নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল/ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বে চেক-স্ট্যাম্পে সই আদায়, দুই অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

বরিশালে এক ব্যবসায়ীকে নির্যাতন করে ব্যাংকের চেক ও স্ট্যাম্পে সই নেওয়ার ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ ঘিরে সমালোচনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (৫ জুলাই) বিকেলে বরিশাল মহানগর পুলিশের কমিশনার আশিক সাঈদ এশিয়া পোস্টকে জানান, দুপুরের দিকে অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটু ও আবুল কালাম আজাদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নির্যাতিত ও অভিযুক্তদের ভাষ্যমতে, তারা ব্যবসায়িক সহযোগী (পার্টনার)। আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত বিরোধের জেরে ঘটনাটি ঘটেছে।
নির্যাতিত আব্দুল আজিজ হাওলাদার বাকলা ডেভলপারস প্রাইভেট লিমিটেড নামে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও অগ্রীনি হাউজিং নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)।
আব্দুল আজিজের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তার অফিসে এসে নির্যাতনে জড়িত ছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান লিটু, আবুল কালাম আজাদ ও আ. মালেক দূরানী। তাদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু ও আবুল কালাম আজাদ বাকলা ডেভলপারস প্রাইভেট লিমিটেডের শেয়ার হোল্ডার ছিলেন। ২০২৩ সালে শেয়ার বিক্রি করে তারা দেনাপাওনা বুঝে নেন।
এ ছাড়া মোস্তাফিজুর রহমান লিটু ও আ. মালেক দূরানী অগ্রীনি হাউজিং কোম্পানির সঙ্গে ব্যবসায়িক শেয়ারে আছেন। কোম্পানিটিতে বর্তমানে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
আব্দুল আজিজ বলেন, শনিবার রাতে বাকলা ডেভলপারস প্রাইভেট লিমিটেডের অফিসে এসে আমাকে তারা মারধর করে। তারা স্ট্যাম্প ও চেকে সই নেয়। থানায় অভিযোগ দেয় টাকা পাওয়ার। অভিযোগ অনুযায়ী সালিশের ব্যবস্থা করা হয়।
তিনি বলেন, মারধরের কারণে আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। সুস্থ হয়ে আদালতে মামলা করি। আমি ভয়ে আছি। তারা যে কোনো সময় আমার ওপর হামলা করতে পারে। আমি আদালতের দারস্থ হয়েছি। ন্যায্য বিচার আশা করি।
আব্দুল আজিজের আইনজীবী আবদুল রশীদ খান বলেন, বাদীকে মারধর করে একটা লিখিত ও ব্লাঙ্ক চেকে সই নেওয়া হয়েছে। ছয়টা স্ট্যাম্প লিখিত নেওয়া হয়েছে। ঘটনার ভিডিও আদালতে দেখানো মাত্র আদালত এফআইআর দিয়েছে। এটা সন্ত্রাসী কার্যক্রম।
গ্রেপ্তারের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মোস্তাফিজুর রহমান লিটু। তিনি ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত দাবি করে দুঃখ প্রকাশ করেন।
মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তার কাছ থেকে আমাদের পাওনা টাকা না পাওয়ায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটেছে। আব্দুল আজিজ আমাদের পাওনা টাকা পরিশোধ করছেন না। তিনি আমাদের টাকা আত্মসাৎ করে রেখেছেন। আমরা পারিবারিকভাবে কষ্টে আছি।
ঘটনার পর মোস্তাফিজুর রহমান লিটুকে যুবদল নেতা দাবি করে ফেসবুকে আলোচনার জন্ম দেওয়া হয়। বিষয়টি নজরে আসার পর সংবাদ সম্মেলন করেছে বরিশাল মহানগর ও জেলা যুবদল।
সংবাদ সম্মেলনে যুবদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি অ্যাডভোকেট এইচ এম তসলিম উদ্দিন জানান, যুবদলের সঙ্গে মোস্তাফিজুর রহমান লিটুর কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। দলের কোনো কমিটিতে কখনও তিনি ছিলেন না। তাকে কোনো দিন দলের মিছিল-মিটিংয়েও দেখা যায়নি। ফেসবুকে যুবদলকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
সার্বিক বিষয়ে বরিশাল মহানগর পুলিশের কমিশনার আশিক সাঈদ বলেন, ডিবি ও মেট্রোপলিটন পুলিশের একাধিক টিম অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চালায়। দুইজনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপরাধী যেই হোক, আমাদের নজরে এলে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।





