সচিবালয় থেকে সরানো হচ্ছে ১৬৯ পুলিশ সদস্যকে

বাংলাদেশ সচিবালয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন করছে বিএনপি সরকার। সচিবালয়ে দায়িত্ব পালনকারী ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে পদায়ন পাওয়া ১৬৯ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হচ্ছে। তাদের জায়গায় নতুন সদস্য নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে বদলি করা হয়েছে ৮২ জনকে।
রোববার (৫ জুলাই) দৈনিক আমার দেশের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত মাসে পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা শাখা থেকে। সেখানে সচিবালয়ের নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের পদায়ন নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। দেখা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে দায়িত্ব পাওয়া উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সদস্য এখনও একই দায়িত্বে রয়েছেন।
চিঠিতে বলা হয়, সচিবালয়ের বিভিন্ন প্রবেশদ্বার, মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সংবেদনশীল দপ্তর এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত এসব সদস্যকে পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার করা দরকার। তাদের জায়গায় সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স পাওয়া নতুন ও দক্ষ সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
বিশেষ সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বদলি তালিকায় তিনজন পুলিশ পরিদর্শক, একজন সার্জেন্ট, পাঁচজন উপপরিদর্শক (এসআই), ১৬ জন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই), ১২ জন নায়েক এবং ১৩২ জন কনস্টেবল রয়েছেন। পর্যায়ক্রমে সবাইকে বদলি করা হবে।
সচিবালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের উপকমিশনার কাজী আবু সাঈদ বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ৮২ জন পুলিশ ফোর্সকে পরিবর্তন করা হয়েছে। নিরাপত্তা অবস্থা ভালো আছে।’
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (সচিবালয় নিরাপত্তা শাখা) কাজী আরিফুর রহমান বলেন, সচিবালয়ে দায়িত্বে থাকা ২৪-এর ৫ আগস্টের আগের দায়িত্বরত পুলিশ ফোর্স ধাপে ধাপে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে নতুন ফোর্স যোগদান করছে।
একই সঙ্গে সচিবালয়ের নিরাপত্তাকে দীর্ঘ মেয়াদে আরও কার্যকর, প্রযুক্তিনির্ভর ও জবাবদিহিমূলক করতে একাধিক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দর্শনার্থী নিয়ন্ত্রণ, ডিজিটাল পরিচয় যাচাই, অতিরিক্ত সিসি ক্যামেরা স্থাপন, গেট ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এবং ভিজিটর ম্যানেজমেন্ট আধুনিকায়নে নেওয়া হয়েছে প্রযুক্তিনির্ভর বেশ কিছু পদক্ষেপ।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অতীতে শুধু নাম ও একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে ওটিপি সংগ্রহ করে সচিবালয়ে প্রবেশ করা যেত। কিন্তু বর্তমানে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর এবং সেই এনআইডির সঙ্গে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর ছাড়া ওটিপি ইস্যু করা হচ্ছে না। এতে দর্শনার্থীর পরিচয় যাচাই এবং প্রয়োজনে তাকে শনাক্ত করা আগের তুলনায় সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।





