বিদেশে গিয়ে ফেরেননি ১৭ শিক্ষক, সাড়ে ৬ কোটি টাকা পাওনা পাবিপ্রবি প্রশাসন

এশিয়া পোস্ট নিউজ, পাবিপ্রবি
বিদেশে গিয়ে ফেরেননি ১৭ শিক্ষক, সাড়ে ৬ কোটি টাকা পাওনা পাবিপ্রবি প্রশাসন
পাবিপ্রবি ফটক। ছবি: এশিয়া পোস্ট

উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষা ছুটি নিয়ে বিদেশে যাওয়ার পর কর্মস্থলে আর ফেরেননি পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) ১৭ শিক্ষক। তাদের মধ্যে কেউ নির্ধারিত ছুটির মেয়াদ শেষে চাকরিতে যোগ না দিয়ে পদত্যাগ করেছেন। এসব শিক্ষকের কাছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাড়ে ৬ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ছুটির নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো শিক্ষক চাকরিতে যোগদানের ২ বছর পর বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য ছুটির আবেদন করতে পারেন। মাস্টার্স বা এমফিল ডিগ্রির জন্য একজন শিক্ষক সর্বোচ্চ ৩ বছর সবেতন শিক্ষা ছুটি ভোগ করতে পারেন। অন্যদিকে পিএইচডি ডিগ্রির জন্য ১ বছর করে সর্বোচ্চ ৫ বছর সবেতন ছুটি দেওয়া হয়। এরপর প্রয়োজন হলে আরও ২ বছর বিনা বেতনে ছুটি নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ৭ বছরের মধ্যে শিক্ষককে কর্মস্থলে ফিরে যোগদান করতে হয়, অন্যথায় তার চাকরি বাতিল হওয়ার বিধান রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরের সংস্থাপন ও স্কলারশিপ শাখা সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে পাবিপ্রবিতে মোট ২১৩ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। তাদের মধ্যে ৫৫ জন বিদেশে শিক্ষা ছুটিতে রয়েছেন। তাদের মধ্যে ইতোমধ্যে ১৭ জনের ছুটির মেয়াদ শেষ হয়েছে এবং বর্তমানে তাদের মধ্যে ১২ জনের বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে। এই না ফেরা ১৭ শিক্ষকের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা পাওনা আছে। তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৪ জনকে চাকরিচ্যুত করার জন্য লিগ্যাল নোটিশ এবং পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরু থেকে এ পর্যন্ত শিক্ষা ছুটি নিয়ে কর্মস্থলে ফেরেননি ১৭ শিক্ষক। তাদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ৩ জন, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের ৩ জন, ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইসিই) বিভাগের ২ জন, ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইসিই) বিভাগের ২ জন, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ১ জন, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২ জন, ইংরেজি বিভাগের ১ জন, গণিত বিভাগের ২ জন এবং পরিসংখ্যান বিভাগের ১ জন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের একাধিকবার চিঠি ও নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তবে অধিকাংশ শিক্ষক এসব চিঠির কোনো জবাব দেননি এবং এখন পর্যন্ত কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক বলছেন, দীর্ঘ সময় ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা এবং উচ্চশিক্ষা শেষে দেশে না ফেরার প্রবণতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. লোকমান আলী এশিয়া পোস্টকে বলেন, শিক্ষকদের আসল কাজই হলো গবেষণা করা। আর গবেষণার জন্য অভিজ্ঞতা দরকার এবং দেশে এসে আরও ভালোভাবে টিচিং প্রফেশনে অবদান রাখার জন্য সরকার ছুটিতে থাকা সত্ত্বেও অর্থনৈতিক সাপোর্ট দেন। আর যারা ফেরত আসে না তাদের ব্যবস্থা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নেবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বিজন কুমার ব্রহ্ম এশিয়া পোস্টকে বলেন, যেসব শিক্ষক শিক্ষা ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বিদেশে অবস্থান করছেন, তাদের একাধিকবার লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এরপরও তারা কর্মস্থলে যোগদান না করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।