তিনবার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালনকালে তিনবার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তৌহিদ হোসেন। তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বহুল আলোচিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিছুই জানত না। এর নেপথ্যে ছিলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা ও নিরাপত্তা উপদেষ্টা।
একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নানা হতাশার কথা বলেন সাবেক শীর্ষ এই কূটনীতিক।
নিজ মন্ত্রণালয়ে একাধিক উপদেষ্টার প্রভাব ছিল জানিয়ে তৌহিদ হোসেন বলেন, এ ক্ষেত্রে তাদের কোনো এক্সপার্টিজও নেই। তবু তাদের মতামতকে যথেষ্টকে গুরুত্ব দিতে হতো। কারণ, উচ্চপর্যায়ে তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিত। আমি তিনবার কুইট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। তারা রিকোয়েস্ট করেছিল যে এটা খুব এম্বারেসিং (বিব্রতকর) হবে সরকারের জন্য।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ডিপ স্টেট সক্রি ছিল কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ডিপ স্টেট সারা পৃথিবীতে প্রতিটা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকে। পৃথিবীতে কিছুই ঘটে না, যেটাতে ডিপ স্টেট কোনো না কোনোভাবে জড়িত থাকে না। ডিপ স্টেট ইনভলভড হয়। কিন্তু স্রোতের বিরুদ্ধে না। তারপর সেটাকে তারা মেনিপুলেট করে।
ক্ষমতায় থাকাকালে কয়েকজন উপদেষ্টার সমন্বয়ে কিচেন কেবিনেট সব সিদ্ধান্ত নিত দাবি করে তৌহিদ হোসেন বলেন, কোনো এক উপলক্ষে এই কিচেন ক্যাবিনেটের একটা মিটিংয়ে আমাকে যেতে হয়েছিল, যমুনাতেই। এবং আমি পরে জেনেছি যে প্রতি মঙ্গলবারে তারা বসেন। সিদ্ধান্ত নেয় কেউ কেউ; এ ধরনের কথাবার্তা শোনা যেত। আমার কানেও আসত। কিন্তু এর বাইরে আসলে আমার জানা ছিল না যে এ রকম একটা গ্রুপ আছে যারা নিয়মিত বসে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে বাণিজ্য চুক্তি হযেছে, তার সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেন সাবেক এই উপদেষ্টা।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী অথবা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামান্যতম ইনভলভ ছিল না এটাতে। এটাতে ইনভলভ ছিল কমার্স মিনিস্ট্রি এবং ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার। কোনো কারণ হয়তো ছিল যে আমরা এটা করতে বাধ্য ছিলাম। বাধ্যবাধকতা না থাকলে এটা নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়া যথাযথ ছিল।
বারবার দায়িত্ব নিয়ে শেখ হাসিনাকে ফেরত আনতে দিল্লিকে চিঠি লিখলেও সেটা যে কোনো কাজে আসবে না, তা তিনি জানতেন বলেও জানান।
এ বিষয়ে তৌহিদ হোসেন বলেন, উত্তর কি আশা করেছিলাম আমরা? আমি আশা করিনি। আমি মনে করি যে আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে যে একেবারে আউট হয়ে গেছে বা যাচ্ছে, এ রকম থাকবে না। আমাদের মানুষজনের স্মৃতিশক্তি খুব দীর্ঘ না। আমি মনে করি, তারা রাজনীতিতে ফিরে আসবে এবং আমার অনুমান দেশের আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে।
.png)






