বাগেরহাটে তরমুজ চাষে নতুন সম্ভাবনা, ২৫ দিনেই ফুল ও ফল

বাগেরহাটে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে উন্নত জাতের তরমুজ চাষে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সদর উপজেলার বেমরতা ইউনিয়নে মালচিং পদ্ধতিতে মাত্র ২৫ দিনেই তরমুজ ক্ষেতে ফুল ও ফল আসায় আশার আলো দেখছেন তরুণ উদ্যোক্তা মো. জাকির হোসেন। ব্যতিক্রমী ও লাভজনক এই চাষ পদ্ধতি দেখতে প্রতিদিন আশপাশের কৃষকরা ভিড় করছেন। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, সঠিক পরিচর্যা ও প্রযুক্তি ব্যবহারে এই অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে তরমুজ চাষ সম্প্রসারণের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাগেরহাট শহরের বাসিন্দা জাকির হোসেন শখের বশে ইউটিউব দেখে আধুনিক তরমুজ চাষের কৌশল শেখেন। পরে বেমরতা ইউনিয়নের প্রায় ৪০ শতাংশ জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে ‘স্মার্ট বয়’, ‘কানিয়া’ ও ‘সূর্য ডিম’—এই তিনটি উন্নত জাতের তরমুজের চাষ শুরু করেন।
উদ্যোক্তা মো. জাকির হোসেন বলেন, গাছের বয়স মাত্র ২৫ দিন। এরই মধ্যে অধিকাংশ গাছে ফুল এসেছে এবং কিছু গাছে ফলও ধরেছে। এটি শিক্ষামূলক ও পরীক্ষামূলক চাষ হলেও বর্তমান অবস্থা আমাকে আশাবাদী করে তুলেছে। আশা করছি ভালো লাভ হবে এবং অন্য কৃষকরাও উৎসাহিত হবেন।

তিনি জানান, মালচিং পদ্ধতিতে প্রায় এক হাজার ২০০টি তরমুজ গাছ রোপণ করা হয়েছে। প্রতিটি গাছে দুটি করে ফল রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। সে হিসেবে প্রায় ২ হাজার ৪০০টি তরমুজ উৎপাদনের আশা করছি। তবে উন্নত মানের ফল নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ফল অপসারণ করা হবে।
জাকির হোসেন আরও বলেন, তরমুজের পাশাপাশি জমির চারপাশে কাঁচামরিচ, ওলকচু, উন্নত জাতের পেঁপে, টমেটোসহ আরও কয়েক ধরনের পরীক্ষামূলক ফসলের চাষ করা হয়েছে। এতে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত আয়ের সুযোগও সৃষ্টি হবে। প্রথমবার চাষ করায় খরচ কিছুটা বেশি হয়েছে। তবে গাছের বৃদ্ধি ও ফলনের বর্তমান অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, সব খরচ বাদ দিয়েও ভালো লাভ করা সম্ভব হবে।
জাকিরের এই সাফল্য দেখে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরাও। ক্ষেত পরিদর্শনে আসা স্থানীয় বাসিন্দা মো. রনি ইসলাম বলেন, মাত্র ২৫ দিনের মধ্যে গাছে ফুল-ফল আসতে দেখে আমরা বিস্মিত। প্রতিদিন মানুষ এটি দেখতে আসছে।
স্থানীয় কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের এলাকায় আগে এমন উন্নত জাতের তরমুজ চাষ হয়নি। জাকিরের ক্ষেত দেখে আমরা উৎসাহিত হয়েছি। ফলন ভালো হলে আগামী মৌসুমে আমিও তরমুজ চাষ করব। তবে এক্ষেত্রে সরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন।

বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. মোতাহার হোসেন বলেন, বাগেরহাটে উন্নত জাতের তরমুজ চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। সঠিক জাত নির্বাচন, মালচিং পদ্ধতি, সুষম সার ও সঠিক রোগবালাই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে পারলে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। তরুণ উদ্যোক্তা জাকিরের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।
কৃষি বিভাগ জাকিরকে সার্বক্ষণিক পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এই চাষ সফল হলে জেলার অন্য কৃষকরাও উদ্বুদ্ধ হবেন এবং বাণিজ্যিকভাবে তরমুজ চাষের সম্প্রসারণ ঘটবে।





