Advertisement

কাফরুলে গুলির ঘটনার যে বর্ণনা দিলেন যুবদল নেতা

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
কাফরুলে গুলির ঘটনার যে বর্ণনা দিলেন যুবদল নেতা
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর কাফরুল থানার মিরপুর-১৩ এলাকায় দুর্বৃত্তদের এলোপাতাড়ি গুলিতে এক যুবদল কর্মী নিহত হয়েছেন। ঘটনার সময় কাছে থাকা কাফরুল থানা যুবদলের সদস্যসচিব হাফিজুল ইসলাম বাবু শুক্রবার (২৪ জুলাই) দিবাগত রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার বর্ণনা দেন।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার আগে সুজন নামের একজন তাকে ফোন করে তার বিপরীত পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ক্যাপ পরা এক যুবককে তিনি চেনেন কি না জানতে চান। পরে আরও দুই যুবকের বিষয়েও জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, তাদের কাউকেই তিনি চিনতে পারেননি।

হাফিজুল ইসলাম বাবু বলেন, ফোনে কথা বলার সময় ক্যাপ পরা যুবকের সঙ্গে তার চোখাচোখি হলে ওই যুবক দ্রুত হেঁটে যেতে শুরু করে। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি সুজনকে দ্রুত তাদের আটকের চেষ্টা করতে বলেন। এরপর সুজন, ইউসুফ ও মামুন এগিয়ে গিয়ে যুবকদের জিজ্ঞাসাবাদের চেষ্টা করেন।

তিনি বলেন, একপর্যায়ে ক্যাপ পরা যুবক কোমরে হাত দিলে ইউসুফ তাকে ধরে ফেলেন। তখন ওই যুবক ইউসুফের বাম বুকে কাছ থেকে গুলি করে। ইউসুফ গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে গেলে হামলাকারী তার দিকেও দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে, তবে তিনি আহত হননি। এ সময় একজন পথচারীও গুলিবিদ্ধ হন।

হাফিজুল ইসলাম বাবু জানান, পরে তার সহযোগী মামুন একটি ছোট ইটের টুকরো ছুড়ে মারলে হামলাকারীরা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। তাদের ধাওয়া করা হলে তারা আরও দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, পরে গুলিবিদ্ধ ইউসুফ তার কাছে এসে জানান যে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এরপর তাকে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। কিছুক্ষণ পর স্থানীয় লোকজন একজন সন্দেহভাজনকে আটক করেছে বলে খবর পেয়ে তিনি সেখানে যান।

তার দাবি, উত্তেজিত জনতার হাত থেকে আটক ব্যক্তিকে রক্ষা করার চেষ্টা করেন এবং বিষয়টি জানিয়ে কাফরুল থানার ওসি (তদন্ত) রুবেলকে ফোন করেন। পরে পুলিশ এসে আটক ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

ঘটনার পেছনে কোনো পূর্বশত্রুতার বিষয় তিনি জানেন না উল্লেখ করে হাফিজুল ইসলাম বাবু বলেন, আটক যুবকদের কাউকে তিনি চিনতে পারেননি এবং তারা এলাকার বাসিন্দা বলেও তার কাছে মনে হয়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের পরিচয় ও উদ্দেশ্য প্রশাসনের তদন্তে বেরিয়ে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও জানান, ঘটনায় হত্যাচেষ্টা, ইউসুফ নিহত হওয়ায় হত্যা মামলা এবং অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় অস্ত্র মামলা হওয়ার বিষয় রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর।