Advertisement

প্রতি ৬ দম্পতির একজন বন্ধ্যত্বে ভুগছেন, দেশেই মিলছে আধুনিক চিকিৎসা

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
প্রতি ৬ দম্পতির একজন বন্ধ্যত্বে ভুগছেন, দেশেই মিলছে আধুনিক চিকিৎসা
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও প্রতি ছয় দম্পতির অন্তত একজন বন্ধ্যত্ব সমস্যায় ভুগছেন। তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানের সাম্প্রতিক অগ্রগতিতে একসময় প্রায় ‘দুরারোগ্য’ বলে বিবেচিত এই সমস্যার আধুনিক চিকিৎসা এখন দেশেই সহজলভ্য। আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে বন্ধ্যত্ব জয় করে সন্তান লাভের সুযোগ আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) বিশ্ব আইভিএফ দিবস উপলক্ষে রাজধানীর পান্থপথে ‘লুমিনা আইভিএফ অ্যান্ড ফার্টিলিটি কেয়ার’ সেন্টারে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন।

সভায় দেশের বন্ধ্যত্বের সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রিপ্রোডাক্টিভ এন্ডোক্রাইনোলজি অ্যান্ড ইনফার্টিলিটি (আরইআই) বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. ফ্লোরিডা রহমান।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্যের উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণার সঙ্গে দেশের চিত্রও সামঞ্জস্যপূর্ণ। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও প্রতি ছয়জন দম্পতির একজন বন্ধ্যত্বে ভোগেন। সে হিসাবে দেশে কতজন বিবাহিত দম্পতি আছেন, তার ভিত্তিতে বন্ধ্যত্বে আক্রান্ত দম্পতির সংখ্যা নির্ণয় করা সম্ভব।

ডা. ফ্লোরিডা রহমান জানান, দেশে বর্তমানে সরকারি খাতে তিনটি আইভিএফ সেন্টার চালু রয়েছে—ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এবং সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ)। এ ছাড়া বেসরকারি খাতে দেশে আরও প্রায় ২২টি আইভিএফ সেন্টার রয়েছে, যার বেশির ভাগ ঢাকায় এবং বাকিগুলো চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও খুলনায় অবস্থিত। দেশে বর্তমানে প্রায় ৭০ জন নিবন্ধিত আরইআই বিশেষজ্ঞ রয়েছেন এবং ৫০ থেকে ৬০ জন অভিজ্ঞ চিকিৎসক নিয়মিত আইভিএফ সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

অনুষ্ঠানে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের অধ্যাপক ডা. উম্মে তাহমিনা সীমা বলেন, বন্ধ্যত্ব নিয়ে একসময় মানুষের মধ্যে যে ভয় ও অনিশ্চয়তা ছিল, চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রযুক্তির কারণে তা অনেক দূর হয়েছে। বিশ্বের উন্নত দেশে যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়, তার সবই এখন বাংলাদেশে মিলছে।

এ সময় আইভিএফ চিকিৎসা নিয়ে সামাজিক বিভিন্ন ভুল ধারণার অবসান ঘটানোর আহ্বান জানান বিশেষজ্ঞরা। আইভিএফ বিশেষজ্ঞ ডা. মুক্তি রানী সাহা বলেন, বন্ধ্যত্ব কোনো অভিশাপ বা কুসংস্কার নয়, এটি সাধারণ একটি চিকিৎসাযোগ্য স্বাস্থ্যসমস্যা। সঠিক সময়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিলে এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

তিনি আরও জানান, আইভিএফ কোনো কৃত্রিম বা অস্বাভাবিক প্রক্রিয়া নয়। এখানে বাবা-মায়ের নিজস্ব ডিম্বাণু ও শুক্রাণু ল্যাবরেটরিতে নিষিক্ত করার পর ভ্রূণটি তিন থেকে পাঁচ দিন পর্যবেক্ষণ করে মায়ের জরায়ুতে স্থানান্তর করা হয়। এরপর বাকি সব বৃদ্ধি স্বাভাবিক গর্ভাবস্থার মতোই ঘটে।

লুমিনা আইভিএফের চিফ এমব্রায়োলজিস্ট মো. মাসরুদ হোসাইন সময়মতো চিকিৎসা শুরুর ওপর জোর দিয়ে বলেন, আমাদের দেশে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা শুরু করতে অযথা দেরি করা হয়। বিশেষ করে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আইভিএফের সফলতার হার কমে আসে। নারীদের বয়স ৪০ পেরিয়ে গেলে বৈশ্বিকভাবেই এর সাফল্যের হার তুলনামূলক কম। তাই সময় নষ্ট না করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. নাফিসা জেসমিন বলেন, অনেকে এখনও মনে করেন উন্নত আইভিএফ চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে হয়। কিন্তু দেশেই এখন আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তি রয়েছে। দেশেই চিকিৎসা গ্রহণ করলে রোগীরা যেমন সহজে সেবা পাবেন, তেমনি দেশের অর্থও দেশে থাকবে।