপাগুলোর ভবিষ্যৎ। তবে এখনো কোনো শাস্তি ঘোষণা হয়নি এবং সিটি রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে।
জার্মানি জাতীয় দলের কোচ ক্লপকে বুধবার সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। সিটির সঙ্গে তার লিভারপুলের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা মনে করিয়ে দিলে তিনি বলেন, ‘আমি বিষয়টি নিয়ে খুব বেশি ভাবিনি, যদিও অবশ্যই দেখেছি।’
এরপর নিজের পুরোনো মন্তব্যও টেনে আনেন ক্লপ। ‘আগে আমি কী বলেছিলাম সেটাও জানি কখনো যদি কোনো প্যারেড হয়, আমি সেখানে থাকব এবং এমন আরও অনেক কিছু। কিন্তু এখন আর বিষয়টা সেভাবে অনুভব করছি না।’
২০২৪ সালে লিভারপুল ছাড়ার সময় এক অনুষ্ঠানে ক্লপ মজা করে বলেছিলেন, সিটির শিরোপা কেড়ে নিয়ে লিভারপুলকে দেওয়া হলে ওপেন-টপ বাস প্যারেডে তিনি যোগ দেবেন। পরে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতেও একই প্রসঙ্গে বলেছিলেন, এমন কিছু হলে মায়োর্কায় নিজের বাড়িতে সবাইকে ডেকে বিয়ার খাওয়াবেন।
কিন্তু বর্তমান অবস্থান অনেক বেশি সংযত। পেপ গার্দিওলা ও তার অধীনে সিটির ফুটবলের প্রতি শ্রদ্ধার কথাই সামনে এনেছেন ক্লপ।
তিনি বলেন, ‘পেপ গার্দিওলার প্রতি আমার শ্রদ্ধা এবং আমরা একে অপরের বিপক্ষে খেলার সময় সিটি যে ফুটবল খেলেছে তারা যেভাবে ফুটবলকে জীবন্ত করে তুলেছিল এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ে আমাদের যে প্রতিপক্ষ ছিল এসবের প্রতি আমার শ্রদ্ধা এতটাই বেশি যে এখন এ নিয়ে কিছু বলতে চাই না।’
সিটির বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত কোনো শাস্তি এলে সেটির সঙ্গেও নিজের কোনো সম্পর্ক দেখছেন না ক্লপ। তিনি জানিয়েছেন, পুরো আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন।
সাবেক লিভারপুল কোচের ভাষায়, তিনি এমন কোনো পরিস্থিতির জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছেন না যেখানে পরে আরও লিগ শিরোপার মালিক হবেন। লিভারপুলে যা অর্জন করেছেন, তাতেই সন্তুষ্ট তিনি।
ক্লপের অধীনে লিভারপুল দুবার মাত্র এক পয়েন্টে সিটির পেছনে থেকে প্রিমিয়ার লিগ রানার্সআপ হয়েছিল ২০১৮-১৯ এবং ২০২১-২২ মৌসুমে। তবে বর্তমান মামলায় প্রমাণিত গুরুতর আর্থিক অনিয়মের মূল সময়কাল ২০০৯-১০ থেকে ২০১৭-১৮ পর্যন্ত।
