Advertisement

মোহাম্মদপুরে সাড়ে ৬ হাজার মানুষের বিপরীতে একজন পুলিশ

এশিয়া পোস্ট স্পেশাল
মোহাম্মদপুরে সাড়ে ৬ হাজার মানুষের বিপরীতে একজন পুলিশ
ছবি : এআই

রাজধানীতে অপরাধের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে মোহাম্মদপুর। অনেক জেলা শহরের চেয়েও এটি বেশি জনবহুল। সরকারি হিসাবে এখানকার বাসিন্দা ৭ লাখ হলেও বাস্তবে অনথিভুক্ত জনগোষ্ঠী মিলিয়ে এই সংখ্যা প্রায় ২০ লাখ। এই বিপুল জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তায় থানায় পুলিশ সদস্য আছেন মাত্র ৩১০ জন। এই হিসাবে প্রতি ৬ হাজার ৪৫২ জনের বিপরীতে রয়েছেন মাত্র একজন পুলিশ সদস্য।

জাতিসংঘের মানদণ্ড অনুযায়ী, প্রতি এক লাখ মানুষের জন্য অন্তত ২২২ জন পুলিশ সদস্য থাকা প্রয়োজন। মোহাম্মদপুরে এই সংখ্যা মাত্র ১৬ জনের মতো। দক্ষিণ এশিয়া ও প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় এই ব্যবধান অনেক বেশি।

৩১০ জন পুলিশ সদস্যের সবাই সব সময় দায়িত্বে থাকেন না। প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ সদস্য ছুটি, আদালতে সাক্ষ্য কিংবা অন্য কারণে অনুপস্থিত থাকেন। এই হিসাব ধরলে বাস্তবে সক্রিয় জনবল আরও কমে যায়।

পুলিশের অভ্যন্তরীণ নথি ও ডিউটি রোস্টার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৩১০ জনের মধ্যে থানায় দায়িত্বে থাকেন ১৬০ জন। দুটি ফাঁড়িতে থাকেন ৫৫ জন। অস্থায়ী বিশেষ ক্যাম্পে থাকেন আরও ৯৫ জন।

থানায় উপপরিদর্শক (এসআই) আছেন ৪২ জন। কিন্তু তদন্ত ও প্রশাসনিক কাজের চাপে মাঠে টহল বা অপরাধ প্রতিরোধে পাওয়া যায় হাতেগোনা কয়েকজনকে।

বাকি সদস্যদের বড় অংশ প্রতিদিন ব্যস্ত থাকেন ৯৯৯-এর জরুরি কল সামলাতে, আদালতে আসামি হাজির করতে ও সাক্ষ্য দিতে, ভিকটিম সাপোর্ট ও হাসপাতাল ডিউটি এবং প্রশাসনিক কাজে। ফলে অপরাধ ঘটলে দ্রুত সাড়া দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

বিভিন্ন সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পুলিশ কর্মকর্তারাও বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তারা বলেছেন, এই এলাকায় ২০ লাখ মানুষের বসবাস। ফলে এত কমসংখ্যক পুলিশ দিয়ে এই বিশাল এলাকা নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য।

অর্ধশতাধিক হটস্পট, টহল টিম মাত্র ১১টি

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে উঠে এসেছে, মোহাম্মদপুরে অপরাধপ্রবণ ‘হটস্পট’ রয়েছে অর্ধশতাধিক। স্থানীয় বাসিন্দা, সরকারি কর্মকর্তা, দুদকের এক মহাপরিচালক এবং পুলিশ সদস্যরাও একাধিকবার এখানে সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হয়েছেন।

জরুরি প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ২০ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে এই থানায় দরকার অন্তত ৫০টি সচল টহল টিম। সেখানে বাস্তবে আছে মাত্র ১১টি টহল টিম।

মোহাম্মদপুরের ভৌগোলিক অবস্থান অপরাধীদের বাড়তি সুবিধা দেয়। একদিকে ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা, অন্যদিকে বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদের বিস্তৃত বেড়িবাঁধ। অপরাধ করার পর ছিনতাইকারী বা ডাকাত দল সহজেই বছিলা বেড়িবাঁধ দিয়ে সাভার, হেমায়েতপুর বা গাবতলীর দিকে পালিয়ে যেতে পারে।

এই এলাকায় রয়েছে দেশের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ জেনেভা ক্যাম্প (বিহারি ক্যাম্প)। সেখানে গড়ে উঠেছে মাদকের নেটওয়ার্ক ও কিশোর গ্যাং সিন্ডিকেট। এখান থেকে অস্ত্র ও মাদক সরবরাহের কারণে আশপাশের আবাসিক এলাকাগুলো হুমকির মুখে পড়ছে। জেনেভা ক্যাম্প থেকে মাত্র ৫০০ মিটারেরও কম দূরত্বে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনারের কার্যালয়।

