Advertisement

এক জালে ১০৭০ লাল কোরাল, ২৩ লাখে বিক্রি

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এক জালে ১০৭০ লাল কোরাল, ২৩ লাখে বিক্রি

কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূলের বঙ্গোপসাগরের সেন্টমার্টিন চ্যানেলে এক জালে ধরা পড়েছে প্রায় ৯০ মণ ওজনের ১ হাজার ৭০টি লাল কোরাল মাছ। দেশে এই মাছ কোরাল ও ভেটকি; দুই নামেই পরিচিত। চট্টগ্রামের স্থানীয়দের কাছে এটি লাল পানসা, রাঙা ছইক্কা বা রাঙাচয় নামেও পরিচিত। শুরুতে মাছগুলোর দাম হাঁকা হয়েছিল ৩০ লাখ টাকা।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) মাছগুলো ধরা পড়ে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সদর ইউনিয়নের কেরুনতলী ঘাটের মোহাম্মদ মিজান ও হারুনের মালিকানাধীন এফবি টেকনাফ নামের একটি ট্রলারে। প্রতিটি মাছের ওজন সাড়ে তিন থেকে ছয় কেজির মধ্যে।

রাত ১১টার দিকে টেকনাফ পৌরসভার কাইয়ুখখালী ঘাটে মাছভর্তি ট্রলারটি পৌঁছালে স্থানীয় উৎসুক মানুষ ভিড় করেন মাছগুলো দেখার জন্য।

ট্রলার মালিক মোহাম্মদ মিজান জানান, জেলেদের অংশ হিসেবে ৭০টি মাছ রাখা হয়েছে। বাকি প্রায় ১ হাজার মাছ বিক্রি করা হয়েছে। মণপ্রতি ২৬ হাজার টাকা দরে মোট সাড়ে ২৩ লাখ টাকায় মাছগুলো বিক্রি হয়।

ট্রলারের মাঝি রহমত উল্লাহ বলেন, ‘আরাকান আর্মির ভয়ে এক সপ্তাহ সাগরে যাওয়া হয়নি। গত শনিবার সকালে ১৭ জন মাঝিমাল্লা নিয়ে গভীর সাগরে যান তারা। মঙ্গলবার বিকেলে জাল তোলার সময় বিপুল পরিমাণ লাল কোরাল মাছ ধরা পড়ে।’

সাম্প্রতিক সময়ে সাগরে মাছের আকাল থাকায় এই চালানে জেলেদের লোকসান কিছুটা পুষিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী মো. রশিদ জানান, মোট ১ হাজার ৭০টি মাছের মধ্যে ৭০টি রেখে বাকি ১ হাজারটি বিক্রি করা হয়েছে। ট্রলারের প্রতিটি জেলেকে একটি করে মাছ দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট মাছ আত্মীয়স্বজন ও নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া হয়। শুরুতে ৩০ লাখ টাকা দাম হাঁকা হলেও স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম, নবী হোসেন ও আবদুল হকসহ কয়েকজন দর-কষাকষির মাধ্যমে সাড়ে ২৩ লাখ টাকায় মাছগুলো কিনে নেন। বর্তমানে মাছগুলো বরফ দিয়ে কাইয়ুখখালী ফিশারিজে সংরক্ষণ করা হয়েছে। ভালো দাম না পেলে সেগুলো কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে নিয়ে বিক্রি করা হবে।

টেকনাফ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা উমুল ফারা বেগম তাজকিরা বলেন, এত বড় পরিমাণ লাল কোরাল একসঙ্গে ধরা পড়া আনন্দের খবর। লাল কোরাল সুস্বাদু ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ মাছ। এটি ভেটকির প্রজাতিভুক্ত (Lates calcarifer) এবং সর্বোচ্চ প্রায় ১৫ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। এতে প্রোটিন, ভিটামিন বি–১২, ভিটামিন ডি ও ওমেগা–৩ রয়েছে, যা হৃদ্‌স্বাস্থ্য ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য উপকারী।