স্নাইপার নিয়ে বক্তব্যে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন নিলোফার

এশিয়া পোস্ট নিউজ
স্নাইপার নিয়ে বক্তব্যে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন নিলোফার
নিলোফার চৌধুরী মনি। ছবি: সংগৃহীত

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পুলিশের স্নাইপার ব্যবহার নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন বিএনপি নেত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে গিয়ে তিনি এ বক্তব্যের বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলেন।

বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল ‘টু দ্য পয়েন্ট’ নামক একটি টকশোতে মনি’র দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। সেখানে তিনি বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ পুলিশের কাছে স্নাইপার ছিল না বা বাংলাদেশে স্নাইপার নাই।’ ‘দ্য ডিসেন্ট’ নামক একটি ফ্যাক্ট-চেক ওয়েবসাইটের বরাতে তার এই বক্তব্য ছড়িয়ে পড়লে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়।

এই বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মনি বলেন, জুলাই আন্দোলনকে আমরা সবাই হৃদয়ে ধারণ করতে চাই। এই আন্দোলন আমাদের একটি স্বৈরাচারমুক্ত দেশ দিয়েছে। এতে আমাদের বহু সন্তান চলে গিয়েছে। এই আন্দোলনে আমি নিজে সরাসরি মাঠে থেকে কাজ করেছি, তাই আন্দোলনের বেদনা আমাকে অন্য কেউ শিখিয়ে দিতে পারবে না।

তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, আমি শুধু বলতে চেয়েছিলাম যে, বাংলাদেশ পুলিশের কাছে অতীতে কখনো স্নাইপার রাইফেল আমরা দেখিনি। যদি কেউ লুকিয়ে-চুরিয়ে বা অবৈধভাবে তা নিয়ে এসে ব্যবহার করে থাকে, সেটা ভিন্ন কথা। কিন্তু সাংবিধানিক বা প্রাতিষ্ঠানিক উপায়ে পুলিশের কাছে স্নাইপার থাকার কথা নয়। প্রশ্নটা এখানেই তাহলে আমাদের সন্তানদের ওপর স্নাইপার দিয়ে গুলি চালাল কারা? এই প্রশ্নটা যদি আমরা আজ না তুলি, তবে তো আসল সত্য আর কোনোদিন বেরিয়ে আসবে না।

সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বক্তব্যের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেনও দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম দিকে এই স্নাইপার ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছিলেন এবং এ নিয়ে লিখেছেনও।

মনি বলেন, কারও অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার জন্য আমি কথাটি বলিনি। আন্দোলনের পক্ষের মানুষ হিসেবে, আন্দোলনের ভেতরে থাকা একজন কর্মী হিসেবে আমার নিজের ভেতর থেকে এই জিজ্ঞাসা তৈরি হয়েছে। ৫ আগস্টের আগের দিন রাত পর্যন্ত আমি স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন করেছি, মাঠে লড়াই করেছি। ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হয়েছে এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু আমাদের এতগুলো সন্তান কীভাবে চলে গেল, সেই সত্য আগামী দুই বছরের মধ্যে হলেও উদ্‌ঘাটন করা দরকার।

বক্তব্যের শেষ অংশে নিলোফার চৌধুরী মনি ছাত্র-জনতার এই আন্দোলনের একটি অনন্য ও মানবিক দিক তুলে ধরেন। ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করে সাবেক এই ছাত্রনেত্রী বলেন, আমরা যারা ৯০-এর দশকে আন্দোলন করেছি, আমরা একে অপরকে চিনতাম, একসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি করেছি। কিন্তু ২৪-এর এই আন্দোলনে লাখো মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল, যাদের অনেকেই একে অপরকে চিনত না। সম্পূর্ণ অপরিচিত মানুষ একে অপরের জন্য জীবন দিয়ে দিয়েছে। এই যে আত্মত্যাগ, এই যে মানুষের জন্য মানুষের হাহাকার একে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।

তিনি জানান, আহত এবং নিহতদের জন্য তার হৃদয়ের হাহাকার প্রকাশ করার জন্যই তিনি সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি টকশোতে অংশ নিয়েছেন। জুলাইয়ের স্মৃতি এবং শহীদদের রক্ত যেন বৃথা না যায়, সেজন্যই এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল কুশীলব ও অস্ত্র সরবরাহকারীদের খুঁজে বের করা জরুরি বলে মনে করেন এই রাজনীতিক।