লুঙ্গি পরা ব্যক্তির প্যান্টের পকেট থেকে কীভাবে মাদক উদ্ধার করল ডিবি

ফরিদপুরে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগকর্মী মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্তকে আটকের ঘটনা ঘিরে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তাকে মাদকসহ আটক করা হয়েছে দাবি করে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) যে মামলা করেছে, সেই মামলার বিবরণের সঙ্গে ঘটনার সময়ের প্রাসঙ্গিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
গত ২১ জুন সকালে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডিবি হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রান্ত মারা যান। আগের দিন ২০ জুন বিকেলে বাড়ির সামনে থেকে তাকে ডিবি ধরে নিয়ে যায় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়।
প্রান্তকে আটকের ঘটনায় ২১ জুন ফরিদপুর ডিবির এসআই মো. আহাদুজ্জামান মধুখালী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলাটি করেন।
এজাহারে বলা হয়েছে, প্রান্ত নিজের প্যান্টের ডান পকেট থেকে ১০০ গ্রাম গাঁজা বের করে পুলিশের কাছে দেন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০ জুন দিবাগত রাত ২টা ১০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে প্রান্তকে আটক করা হয়। পরে দুই স্থানীয় সাক্ষীর উপস্থিতিতে তিনি নিজের প্যান্টের পকেট থেকে গাঁজা বের করে দেন।
প্রান্তকে আটকের সময়ের একটি ভিডিও ওই সময় ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ঘটনার সময় গভীর রাত নয়, দিনের বেলা ছিল। প্রান্তের পরনে প্যান্ট ছিল না। তিনি লুঙ্গি পরা অবস্থায় ছিলেন। ডিবি সদস্যদের তাকে মারধর ও তল্লাশি করতে দেখা যায়। পরে তার কাছ থেকে কিছুটা দূরে পড়ে থাকা একটি প্যাকেট দেখিয়ে একজনকে বলতে শোনা যায়, এই যে এক পোটলা।
এ ঘটনার বিবরণ দিয়ে এজাহারে বলা হয়েছে, উদ্ধার হওয়া গাঁজা থেকে পাঁচ গ্রাম রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। তবে পরীক্ষার ফল পাওয়ার আগে বস্তুটিকে গাঁজা উল্লেখ করে মাদক আইনে মামলা করা নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
মামলায় সাক্ষী হিসেবে মো. আলমগীর হোসেন ও বিনয় কুমার সাহা নামে দুই ব্যক্তির নাম রয়েছে।
আলমগীর হোসেন সাংবাদিকদের জানান, এজাহারে উল্লেখিত সময় ও স্থানে তিনি উপস্থিত ছিলেন না।
অন্য সাক্ষী বিনয় কুমার সাহার ছেলে বাঁধন সাহা জানান, তার বাবাকে বাজার থেকে ডেকে নিয়ে জোর করে সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করানো হয়।
এ বিষয়ে মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকদেব রায় বলেন, ডিবি পুলিশ যে ভাষায় এজাহার দিয়েছে, থানায় সেই ভাষাতেই মামলাটি নেওয়া হয়েছিল। এজাহারের বিষয়বস্তু পরিবর্তনের সুযোগ ছিল না।
তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে গাঁজাসদৃশ বস্তু উদ্ধার হলেও মাদক আইনে মামলা করা হয়। পরে রাসায়নিক পরীক্ষার ফল অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।





