বিশ্বকাপ থেকে ফিরেই সুখবর, লাখ টাকা করে পেলেন কিশোর ফুটবলাররা

আজারবাইজানে ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যালের ই-টায়ারে রানার্সআপ হয়ে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ দল। দেশে ফেরার পরই সুখবর পেলেন কিশোর ফুটবলাররা। দলের প্রত্যেক খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের সদস্যকে এক লাখ টাকা করে আর্থিক পুরস্কার দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। পাশাপাশি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দলের জন্য আরও তিন লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মতিঝিলে বাফুফে ভবনে কিশোর ফুটবলারদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। এ সময় ফুটবলার ও কোচিং স্টাফের সদস্যদের হাতে এক লাখ টাকা করে পুরস্কারের চেক তুলে দেন তিনি। তরুণ ফুটবলারদের এই অর্জনের প্রশংসা করার পাশাপাশি ভবিষ্যতেও তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন সাবেক এই জাতীয় দলের অধিনায়ক।
শুধু আর্থিক পুরস্কার দিয়েই দায়িত্ব শেষ করতে চান না আমিনুল। বয়সভিত্তিক পর্যায়ে ভালো করা ফুটবলাররা যাতে ভবিষ্যতে হারিয়ে না যান, সে বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরিচর্যার মাধ্যমে জাতীয় দলের জন্য প্রস্তুত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।
আমিনুল বলেন, ‘এ খেলোয়াড়রা যেন হারিয়ে না যায়, সেই দায়িত্ব আমাদের নিতে হবে।’ তরুণ ফুটবলারদের উন্নতির বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও পর্যবেক্ষণ করছেন বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে সরকারের নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরের কথাও তুলে ধরে ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কিশোর ফুটবলারদের জন্য আরও একটি পুরস্কারের ঘোষণা আসে। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দলের জন্য অতিরিক্ত তিন লাখ টাকা দেওয়ার ঘোষণা দেন। এতে সরকারি পর্যায়ের স্বীকৃতির পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকেও আর্থিক পুরস্কার পাচ্ছেন ফুটবলাররা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালও। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় তরুণ ফুটবলারদের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে তিনি তাদের অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে দলের পাশে থাকার জন্য ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান বাফুফে সভাপতি।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে আজারবাইজান থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৫ দল। সেখানে ফুল দিয়ে কিশোর ফুটবলারদের বরণ করে নেওয়া হয়। প্রথমবারের মতো আয়োজিত ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যালে অংশ নিয়ে ই-টায়ারের ফাইনালে পৌঁছেছিল আকবর হোসেন রিদনের শিষ্যরা।
আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় মোট ১৮৯টি দেশ অংশ নেয়। শুরুতে ৩২টি গ্রুপে ভাগ হয়ে লড়াই করে দলগুলো। বাংলাদেশ ছিল 'জি' গ্রুপে। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল ওয়েলস, পর্তুগাল, ইন্দোনেশিয়া, বুরুন্ডি ও ফিজি।
পাঁচ ম্যাচে একটি জয়, দুটি ড্র ও দুটি হারে গ্রুপের পঞ্চম স্থানে থেকে পরবর্তী পর্বে জায়গা করে নেয় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ওয়েলসের সঙ্গে গোলশূন্য ড্রয়ে শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের অভিযান। এরপর পর্তুগাল ও বুরুন্ডির কাছে হারে তারা। ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ড্র করার পর শেষ ম্যাচে ফিজিকে ৩-১ গোলে হারিয়ে প্রথম জয়ের দেখা পায় কিশোররা।
গ্রুপ পর্বের ফলাফলের ভিত্তিতে দলগুলোকে ছয়টি স্তরে ভাগ করা হয়। বাংলাদেশ জায়গা পায় পঞ্চম স্তর ই-টায়ারে। সেখানে একের পর এক বাধা পেরিয়ে ফাইনালে ওঠেন অধিনায়ক ফাহিম হাসানের সতীর্থরা। শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে সিশেলসকে টাইব্রেকারে হারানোর পর শেষ ষোলোতেও একইভাবে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে জয় পায় বাংলাদেশ।
এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে মন্টেনিগ্রোকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেয় কিশোররা। সেই ম্যাচে জোড়া গোল করেন পাভেল হাসান। অন্য দুটি গোল করেন মোহাম্মদ বায়েজিদ ও শিবাক কুমার মালি। সেমিফাইনালে আফ্রিকার দেশ গ্যাবনকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচের টিকিট নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। জয়সূচক গোলটি করেছিলেন নাঈমুর রহমান রাতুল।
তবে শেষ পর্যন্ত শিরোপা জেতা হয়নি বাংলাদেশের। গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ই-টায়ারের ফাইনালে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের কাছে ৪-১ গোলে হেরে যায় তারা। প্রথমার্ধে দুই গোল হজমের পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে সাজিদুল ইসলাম তাকিবের ফ্রি-কিকে ব্যবধান কমায় কিশোররা। কিন্তু প্রতিপক্ষের আরও দুই গোলে শেষ পর্যন্ত বড় হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় তাদের।


