কলকাতায় নির্মাণাধীন ভবন ধসে আটকা অর্ধশত, বহু হতাহতের শঙ্কা

কলকাতার তারাতলা ব্রেসব্রিজের কাছে নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ ধসে পড়ে আটকা পড়েছেন অন্তত ৫০ থেকে ৬০ জন শ্রমিক। তিন তলা ভবনের এক তলার ছাদ ঢালাইয়ের সময় পুরো টিনের শেড হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়েছে। এতে বহু হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এখন পর্যন্ত দুইজন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ১৩ জনকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিন তলা ভবনটি মূলত একটি চায়ের গুদাম হিসেবে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হচ্ছিল। ভবনের ওপরের দুই তলার ঢালাই আগেই শেষ হয়েছিল। আজ বুধবার এক তলার ছাদ ঢালাইয়ের কাজ চলছিল।
এর আগেও নির্মাণকাজের সময় ভবনটির একটি অংশ একবার ভেঙে পড়েছিল। এরপর সেটি কোনোমতে মেরামত করে শেডের নিচে ভেতরে ঢুকেই আবারও পুরো ‘সেটআপ’ দাঁড় করানোর চেষ্টা করছিলেন শ্রমিকরা। তখনই এই দুর্ঘটনা ঘটে।
এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ভেতরে অনেকেই আটকে থাকতে পারেন। কারণ দুর্ঘটনার সময় সবাই ভেতরেই কাজ করছিলেন। সেখানে একটি ছোট অফিস করে কাজ পরিচালনা করা হচ্ছিল। শ্রমিকদের পাশাপাশি আরও অনেকেই সেখানে বসা ছিলেন।
এদিকে দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা (ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট) টিম। গ্যাস কাটার দিয়ে বড় বড় লোহার বিম কেটে আহতদের উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। উদ্ধারকাজে গতি আনতে বড় ক্রেন ও জেসিবি (বুলডোজার) মেশিন নিয়ে আসা হয়েছে।
আহতদের উদ্ধারের পর দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানোর জন্য একের পর এক অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে আসছে। গুরুতর আহতদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য ‘গ্রিন করিডর’ (জরুরি যাতায়াত ব্যবস্থা) করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তবে দুর্ঘটনাকবলিত এলাকাটি বেশ ঘিঞ্জি ও সংকীর্ণ হওয়ায় উদ্ধারকাজ চালাতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে।
স্থানীয় বিজেপি নেতা রাকেশ সিং দাবি করেছেন, ধ্বংসস্তূপ থেকে এখন পর্যন্ত একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বেসরকারি হিসাবে নিহতের সংখ্যা দুইজনে দাঁড়িয়েছে।






