চাকরি হারাচ্ছেন হাইপ্রোফাইল ৩৩ পুলিশ কর্মকর্তা, আতঙ্কে ৩৩ ডিসি

২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় দায়িত্ব পালন করা পুলিশ ক্যাডারের অন্তত ৩৩ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। বিসিএস ২০তম ব্যাচের এসব কর্মকর্তা নির্বাচনের সময় বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) ও পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বে ছিলেন। তাদের বেশির ভাগ বর্তমানে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে আছেন।
চাকরির ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ায় সরকারি চাকরি আইনের ৪৫ ধারা অনুযায়ী তাদের অবসরে পাঠানো হতে পারে। একইভাবে ওই সময় দায়িত্ব পালন করা প্রশাসন ক্যাডারের অন্তত ৩৩ জন জেলা প্রশাসককেও (ডিসি) বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।
সরকারি চাকরি আইনের ৪৫ ধারা অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারীর চাকরির মেয়াদ ২৫ বছর পূর্ণ হলে, সরকার জনস্বার্থে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই তাকে অবসরে পাঠাতে পারে। ২০তম ব্যাচের এই কর্মকর্তারা ২০০১ সালের ৩১ মে চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন। সেই হিসেবে গত ৩০ মে তাদের চাকরির মেয়াদ ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে।
গত বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের ২২ জন ডিসিকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার।
এর পরপরই তৎকালীন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ঘোষণা দিয়েছিলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনের ৬৪ জেলার এসপিদেরও অবসরে পাঠানো হবে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রথমে তাদের ওএসডি এবং এখন স্থায়ী অবসরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
চাকরি হারানোর তালিকায় যেসব পুলিশ কর্মকর্তা
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বাধ্যতামূলক অবসরের তালিকায় থাকা কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় ঢাকা জেলার এসপি শাহ মিজান শাফিউর রহমান, নারায়ণগঞ্জের এসপি হারুন অর রশীদ, কুমিল্লার এসপি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, চাঁদপুরের এসপি জিহাদুল কবির, নরসিংদীর এসপি মিরাজ উদ্দিন আহমেদ, গাজীপুরের এসপি ড. শামসুন্নাহার, চট্টগ্রামের এসপি নূরে আলম মিনা, বরিশালের এসপি সাইফুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জের এসপি মাশরুকুর রহমান খালেদ।
এছাড়াও নোয়াখালীর এসপি ইলিয়াছ শরীফ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এসপি আনোয়ার হোসেন খান, ফরিদপুরের এসপি জাকির হোসেন খান, গোপালগঞ্জের এসপি মুহাম্মদ সাইদুর রহমান খান, ময়মনসিংহের এসপি শাহ আবিদ হোসেন, রাঙামাটির এসপি মো. আলমগীর কবির, ঠাকুরগাঁওয়ের এসপি মনিরুজ্জামান, সুনামগঞ্জের এসপি বরকতুল্লাহ খান, চুয়াডাঙ্গার এসপি মাহবুবুর রহমান, যশোরের এসপি মঈনুল হক, মাগুরার এসপি খান মুহাম্মদ রেজোয়ান, সিরাজগঞ্জের এসপি টুটুল চক্রবর্তী, জয়পুরহাটের এসপি রশীদুল হাসান, সিলেটের এসপি মো. মনিরুজ্জামান, পাবনার এসপি শেখ রফিকুল ইসলাম, পঞ্চগড়ের এসপি গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, শরীয়তপুরের এসপি সাইফুল্লাহ আল মামুন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের এসপি টি এম মোজাহিদুল ইসলাম এবং কুড়িগ্রামের এসপি মো. মেহেদুল করিম।
এদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের তৎকালীন এসপি হারুন অর রশীদ ও হবিগঞ্জের এসপি বিধান ত্রিপুরা বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত রয়েছেন। অন্য কর্মকর্তাদের অধিকাংশই ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) হিসেবে রয়েছেন। তাদের অনেকেই পরবর্তীতে অতিরিক্ত ডিআইজি বা ডিআইজি পদে পদোন্নতি পেয়ে বিভিন্ন ইউনিট, রেঞ্জ ও বিশেষায়িত সংস্থায় দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাদের অধিকাংশকেই ওএসডি করা হয়।
আতঙ্কে সাবেক ৩৩ ডিসি
একই ব্যাচের (বিসিএস ২০তম) যে ৩৩ জন সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে যুগ্ম সচিব হিসেবে ওএসডি আছেন, তারাও চাকরি হারানোর চূড়ান্ত আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
তালিকায় থাকা সাবেক ডিসিরা হলেন
মো. মাজেদুর রহমান খান (চাঁদপুর), মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী (পটুয়াখালী), সাবিনা ইয়াসমিন (পঞ্চগড়), ড. আতাউল গনি (মেহেরপুর), আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন (পিরোজপুর), এম কাজী এমদাদুল ইসলাম (সিলেট - বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত), এস এম মোস্তফা কামাল (সাতক্ষীরা), অঞ্জন চন্দ্র পাল (লক্ষ্মীপুর), মোছা. সুলতানা পারভিন (কুড়িগ্রাম), মো. সারওয়ার মোর্শেদ চৌধুরী (কিশোরগঞ্জ), মো. শহীদুল ইসলাম (খাগড়াছড়ি), মো. হেলাল হোসেন (খুলনা), মো. আলী আকবর (মাগুরা), মোহাম্মদ দাউদ ইসলাম (বান্দরবান), এ জে এম নুরুল হক (চাঁপাইনবাবগঞ্জ)।
এ জেড এম অজিয়র রহমান (বরিশাল), মোহাম্মদ আলম ছিদ্দিকী (ভোলা), গোপাল চন্দ্র দাস (চুয়াডাঙ্গা), কাজী আবু তাহের (শরীয়তপুর), মো. মিজানুর রহমান (নওগাঁ), মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ (সুনামগঞ্জ), আনার কলি মাহবুব (শেরপুর), সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন (নরসিংদী), মাহমুদুল কবির মুরাদ (হবিগঞ্জ), আবুল ফজল মীর (কুমিল্লা), মঈন উল ইসলাম (নেত্রকোনা), ওয়াহেদুজ্জামান (ফেনী), এ কে এম মামুনুর রশিদ (রাঙামাটি), এস এম আব্দুল কাদের (রাজশাহী), ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম (ঠাকুরগাঁও), কবীর মাহমুদ (বগুড়া), মো. মাহমুদুল আলম (দিনাজপুর) এবং হায়াত উদ দৌলা খান (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)।
সূত্র: আগামীর সময়






