চাঁদাবাজির মামলায় বিএনপি নেতা ও তার ছেলে কারাগারে

শরীয়তপুরের জাজিরায় চাঁদাবাজি, লুটপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সুরুজ মাদবর ও তার ছেলে স্বাধীন মাদবরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
বুধবার (২৪ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী দিপু মিয়া।
এর আগে, মঙ্গলবার (২৩ জুন) সন্ধ্যায় শরীয়তপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন সুরুজ মাদবর ও স্বাধীন মাদবর। শুনানি শেষে বিচারক আয়েশা আক্তার তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, জাজিরা উপজেলার মানিকনগর এলাকার বাসিন্দা ছোবহান মাদবরের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন সুরুজ মাদবর ও তার ছেলে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত বছরের ২ ডিসেম্বর রাতে কাজীরহাট এলাকায় ছোবহান মাদবরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়। এ সময় দোকান ভাঙচুর, মালামাল লুটপাট ও নগদ অর্থ লুট করাসহ প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি করে দোকানঘর দখল করে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গত বছরের ১২ ডিসেম্বর শরীয়তপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করা হয়।
পরবর্তীতে চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি আদালত সুরুজ মাদবর ও স্বাধীন মাদবরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। তবে পরোয়ানা জারির পরও দীর্ঘদিন তারা প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও পুলিশ গ্রেপ্তার না করায় এলাকায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
আদালত সূত্র আরও জানায়, গত এপ্রিল মাসে আসামিরা হাইকোর্ট থেকে আট সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন নেন। জামিনের মেয়াদ শেষ হলে গতকাল মঙ্গলবার তারা নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে পুনরায় জামিন আবেদন করেন। আদালত দীর্ঘ শুনানি শেষে তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার বাদী ছোবহান মাদবর বলেন, ‘আমার কাছে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করে দখল করে নেওয়া হয়। আমি ন্যায়বিচারের আশায় আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি।’
বাদীপক্ষের আইনজীবী দিপু মিয়া বলেন, ‘আমার মক্কেলের কাছ থেকে বেআইনিভাবে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর বিজ্ঞ আদালত আসামিদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন। আমরা আশা করি, আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।’






