Advertisement

সংবাদ প্রকাশের জেরে কুয়াকাটায় সাংবাদিককে হাতুড়ি পেটার অভিযোগ

এশিয়া পোস্ট নিউজ, পটুয়াখালী
সংবাদ প্রকাশের জেরে কুয়াকাটায় সাংবাদিককে হাতুড়ি পেটার অভিযোগ
আহত সাংবাদিক কেএম বাচ্চু খলিফাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ছবি: এশিয়া পোস্ট

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় এক সাংবাদিককে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুয়াকাটা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকরা তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত ১১টার দিকে কুয়াকাটা সৈকত হোটেলের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

হামলার শিকার সাংবাদিকের নাম কেএম বাচ্চু খলিফা। তিনি দৈনিক দেশ রূপান্তরের কুয়াকাটা প্রতিনিধি। এ ছাড়া তিনি কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট বোট মালিক সমিতির সভাপতি এবং পর্যটকদের সেবায় কাজ করেন।

কেএম বাচ্চুর ছোট ভাই সোহাগ খলিফা অভিযোগ করে বলেন, পৌর যুবদলের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হারুন মুসল্লী, ৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি বাইজিদ, ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি শহিদ সিকদার, পৌর যুবদলের সহসাধারণ সম্পাদক শহিদ সিকদার (ওরফে পচা)-এর নেতৃত্বে আরও ৫ থেকে ৬ জন এ হামলায় অংশ নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ১১টার দিকে হোটেল সৈকতের সামনে এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলছিলেন সাংবাদিক বাচ্চু। এ সময় সংবাদ প্রকাশ নিয়ে তার সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডার চেষ্টা করা হয়। তিনি সেখান থেকে সরে যেতে চাইলে অভিযুক্তরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে লাঠিসোঁটা ও হাতুড়ি দিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করে। একপর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

ঘটনাস্থলে থাকা অটোরিকশাচালক জামাল মোল্লা বলেন, আমি গাড়ি নিয়ে সৈকতের সামনে আসার পর দেখি কয়েকজন বাচ্চু ভাইকে বলছে, ‘আমার নিউজ করেছিস কেন?’ তিনি সরে যেতে চাইলে সবাই মিলে তাকে মারধর করে ফেলে রেখে চলে যায়। পরে আমরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাই।

এ বিষয়ে কুয়াকাটা পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক জোবায়ের আহমেদ রিয়াজ এশিয়া পোস্টকে বলেন, ঘটনাটি আমি মাত্র জেনেছি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। ছাত্রদলের কেউ জড়িত থাকলে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুয়াকাটা পৌর যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মো. ফারুক এশিয়া পোস্টকে বলেন, কুয়াকাটায় শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ রয়েছে। কেউ যদি যুবদলের পরিচয়ে এমন ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকে, তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযুক্তদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার এশিয়া পোস্টকে বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।