কুড়িগ্রামের চরে তিল চাষে নতুন সম্ভাবনা, কম খরচে বেশি লাভ

কুড়িগ্রামের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলজুড়ে এবার তিলের বাম্পার ফলন হয়েছে। নামমাত্র খরচে ও কম পরিশ্রমে দ্বিগুণ লাভ হওয়ায় চরের কৃষকেরা এখন ব্যাপকভাবে তিল চাষের দিকে ঝুঁকছেন। নদীভাঙন আর দারিদ্র্যের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করা চরবাসীর কাছে এই ফসল এখন নতুন সম্ভাবনা।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চরাঞ্চলের কৃষকদের উন্নতমানের বীজ ও প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে তিল চাষ এ অঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদের অববাহিকার বিস্তীর্ণ চরজুড়ে এখন সবুজের সমারোহ। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, মাইলের পর মাইল তিল খেত যেন এক নতুন চাদরে ঢেকে দিয়েছে চরবাংলাকে। একসময় যা অনাবাদি ও বালুময় পড়ে থাকত, সেই জমিগুলোই এখন কৃষকের আশার মাঠে পরিণত হয়েছে।
সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের কালির আলগা চরের কৃষক লালচাঁদ বলেন, আগে চরের এই জমিগুলো বছরের বেশির ভাগ সময় অনাবাদি পড়ে থাকত। এবার প্রথম তিল চাষ করে বেশ ভালো ফলনের আশা করছি। আবাদে খরচ খুব কম হয়েছে, এখন বাজারে সঠিক দাম পেলে ভালো লাভ ঘরে তুলতে পারব।
একই চরের আরেক সফল চাষি শহিদুল ইসলাম জানান, তিল চাষে অন্য ফসলের মতো খাটুনি বা কষ্ট নেই। দুই-একবার আগাছা পরিষ্কার করলেই চলে। পোকা-মাকড়ের আক্রমণ ও রোগবালাই কম হওয়ায় সেচ ও কীটনাশকের বাড়তি খরচ লাগে না। এক বিঘা জমিতে তিল চাষে সব মিলিয়ে মাত্র ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা খরচ হয়; অথচ সেই জমির তিল অনায়াসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করা সম্ভব। ঝুঁকি কম থাকায় আগামী মৌসুমে আমি আরও বেশি জমিতে তিল আবাদের পরিকল্পনা করছি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে কুড়িগ্রামে প্রায় ৩৭৫ হেক্টর জমিতে তিল চাষ হয়েছে। মৌসুমের শুরু থেকে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার হেক্টরপ্রতি উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক তানভীর আহমেদ সরকার বলেন, চরাঞ্চলের পলিযুক্ত মাটি তিল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। তিল চাষে উৎপাদন খরচ কম, কিন্তু লাভের সম্ভাবনা বহুগুণ বেশি। এজন্য আমরা কৃষকদের আধুনিক ও উন্নতমানের বীজ ব্যবহারে সার্বক্ষণিক পরামর্শ ও মাঠপর্যায়ে কারিগরি সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি।






