Advertisement

গাজায় হামাসের নিরস্ত্রীকরণে ধাপে ধাপে চুক্তি হয়েছে: ট্রাম্প

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
গাজায় হামাসের নিরস্ত্রীকরণে ধাপে ধাপে চুক্তি হয়েছে: ট্রাম্প
গাজার আল-মুত্তাকিন মসজিদে গত মঙ্গলবার হামলা চালায় ইসরায়েল। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তার গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ গাজায় হামাসসহ সব সশস্ত্র ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীকে নিরস্ত্র করার বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে গাজায় একটি নতুন ফিলিস্তিনি সরকার দায়িত্ব নেবে, যা বোর্ড অব পিসের সঙ্গে সমন্বয় করে ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য কাজ করবে। একই সঙ্গে গাজাকে আর ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হবে না বলে তিনি দাবি করেন।

তবে ট্রাম্পের এই ঘোষণার বিষয়ে হামাস এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। যদিও আল জাজিরা জানিয়েছে, হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর মধ্যে হওয়া খসড়া চুক্তির একটি অনুলিপি তাদের হাতে এসেছে।

ট্রাম্প জানান, গত অক্টোবরে তার মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবেই ধাপে ধাপে নিরস্ত্রীকরণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তার ভাষ্য, নিরস্ত্রীকরণ সম্পন্ন হওয়ার পর ইসরায়েল গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে। এরপর একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী এবং নতুন ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনী গাজার নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে।

তিনি আরও বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে গাজা এমন একটি নতুন ফিলিস্তিনি সরকারের হাতে যাবে, যারা সত্যিকার অর্থেই জনগণের স্বার্থে কাজ করবে।

এদিকে হামাসের নেতারা গত সপ্তাহের শেষ দিক থেকে মিসরের রাজধানী কায়রোতে অবস্থান করছেন। সেখানে মিসর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চলছে। হামাসের এক কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার জানান, আলোচনা ইতিবাচক এবং অগ্রগতি হচ্ছে।

গত ৬ জুলাই হামাস গাজা শাসনে নিয়োজিত তাদের প্রশাসনিক কাঠামো বিলুপ্ত করার ঘোষণা দেয়।

আলজাজিরার ওয়াশিংটন প্রতিনিধি অ্যালান ফিশারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী গাজার বিভিন্ন এলাকায় ধাপে ধাপে হামাস ও অন্যান্য গোষ্ঠীর অস্ত্র জমা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে নতুন ফিলিস্তিনি পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়া হবে, যারা একটি আন্তর্জাতিক সমন্বয় বাহিনীর সঙ্গে কাজ করবে। যদিও ওই বাহিনীতে কোন কোন দেশ থাকবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে ইন্দোনেশিয়া ও তুরস্কের অংশগ্রহণের সম্ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছে।

আলজাজিরার হাতে আসা খসড়া অনুযায়ী, অস্ত্রের তালিকা প্রস্তুত ও যাচাইয়ের সময়সূচি ১৪ দিনের মধ্যে নির্ধারণ করতে হবে। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক যাচাই কমিশনের সম্মতিতে এ সময় বাড়ানো যাবে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চুক্তিতে সম্মতি দিতে হামাসের ওপর উল্লেখযোগ্য আন্তর্জাতিক চাপ ছিল। চুক্তি প্রত্যাখ্যান করলে সংগঠনটির জন্য আর্থিক পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠবে—এমন বার্তাও দেওয়া হয়েছিল।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা জানান, বোর্ড অব পিসে তুরস্ক ও কাতারকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ইসরায়েলের আপত্তি ছিল। তবে বর্তমান চুক্তি সেই সিদ্ধান্তের যথার্থতা প্রমাণ করেছে বলে তিনি দাবি করেন।

তার ভাষ্য, এই উদ্যোগের মাধ্যমে হামাস ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) বাইরে একটি অরাজনৈতিক, প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসন গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা জনগণের কল্যাণে কাজ করবে।