জন্মহার বাড়াতে বিয়ে ও সন্তান নিতে প্রণোদনা

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী এশিয়ার দেশ সিঙ্গাপুরে বিয়ে ও জন্মহার আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। এ নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন দ্বীপ রাষ্ট্রটির সরকার বিয়ে ও জন্মহার বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি এক মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
সিঙ্গাপুরে জন্মহার কমে বর্তমানে এক শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। ২০২৫ সালে সন্তান জন্ম দেওয়ার হার মাত্র শূন্য দশমিক ৮৭ শতাংশ। ২০২৪ সালে যা ছিলে শূন্য দশমিক ৯৭ শতাংশ। এমন পরিস্থিতি ভবিষ্যত সিঙ্গাপুরের জন্য ভয়ানক পরিণতি ডেকে আনবে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির মন্ত্রী ইন্দ্রানি রাজাহ।
এমন বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মন্ত্রী ইন্দ্রানি রাজাহ’র নেতৃত্বে ‘দ্য ম্যারিজ অ্যান্ড প্যারেন্টহুড রিসেট ওয়ার্কগ্রুপ’ নামে ৯ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই গ্রুপ বা কমিটি একটি পরিবারের সংসারের ব্যয় নির্বাহের বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখবে। পরিবারের আর্থিক খরচ, কর্মজীবীদের সহায়তা, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, প্রি-স্কুল এবং শিক্ষাসংক্রান্ত বিষয়গুলোর নানা দিক খতিয়ে দেখবে তারা।
২০২৭ সালের প্রথম নাগাদ তাদের পূর্ণ প্রতিবেদন তৈরি করবে এই কমিটি।
এ নিয়ে বুধবার (২৯ এপ্রিল) গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে ইন্দ্রানি রাজাহ বলেন, প্রণোদনা সহায়তা বৃদ্ধি, বেবি বোনাস প্রদান, এবং শিশুর উন্নয়নে সহায়তা প্রদানের বিষয়ে তারা এরই মধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জাতীয় পর্যায়ে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি চাকুরিদাতা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় সংস্থা এবং বৃহত্তর কমিউনিটির সমন্বয়ে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান ইন্দ্রানি রাজাহ।
বিয়েবহির্ভূত অবাধ শারিরিক সম্পর্কের সুযোগ থাকায় বিয়ে ও সন্তান গ্রহণে চরম অনীহা দেখা দিয়েছে দেশটির নাগরিকদের মধ্যে। সেইসঙ্গে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে গিয়ে চাকরি কিংবা উন্নত ক্যারিয়ার গড়ার চাপে পড়েও বিয়ে করতে চান না অধিকাংশ মানুষ।
কিংবা বিয়ে করলেও লালন-পালনের ঝামেলা এড়াতে সন্তান নেওয়া থেকে বিরত থাকেন তারা। বছরের পর বছর ধরে চলে এমন প্রবণতার কারণে দেশটিতে জন্মহার এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে চলে এসেছে।
সূত্র: সিএনএ




