গান গেয়ে ভাইরাল সেই ঢাবি শিক্ষককে অব্যাহতি

এশিয়া পোস্ট নিউজ
গান গেয়ে ভাইরাল সেই ঢাবি শিক্ষককে অব্যাহতি
চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিব। ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গান গেয়ে ভাইরাল হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

Advertisement

সোমবার (২২ জুন) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ফোরাম সিন্ডিকেটের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন রেজিস্ট্রার মুনসী শামসুদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, অধ্যাপক তাশরিক-ই হাবিবের বিরুদ্ধে বাংলা বিভাগ থেকে একটা অভিযোগ করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম বলেন, উনার বিরুদ্ধে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বহির্ভূত কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগ করেছেন। আমরা সেটা প্রশাসনকে জানিয়েছি। তবে ‘অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বহির্ভূত কর্মকাণ্ড’ বলতে কী বোঝানো হচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

গত কয়েক মাস ধরে অধ্যাপক তাশরিক-ই-হাবিব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন জনপ্রিয় গান পরিবেশন করে ব্যাপক আলোচনায় ছিলেন। তিনি শাহ আব্দুল করিম, জেমস ও ফজলুর রহমান বাবুর গান গেয়ে ফেসবুকে আলোচনায় আসেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হিসেবে এ ধরনের কনটেন্ট তৈরি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ নিয়ে শিক্ষার্থীদের একাংশের মধ্যেও তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়।

একই সভায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও শিক্ষার্থীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তিন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত এবং একজন শিক্ষককে সাময়িকভাবে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া শিক্ষকরা হলেন লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীন এবং ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম। এ ছাড়া উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমল হোসেন ভূঁইয়াকে সাময়িকভাবে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি জুলাই অভ্যুত্থানের সময় বিতর্কিত ভূমিকার অভিযোগে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার লাভলু মোল্লা শিশিরকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগ প্যানেল থেকে নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক (জিএস) গোলাম রাব্বানীর পদটি বাতিলেরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিন্ডিকেট। একই সঙ্গে, ওই পদের জন্য সাবেক জিএস পদপ্রার্থী রাশেদ খানকে বিবেচনা করার বিষয়ে মতামত জানতে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনি উপদেষ্টার কাছে পাঠানো হয়েছে।

গত বছরের নভেম্বরে নিয়মবহির্ভূত প্রক্রিয়ার কারণ দেখিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল রাব্বানীর এমফিল প্রোগ্রামের ভর্তি বাতিলের সুপারিশ করেছিল এবং ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে তার জিএস পদে নির্বাচিত হওয়াকে অবৈধ ঘোষণা করেছিল।