বেহাল অবস্থা গোপালগঞ্জ পৌর এলাকার রাস্তাঘাটের

গোপালগঞ্জ পৌর এলাকার অধিকাংশ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা ও খানাখন্দে পরিণত হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পৌরবাসী। প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাব, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি এবং অতীতে নিম্নমানের নির্মাণকাজের কারণে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি গর্তে জমে থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যাচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পৌর শহরের প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে বিভিন্ন ওয়ার্ডের অভ্যন্তরীণ সড়কেও একই চিত্র। কোথাও কার্পেটিং উঠে গেছে, কোথাও আবার আরসিসি ঢালাই ভেঙে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্তে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় রাস্তার প্রকৃত অবস্থা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, রিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালক এবং পথচারীদের প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

গোপালগঞ্জ পৌরসভার তথ্য অনুযায়ী, পৌরসভার আয়তন প্রায় ৩০ দশমিক ৭০ বর্গকিলোমিটার এবং পৌর এলাকায় মোট সড়কের দৈর্ঘ্য ২২৯ কিলোমিটার। তবে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও অর্থসংকটের কারণে এসব সড়কের উল্লেখযোগ্য অংশ সংস্কার না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পৌরবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক বছর আগে পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়ক ও ড্রেন সংস্কার করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে কাজের মান ভালো ছিল না। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই কার্পেটিং উঠে গিয়ে সড়কে গর্তের সৃষ্টি হয়। এরপর দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর কোনো সংস্কার না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। এতে পৌরবাসীর পাশাপাশি জেলা শহরে বিভিন্ন প্রয়োজনে আসা মানুষও চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
পৌর এলাকার বাসিন্দা রোমাঞ্চ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার এমন বেহাল অবস্থা। সামান্য বৃষ্টি হলেই গর্তে পানি জমে যায়। তখন চলাচল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। আমরা দ্রুত টেকসইভাবে রাস্তা সংস্কারের দাবি জানাই।

মহসিন শেখ নামে একজন রিকশাচালক বলেন, এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে খুব কষ্ট হয়। গর্ত এড়াতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। রিকশারও ঘন ঘন ক্ষতি হচ্ছে। দ্রুত রাস্তা মেরামত করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান বলেন, পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়ক সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। তবে পর্যাপ্ত বাজেট ও বিশেষ বরাদ্দ না থাকায় একসঙ্গে সব সড়ক সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।





