রাশিয়ার সামরিক কারখানায় অত্যাধুনিক ফ্লেমিঙ্গো ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
রাশিয়ার সামরিক কারখানায় অত্যাধুনিক ফ্লেমিঙ্গো ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা
রাশিয়ার ফেডারেল রিসার্চ অ্যান্ড প্রোডাকশন সেন্টার টাইটান-ব্যারিকাদির সামরিক কারখানা। ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি দূরপাল্লার অত্যাধুনিক ফ্লেমিঙ্গো এফপি-৫ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রাশিয়ার ভলগোগ্রাদ শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক-শিল্প স্থাপনায় সফল হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। এমনটাই দাবি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

Advertisement

শনিবার (২৭ জুন) ভোররাতে চালানো হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল রাশিয়ার অন্যতম প্রধান প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘ফেডারেল রিসার্চ অ্যান্ড প্রোডাকশন সেন্টার টাইটান-ব্যারিকাদি’। এই কারখানাটিতে ইয়ার্স ও টোপোল-এম কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার পাশাপাশি ইস্কান্দার-এম ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার উৎক্ষেপক (লঞ্চার) তৈরি করা হয়।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, ‘হামলার পর কারখানা চত্বরে আগুন লেগে যায়। এটি একটি বিশাল শিল্প কমপ্লেক্স, যেখানে রাশিয়া ভারী কামান ব্যবস্থা ও বিশেষায়িত সামরিক সরঞ্জাম তৈরি করে। ইউক্রেনের জনগণের ওপর হামলায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার যন্ত্রাংশও এখানে তৈরি হতো।’

টাইটান-ব্যারিকাদি রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মহাকাশ করপোরেশন ‘রসকসমস’-এর একটি অংশ। ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ছাড়াও এই প্রতিষ্ঠানটি নৌ-কামানের মাউন্ট এবং উপকূলীয় জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা উৎপাদন করে। ইউক্রেনে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করার পর থেকেই স্থাপনাটি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে।

এদিকে ভোলগোগ্রাদ ওব্লাস্টের গভর্নর আন্দ্রেই বোচারভ নিশ্চিত করেছেন যে, ইউক্রেনীয় ‘দ্রুতগতির আকাশযান’ শুক্রবার (২৬ জুন) দিবাগত রাতভর শহরটিতে হামলা চালিয়েছে। এতে ক্রাসনোকতিয়াব্রস্কি জেলায় অবস্থিত ভোলগোগ্রাদের একটি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বোচারভ সরাসরি প্রতিষ্ঠানটির নাম উল্লেখ না করলেও টাইটান-ব্যারিকাদি ওই জেলাতেই অবস্থিত। তিনি জানান, হামলায় ১০ জন আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে আগুন দ্রুত নিভিয়ে ফেলা হয়েছে এবং কোনো আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।

অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা দেশের ১০টি অঞ্চল এবং অধিকৃত ক্রিমিয়ার ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া ১৭৫টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তবে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়ে মস্কো কোনো মন্তব্য করেনি।

মস্কোর অস্ত্র উৎপাদন ক্ষমতা দুর্বল করার লক্ষ্যে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা-শিল্পের ওপর ইউক্রেন সম্প্রতি আক্রমণ জোরদার করেছে, এই হামলা তারই অংশ। জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনের দূরপাল্লার আঘাতের পরিধি ক্রমাগত প্রসারিত হচ্ছে। দিনের পর দিন আমাদের এই চাপই শেষ পর্যন্ত একটি মর্যাদাপূর্ণ শান্তির ভিত্তি স্থাপন করবে।

সূত্র: কিয়েভ ইন্ডিপেন্ডেন্ট