এবারও হরমুজ পার হতে পারল না ‘বাংলার জয়যাত্রা’

ইরানি নৌবাহিনীর অনুমতি না মেলায় এবারও হরমুজ প্রণালি পার হতে পারেনি বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’। এর আগে গত ১০ এপ্রিল জাহাজটিকে হরমুজ পার হওয়ার অনুমতি দেয়নি ইরান সরকার।
জানা গেছে, সব বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত ঘোষণা করে ইরান। পরে ওইদিন রাতেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের মিনা সাকার বন্দর থেকে নোঙর তুলে হরমুজ প্রণালির দিকে রওনা দেয় বাংলার জয়যাত্রা। গভীর রাতে জাহাজটি হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি পৌঁছলে ইরানের নৌবাহিনী জাহাজটি থামিয়ে দেয়।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কমডোর মাহমুদুল মালেক জানান, ‘ বাংলার জয়যাত্রা’ হরমুজ প্রণালি পার হতে পারেনি। সেটি আগের অবস্থানে ফিরে যাচ্ছে। তবে চূড়ান্ত ক্লিয়ারেন্স পেলে আজ রাতেই জাহাজটি হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করবে।
এর আগে, গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে হরমুজ প্রণালির উদ্দেশে রওনা দেয় ‘বাংলার জয়যাত্রা’। ১০ এপ্রিল হরমুজের কাছাকাছি পৌঁছালেও ইরান সরকার জাহাজটিকে পার হওয়ার অনুমতি দেয়নি। পরে বাধ্য হয়ে আরব আমিরাতের শারজাহ বন্দরে ফিরে যায় জাহাজটি।
গত ২৬ জানুয়ারি ‘বাংলার জয়যাত্রা’ মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশ করে। এরপর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন বন্দরে পণ্য নিয়ে যায়। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি কাতারের মেসাইদ বন্দর থেকে ৩৮ হাজার ৮০০ টন স্টিল কয়েল নিয়ে দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দরের বহির্নোঙরে আসে ‘বাংলার জয়যাত্রা’। পরদিন বন্দরের ১০ নম্বর টার্মিনালে ভেড়ে সেটি।
এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হলে পণ্য খালাস বিলম্বিত হয়। এর কয়েকদিনের মধ্যে জাহাজ থেকে পণ্য খালাস শুরু হয়। পণ্য খালাস শেষে জাহাজটির পুনরায় কাতারে ফেরার কথা থাকলেও যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সেটি বাতিল হয়। এরপর বাংলার জয়যাত্রার মুম্বাই যাওয়ার কথা ছিল। সেখানে যেতে হলে জাহাজটিকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে হত। সেই উদ্দেশ্যে রওনাও দেয় জাহাজটি। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ এ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়েছিল।