মোহাম্মদপুরকে অপরাধের হটস্পট হিসেবে মানতে নারাজ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন। তিনি এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘আমরা সপ্তাহে সাত দিন ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় থাকি। কোথাও অপরাধের তথ্য পেলে সঙ্গে সঙ্গে রেসপন্স করা হয়। এটি রাজধানীর সবচেয়ে বড় থানা। আপনারা পরিসংখ্যান দেখেন, ডিএমপিতে সবচেয়ে বেশি আসামি ধরে আমার থানা। বেশি মামলা হয় এই থানায়। মোহাম্মদপুরের বেলায় অপরাধের চেয়ে ভাইরাল বেশি হয়। যে কারণে মোহাম্মদপুর সম্পর্কে মানুষের নেতিবাচক ধারণা বেশি। এখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক উন্নত হয়েছে।’

ছিনতাইয়ের ২০ হটস্পট

সাম্প্রতিক ছিনতাইয়ের ঘটনা বিশ্লেষণ, ভিডিও ফুটেজ, গোয়েন্দা তথ্য ও সরেজমিন অনুসন্ধানের ভিত্তিতে মোহাম্মদপুর থানা এলাকার সবচেয়ে বিপজ্জনক ২০টি ছিনতাই ও চুরির হটস্পট চিহ্নিত করা হয়েছে।

বছিলা বেড়িবাঁধ এলাকা: তুরাগ নদের তীর ঘেঁষে এই বেড়িবাঁধ দিয়ে দ্রুত পালানোর সুযোগ থাকায় এই এলাকা অপরাধীদের প্রথম পছন্দ। ফাঁকা ও নির্জন হওয়ায় ভোরবেলায় ও রাতে নিয়মিত অস্ত্র ঠেকিয়ে ছিনতাই হয়।

বছিলা তিন রাস্তার মোড় ও পাসপোর্ট অফিস এলাকা: নদীপাড় ও মূল শহরের সংযোগস্থল এই এলাকা। গভীর রাতে আন্তঃজেলা যাত্রী ও অটোরিকশার যাত্রীদের রামদা-চাপাতি ঠেকিয়ে লুটের একাধিক ঘটনা ঘটেছে। পাশেই বড় কবরস্থান থাকায় অপরাধীরা সেখানে ঢুকে গেলে খুঁজে বের করা কঠিন হয়ে পড়ে।

বছিলা ব্রিজ ও সংযোগ সড়ক: ব্রিজের ওপর ও ঢালে রাতের আঁধারে চলন্ত গাড়ি থামিয়ে বা মোটরসাইকেল আরোহীদের জিম্মি করে ছিনতাই এখানে স্বাভাবিক ঘটনা। সিসি ক্যামেরা না থাকায় অপরাধীদের চিহ্নিত করাও কঠিন।

ঢাকা উদ্যান এলাকা: ভেতরের সরু গলি ও খোলা প্লট অপরাধীদের গোপন আস্তানা। রিকশাযাত্রী ও পথচারীরা এখানে কিশোর গ্যাংয়ের প্রধান লক্ষ্য। এই এলাকায় একাধিকবার ঘণ্টাজুড়ে গণছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটেছে।

চাঁদ উদ্যান হাউজিং: নতুন এই হাউজিং এলাকায় পর্যাপ্ত আলো ও টহল পুলিশের অভাবে অস্ত্রধারী ছিনতাইকারীরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করে। গত বছর যৌথ বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে এখানে দুজন নিহত হন।

নবীনগর হাউজিং: আবাসিক এলাকার গলির মুখে দাঁড়িয়ে থাকা তরুণদের গ্যাং সুযোগ পেলেই পথচারী ও ডেলিভারিম্যানদের ওপর হামলা চালায়।

নবোদয় হাউজিং: রিকশায় যাতায়াতকারী নারী ও কেনাকাটা করে ফেরা গৃহিণীদের ভ্যানিটি ব্যাগ ও গয়না টান মেরে পালিয়ে যাওয়া (টানা পার্টি) এখানকার প্রধান সমস্যা।

চন্দ্রিমা মডেল টাউন: গভীর রাতে বা ভোরে দূরপাল্লার বাস থেকে নামা সাধারণ যাত্রীরা প্রায়ই এখানে টানা পার্টির কবলে পড়েন।

জেনেভা ক্যাম্প এলাকা: ক্যাম্পের বাইরের সড়কে প্রায় ২৪ ঘণ্টা মাদক ক্রেতা ও অপরাধীদের আনাগোনা থাকে। পকেটমার, মোবাইল ছিনতাই ও প্রকাশ্য ভীতি প্রদর্শনের কেন্দ্রবিন্দু এই এলাকা। মোহাম্মদপুরের বেশিরভাগ অপরাধ এই এলাকাকেন্দ্রিক। প্রতিদিন এখানে কয়েক কোটি টাকার মাদক কেনাবেচার অভিযোগ রয়েছে।

