Advertisement

ইন্দোনেশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের পদত্যাগ

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
ইন্দোনেশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের পদত্যাগ
পদত্যাগ করেছেন ইন্দোনেশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পেরি ওয়ারজিয়ো। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে মুদ্রার দরপতন ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করেছেন ইন্দোনেশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পেরি ওয়ারজিয়ো।

সোমবার দেশটির সরকার এ তথ্য জানিয়েছে। খবর এএফপির।

জাকার্তায় সাংবাদিকদের দেশটির রাষ্ট্রীয় সচিব প্রসেতিও হাদি জানান, ২০১৮ সাল থেকে ইন্দোনেশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ব্যাংক ইন্দোনেশিয়া’র গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন পেরি ওয়ারজিয়ো। তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো।

গত ২৫ জুলাই দেওয়া পদত্যাগপত্রে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়েছেন পেরি। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদের দায়িত্ব ২০২৮ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল।

প্রসেতিও হাদি বলেন, প্রায় সাত বছর ব্যাংক ইন্দোনেশিয়ার নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট পেরি ওয়ারজিয়োকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁর নিষ্ঠা ও অবদানের প্রশংসা করেছেন প্রেসিডেন্ট।

পেরির পদত্যাগের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ উপগভর্নর ডেস্ট্রি দামায়ান্তিকে ভারপ্রাপ্ত গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ইন্দোনেশিয়ার মুদ্রা রুপিয়াহ তীব্র চাপের মুখে পড়েছে। ব্লুমবার্গ নিউজের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় ৭ শতাংশ মূল্য হারিয়েছে রুপিয়াহ। এতে এটি এশিয়ার সবচেয়ে দুর্বল পারফরম্যান্স করা মুদ্রায় পরিণত হয়েছে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে চলতি বছর ব্যাংক ইন্দোনেশিয়া নীতিগত সুদের হার মোট ১০০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশে উন্নীত করেছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ ইন্দোনেশিয়া জ্বালানি তেল আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ায় দেশটির সরকারের ওপর ভর্তুকি ব্যয়ের চাপও বেড়েছে। তবে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কমাতে ভর্তুকিযুক্ত জ্বালানির দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ায় জুন মাসে ভোক্তা মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩ দশমিক ৩৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে অর্থনৈতিক চাপ বাড়তে থাকায় সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় কমানোর দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে নামে।

বিশেষ করে কয়েক বিলিয়ন ডলারের বিনামূল্যে খাবার কর্মসূচির ব্যয় কমানোর দাবি জানায় তারা। পরে সরকার ওই কর্মসূচির পরিধি সীমিত করে।

এ ছাড়া ভর্তুকিবিহীন জ্বালানির দাম এক-তৃতীয়াংশ বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্তেরও তীব্র সমালোচনা করেন বিক্ষোভকারীরা।

অর্থনৈতিক চাপের প্রভাব পড়েছে দেশটির শেয়ারবাজারেও। চলতি বছর ইন্দোনেশিয়ার শেয়ারবাজারের মোট মূল্য প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমে গেছে।