জমজমাট টুনিরহাট, সপ্তাহে কোটি টাকার সুপারি বিক্রি

আবু সালেহ মো. রায়হান, পঞ্চগড়
জমজমাট টুনিরহাট, সপ্তাহে কোটি টাকার সুপারি বিক্রি
ছবি: এশিয়া পোস্ট

উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে গ্রামীণ অর্থনীতির নতুন চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে সুপারি চাষ। জেলার সদর উপজেলার টুনিরহাটে প্রতি সপ্তাহে বিক্রি হয় দুই থেকে তিন কোটি টাকার সুপারি। তবে গত বছরের তুলনায় এবার দাম ও ফলন দুটিই কম হওয়ায় বাগান মালিকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।

Advertisement

বাঙালি সংস্কৃতিতে অতিথি আপ্যায়নে সুপারি ও পানের ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের। দেশীয় এই রীতির কারণে বাজারে সুপারির চাহিদা থাকে বছরজুড়েই। চাহিদা ও লাভজনক হওয়ায় গত কয়েক বছরে পঞ্চগড়েও ছোট-বড় হাজারো সুপারির বাগান গড়ে উঠেছে। আর এসব বাগান থেকে সপ্তাহের সোম ও শুক্রবার সুপারি আসে সদর উপজেলার কামাতকাজলদিঘী ইউনিয়নের টুনিরহাট বাজারে। ঢাকা, নোয়াখালিসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরাও এখান থেকে সুপারি কিনে পাঠাচ্ছেন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

ছবি: এশিয়া পোস্ট
ছবি: এশিয়া পোস্ট

কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় চাষিদের তথ্যমতে, এক বিঘা (৩৩ শতক) জমিতে ৩০০ থেকে ৪০০টি সুপারি গাছ রোপণ করা যায়। কেবল চারা রোপণ ও প্রাথমিক পর্যায়েই যা একটু খরচ হয়, এরপর প্রতি বছর সামান্য সার ও পরিচর্যা করলেই ভালো ফলন পাওয়া যায়। চারা রোপণের চার থেকে ছয় বছরের মধ্যে ফলন শুরু হয় এবং একটি গাছের আয়ুষ্কাল থাকে প্রায় ২০ বছর পর্যন্ত। একটি বাগান থেকে প্রতি বছর বিঘা প্রতি ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার সুপারি বিক্রি করা সম্ভব।

এদিকে গত বছরে জেলার হাটগুলোতে প্রতি পন (৮০ পিছ সুপারি এক পন) সুপারি আকার ভেদে বিক্রি হয়েছে ২৫০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত। তবে, গত বছরের তুলনায় এবার দাম কিছুটা কম বলে অভিযোগ বাগান মালিকদের।

জেলার সুপারি ব্যবসায়ী বুলু ইসলাম বলেন, সপ্তাহে টুনিরহাট বাজারে দুই থেকে তিন কোটি টাকার সুপারি বিক্রি হয়। জেলার বিভিন্ন এলাকার লোকজন এখানে সুপারি নিয়ে আসে। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে বেচাকেনা। আমরা এখান থেকে কিনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠাই। এখান সুপারির মান ও স্বাদ অতুলনীয়।

লিটন ইসলাম নামে আরেক ব্যবসায়ী বলেন, এই সময়ে অর্থাৎ গরমকালে দেশের অন্য জেলায় বাংলা বা দেশি জাতের সুপারি নেই। আবার অন্য জেলায় শীতের সময় চানপুরী জাতের সুপারি পাওয়া যায়। যে কারণে পঞ্চগড়ের সুপারির চাহিদা দেশজুড়ে। আমরা এখানকার সুপারি ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠাই আবার নিজেরাও মজুত করে জেলাতেও সারা বছর বিক্রি করি।

ছবি: এশিয়া পোস্ট
ছবি: এশিয়া পোস্ট

টুনিরহাট বাজারে সুপারি বিক্রির করতে আসা আনিসুর রহমান নামে এক বাগান মালিক বলেন, এবারে সুপারির ফলন কম হয়েছে। দামও গত বছরের তুলনায় কম।

আইনুল ইসলাম নামে আরেক বাগান মালিক বলেন, প্রতিবছর এক বিঘা বাগানে ৮০ হাজার টাকার সুপারি বিক্রি করি। তবে এবার ৪০ হাজার টাকার সুপারি বিক্রি করেছি। সরকার আমাদের দিকে নেক নজর দিলে আমরা সুপারির দাম বেশি পাব।

পঞ্চগড় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল মতিন বলেন, বর্তমানে জেলার পাঁচ উপজেলায় ৪০০ হেক্টর জমিতে রয়েছে সুপারির বাগান। এসব সুপারি বাগান থেকে সংগৃহীত সুপারি বিক্রি করে জেলাজুড়ে ৩০ থেকে ৪০ কোটি টাকা বাণিজ্য হয়।

বিষয় :পঞ্চগড়