এমবাপ্পে-বেলিংহামের গোলে রিয়ালের টানা ষষ্ঠ জয়

এল ক্লাসিকোয় বার্সেলোনাকে হারানোর পর জয়ের ধারা ধরে রাখল রিয়াল মাদ্রিদ। এবার রেসিং সান্তান্দারের মাঠ থেকে দাপুটে জয় নিয়ে ফিরেছে হোসে মরিনহোর দল। কিলিয়ান এমবাপ্পে, জুড বেলিংহাম ও ইয়ান দিয়োমান্দের গোলে স্বাগতিকদের ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। প্রথমার্ধেই তিন গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়া রিয়াল বিরতির পর আর গোল না পেলেও জয় নিয়ে কোনো সংশয়ে পড়েনি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ষষ্ঠ জয়ে লা লিগার শিরোপার লড়াইয়ে বার্সেলোনার সঙ্গে তিন পয়েন্টের ব্যবধান ধরে রেখেছে মাদ্রিদের ক্লাবটি।
রোববার (১ নভেম্বর) স্পেনের এল সার্দিনেরো স্টেডিয়ামে লা লিগার একাদশ রাউন্ডের ম্যাচে মুখোমুখি হয় দুই দল। শুরু থেকেই বল দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল রিয়াল। ম্যাচের ১১তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে দলকে এগিয়ে দেন এমবাপ্পে। দশ মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বেলিংহাম। আর ৩৬তম মিনিটে দুর্দান্ত এক গোলে দলের জয় প্রায় নিশ্চিত করেন দিয়োমান্দে।
আগের ম্যাচে বার্সেলোনাকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। সেই জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়েই সান্তান্দারে খেলতে নামে তারা। তবে নিষেধাজ্ঞার কারণে এই ম্যাচেও ছিলেন না ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের অনুপস্থিতিতে বাঁ প্রান্তে জায়গা ধরে রাখেন দিয়োমান্দে। অন্যদিকে অসুস্থতা কাটিয়ে গোলপোস্টের নিচে ফেরেন থিবো কোর্তোয়া।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে রিয়াল। সপ্তম মিনিটে ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ডের পাস থেকে ভালো সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি আরদা গুলের। কিছুক্ষণ পর গুলেরের ক্রসে কাছ থেকে হেড নেন বেলিংহাম। তবে দুর্দান্ত সেভে দলকে রক্ষা করেন রেসিংয়ের গোলরক্ষক হুলেন আগিরেসাবালা।
দশম মিনিটে পেনাল্টি পায় রিয়াল। বক্সের ভেতর এমবাপ্পেকে ফাউল করেন রেসিংয়ের মাত্তেও প্রাতি। সঙ্গে সঙ্গে স্পটকিকের নির্দেশ দেন রেফারি। সিদ্ধান্তটি নিয়ে আপত্তি জানান স্বাগতিক ফুটবলাররা। তবে রায় বদলায়নি।
পেনাল্টি থেকে গোল করতে কোনো ভুল করেননি এমবাপ্পে। নিচু শটে বল জালের বাঁ কোণে পাঠান ফরাসি তারকা। গোলরক্ষক সঠিক দিকে ঝাঁপ দিলেও বলের নাগাল পাননি। ১১তম মিনিটেই এগিয়ে যায় সফরকারীরা।
গোল হজমের পরপরই সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল রেসিং। রিয়ালের ভুল পাস থেকে বল পেয়ে বক্সে ঢুকে শট নেন ইকের লুকে। তবে পা বাড়িয়ে দুর্দান্ত সেভ করেন কোর্তোয়া। বেলজিয়ান গোলরক্ষকের নৈপুণ্যে ব্যবধান ধরে রাখে রিয়াল।
এরপর ২১তম মিনিটে দারুণ এক আক্রমণ থেকে দ্বিতীয় গোল পায় মরিনিওর দল। মাঝমাঠে বল নিয়ন্ত্রণে এনে গুলেরকে পাস দেন এমবাপ্পে। তুর্কি মিডফিল্ডার দ্রুত বল বাড়িয়ে দেন সামনে এগিয়ে যাওয়া বেলিংহামকে। গোলরক্ষককে কাটিয়ে ফাকা পোস্টে বল জালে পাঠান ইংলিশ তারকা।
দুই গোলে এগিয়ে যাওয়ার পরও আক্রমণের ধার কমায়নি রিয়াল। ৩৬তম মিনিটে আসে ম্যাচের সবচেয়ে আকর্ষণীয় গোলটি।
ডান প্রান্ত থেকে গুলেরের নেওয়া কর্নার বিপদমুক্ত করার চেষ্টা করে রেসিংয়ের রক্ষণভাগ। কিন্তু বল গিয়ে পড়ে বক্সের বাইরে অপেক্ষায় থাকা দিয়োমান্দের সামনে। সেখান থেকে প্রথম স্পর্শেই ডান পায়ের জোরালো শটে বল জালের ওপরের কোণে পাঠান আইভরিকোস্টের এই ফরোয়ার্ড। দুর্দান্ত সেই গোলে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় রিয়াল।
দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে রেসিং। ৫৩তম মিনিটে ভালো সুযোগ পেয়েও গোল করতে পারেননি ইয়াসির জাবিরি। অন্যদিকে রিয়ালও বেশ কয়েকটি আক্রমণ তৈরি করে। ৬০তম মিনিটে বেলিংহামের পাস থেকে এমবাপ্পের শট পোস্টে লাগে। কিছুক্ষণ পর গুলেরের ক্রসে বেলিংহামের আরেকটি প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন রেসিং গোলরক্ষক।
ম্যাচের ৭২তম মিনিটে নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়। রিয়ালের বক্সে অরেলিয়েঁ চুয়ামেনির হাতে বল লেগেছে মনে করে রেসিংকে পেনাল্টি দেন রেফারি। তবে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) পরামর্শে মাঠের পাশের মনিটরে ঘটনাটি পরীক্ষা করেন তিনি। বলটি আগে চুয়ামেনির পায়ে লেগে তার হাতে লাগায় সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে পেনাল্টি বাতিল করা হয়।
শেষদিকে ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিলেন এমবাপ্পে। ৮৬তম মিনিটে তার একটি শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। বেলিংহামও দ্বিতীয়বার বল জালে পাঠিয়েছিলেন, তবে অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়।
বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় ৩-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রিয়াল। এই জয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ছয় ম্যাচ জিতল মরিনহোর শিষ্যরা।
১১ ম্যাচে ৯ জয় ও দুই হারে রিয়ালের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ২৭ পয়েন্ট। সমান ম্যাচে ৩০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে বার্সেলোনা। ২৮ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আতলেটিকো মাদ্রিদ। ফলে বার্সেলোনার চেয়ে তিন পয়েন্ট পিছিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে রিয়াল।

-8abf8a.webp)
-7f36d9.webp)