টাউন হল মোড় ও কাঁচাবাজার: ব্যস্ততম এলাকা হলেও ভোরে বাজার করতে আসা ছোট ব্যবসায়ী এবং সান্ধ্যকালীন পথচারীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সর্বস্ব ছিনিয়ে নেওয়া হয়। বাজারের উল্টো দিকে আরেকটি বিহারি ক্যাম্প থাকায় অপরাধীরা সহজেই সেখানে পালিয়ে যায়।

নূরজাহান রোড: জনবহুল সড়কের মোড়ে ও ফ্ল্যাটবাড়ির প্রধান ফটকের সামনে চাপাতি ঠেকিয়ে মোবাইল ও মানিব্যাগ ছিনতাইয়ের সিসিটিভি ফুটেজ বারবার গণমাধ্যমে এসেছে। মূলত জেনেভা ক্যাম্পের অপরাধীরাই এই এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে।

তাজমহল রোড: কিশোর গ্যাং ও বাইকভিত্তিক ছিনতাইকারীদের অন্যতম প্রিয় রুট। দ্রুত বাইকে এসে ধারালো অস্ত্রের মুখে সর্বস্ব লুটে সটকে পড়ে তারা।

শেরশাহ সুরি রোড: বিকেলের পর গলির ভেতর ছিনতাই বাড়ে। অন্ধকার গলিগুলোতে অপরাধীদের উপস্থিতি সাধারণ পথচারীর জন্য আতঙ্কের বিষয়।

বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ সংলগ্ন এলাকা: খোলামেলা ও নির্জন হওয়ায় বিকেলে বেড়াতে আসা দর্শনার্থীরা প্রায়ই ছিনতাইকারীদের টার্গেটে পরিণত হন। স্মৃতিসৌধ ঘিরে একাধিক ছিনতাইচক্র ও কিশোর গ্যাং সক্রিয়।

সাদেক খান আড়ত ও বেড়িবাঁধ এলাকা: কাঁচামাল ও ইট-বালু ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি টাকা লেনদেন হয় এখানে। মাঝেমধ্যেই ভোরে নগদ টাকা বহনকারী ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর এখানে কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের গোলাগুলিতে দুজন নিহত হন।

জাপান গার্ডেন সিটি সংলগ্ন গলি: বিশাল আবাসিক কমপ্লেক্সের বাইরের গলিতে দ্রুতগতির মোটরসাইকেলে এসে ব্যাগ বা মোবাইল টান মেরে পালিয়ে যায় টানা পার্টি।

শেখেরটেক প্রধান সড়ক ও গলি: সরু গলিতে পুলিশের টহল গাড়ি ঢোকার সুযোগ না থাকায় কিশোর গ্যাং চাপাতি ও সামুরাই উঁচিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালায়।

গইদারটেক ব্রিজ: নির্জন এই ব্রিজের ওপর ও নিচের ফাঁকা স্থানে রাত বাড়লে অপরাধীদের আনাগোনা বাড়ে। একা যাতায়াতকারীরা এখানে হামলার শিকার হন।

মোহাম্মদপুর বাস স্ট্যান্ড: ভাসমান অপরাধী, পকেটমার ও মলম পার্টির প্রধান আস্তানা। বাসে ওঠানামার সময় জিনিসপত্র চুরি এদের প্রধান কাজ, লেগুনা স্ট্যান্ডের আশপাশে এমন ঘটনা বেশি ঘটে।

সলিমুল্লাহ রোড ও বাঁশবাড়ী এলাকা: ঘনবসতির কারণে জায়গার অভাবে অলিগলিতে ফাঁদ পেতে থাকে স্থানীয় মাদকসেবী ও ছিনতাইকারী চক্র।

এসব হটস্পট ছাড়াও আরও কিছু জায়গায় নিয়মিত অপরাধ ঘটে। এর মধ্যে আছে আসাদগেট, আড়ং এলাকা, রেসিডেনশিয়াল মডেল কলেজ এলাকা, কলেজ গেট, শিশুমেলা, শ্যামলী মোড়, জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট, ধানমন্ডি ২৭-এর দুই প্রান্ত, রায়েরবাজারের আশপাশ, গদিগড় এলাকা, আব্দুল আজিজ খান রোড, মেকাব খান রোড, ক্যান্সার গলি, বুড়িগঙ্গা নদীর পাড়, এনআইওএইচ হাসপাতাল ও সিটি হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকা, শিয়া মসজিদ, কৃষি মার্কেট, বিভিন্ন মাজার এলাকা, আল্লাহ করিম মসজিদ সংলগ্ন সড়ক এবং লালমাটিয়ার কয়েকটি ব্লক।

ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের এডিসি (মোহাম্মদপুর) মো. জুয়েল রানা এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘মোহাম্মদপুর ডিএমপির সবচেয়ে বড় থানা। ধানমন্ডি ২৭ থেকে শ্যামলী, অন্যদিকে আসাদগেট থেকে রায়েরবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত। ওইদিকে বছিলা ব্রিজ পর্যন্ত। এই পুরো এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারির মতো প্রয়োজনীয় জনবল আমাদের নেই।’

তিনি বলেন, ‘অপ্রতুল জনবল মোহাম্মদপুর এলাকার অপরাধ নিয়ন্ত্রণের অন্যতম অন্তরায়। কোনো ছিনতাই বা হামলার খবর থানায় আসার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে অনেক সময় লাগে। কারণ মাত্র ১১টি টহল গাড়ি এত বড় ভৌগোলিক এলাকায় ভাগ করে ডিউটি করে। এই ১১টির কোনোটি বছিলা বেড়িবাঁধে থাকলে, আর শ্যামলীতে অপরাধ ঘটলে যানজট ও দূরত্ব ঠেলে সেখানে পৌঁছাতে সময় লাগে।’

মো. জুয়েল রানা বলেন, ‘অপরাধ প্রতিরোধ বিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী, খবর পাওয়ার সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে পুলিশ পৌঁছাতে না পারলে অপরাধীকে গ্রেপ্তার বা অপরাধ ঠেকানো যায় না। এই কার্যকারিতা পেতে মোহাম্মদপুরে অন্তত ৫০টি সার্বক্ষণিক টহল টিম নামানো জরুরি। তা না হলে অন্তত মোহাম্মদপুরকে পাঁচটি থানায় ভাগ করা উচিত।’

ডিসি অফিসের পাশেই মাদকের হাব

রাজধানীর মাদকের অন্যতম প্রধান হাব মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প। প্রায় ২৪ ঘণ্টা এখানে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হয়। ক্রেতা বেশি হলে ক্যাম্পে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে মাদক কিনতে দেখা যায়। স্কুল ড্রেস পরিয়ে শিশুদের দিয়ে মাদকের হোম ডেলিভারি করানোর মতো অভিযোগও রয়েছে।

প্রকাশ্য সহিংসতা

গত কয়েক বছরে মোহাম্মদপুরের অপরাধের ধরনে বড় পরিবর্তন এসেছে। আগে গোপনে বা রাতে চুরি বা পকেটমারের মতো ঘটনা ঘটত। এখন এটি প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে।

কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে দিনের বেলাতেই পথচারীদের ঘিরে ধরে রামদা, চাপাতি ও সামুরাই তলোয়ার উঁচিয়ে ভয় দেখায়। বাধা দিলে কোপাতেও দ্বিধা করে না তারা।

দ্রুতগতির বাইক ব্যবহার করায় সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়লেও হেলমেট ও মাস্কের আড়ালে অপরাধীরা নিজেদের আড়াল করতে সক্ষম হচ্ছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর ভঙ্গুর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অনেক অপরাধী সক্রিয় হয়ে উঠেছে। জেল থেকে জামিনে বেরিয়ে সক্রিয় হয়েছে একাধিক শীর্ষ সন্ত্রাসী। দখল, ক্ষমতার লড়াই ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঘটছে খুনোখুনির মতো ঘটনা।

জনবল বাড়ানো ও থানা ভাগের আশ্বাস পুলিশের

ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ ইবনে মিজান এশিয়া পোস্টকে বলেন, মোহাম্মদপুর থানায় জনবল সংকট রয়েছে, এটা ঠিক। জনবল বাড়ানো সরকারি সিদ্ধান্তের বিষয়। সম্প্রতি আইজিপি জনবল নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন। নতুন জনবল নিয়োগ হলে মোহাম্মদপুর থানায়ও জনবল বাড়বে। এ ছাড়া এই এলাকায় পুলিশের পাশাপাশি এপিবিএনের ৬৬ সদস্য রয়েছেন।

মোহাম্মদপুরকে একাধিক থানায় বিভক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান মোহাম্মদ ইবনে মিজান। মাদক নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টার যে কোনো সময় আট ঘণ্টা টহল পরিচালনা করা হয়, যাতে ক্যাম্পের ভেতর রাস্তায় মাদক বিক্রি হতে না পারে। বহিরাগতরা এসে যেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ না করতে পারে সে জন্য পুলিশ সবসময় তৎপর।