মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট নন সুমেক শিক্ষার্থীরা, ফেরেননি ক্লাসে

সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ (সুমেক) হাসপাতাল চালু, একাডেমিক কার্যক্রম নিশ্চিত ও পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল ক্লাসের দাবিতে শিক্ষার্থীদের লাগাতার ক্লাস বর্জনের ১১ দিন পেরিয়ে গেলেও অচলাবস্থা কাটেনি। হাসপাতাল চালু নিয়ে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলোকে ‘প্রহসনমূলক’ আখ্যা দিয়ে
বৃহস্পতিবারও (২ জুলাই) ক্লাস বর্জনের পাশাপাশি বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা।
এদিন সকালে তারা কলেজের একাডেমিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা। এরপর মেডিকেল কলেজের সামনে সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।
এদিকে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছাড়া বুধবার (১ জুলাই) মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোকে প্রত্যাখ্যান করে ওই রাতেই একটি জরুরি বিবৃতি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। বিবৃতিতে তারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ছয়টি সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে নতুন করে ছয় দফা দাবি জানিয়েছেন এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সার্বিক অবস্থা নিয়ে বুধবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের সভাপতিত্বে একটি সভা হয়। সভায় কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোস্তাক আহম্মদ ভূঁইয়া কলেজের বর্তমান অগ্রগতি তুলে ধরেন। একইসঙ্গে সভায় ৬টি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সিদ্ধান্তগুলো হলো—শিক্ষক সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় শিক্ষক পদায়নের আদেশ দ্রুত জারি করা, ১-২ কর্মদিবসের মধ্যে হাসপাতালের জন্য একজন পরিচালক নিয়োগের আদেশ দেওয়া, কলেজের জন্য আরও একটি বাস অনুমোদনের ব্যবস্থা করা, আগামী ৬ সপ্তাহের মধ্যে সীমিত পরিসরে হাসপাতালের বহির্বিভাগ চালু করা, আগামী অক্টোবর থেকে মেডিসিন অন্তর্বিভাগ এবং ডিসেম্বর মাসের মধ্যে হাসপাতালের পূর্ণাঙ্গ অন্তর্বিভাগ চালুর জন্য প্রয়োজনীয় সকল প্রশাসনিক ও কারিগরি কার্যক্রম সম্পন্ন করা।
তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এসব সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট হননি শিক্ষার্থীরা। তারা বুধবার মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোকে প্রত্যাখ্যান করে রাতেই একটি জরুরি বিবৃতিতে ছয় দাবি জানিয়েছেন।
সেগুলো হলো—আগামী দুই কর্মদিবসের মধ্যে হাসপাতালের পরিচালক নিয়োগ করতে হবে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে হাসপাতালের পূর্ণাঙ্গ জনবল নিয়োগ করতে হবে, আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে হাসপাতালের আউটডোর ও আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল চালু করতে হবে, আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে সকল বিভাগের শিক্ষক সংকট দূর করে পদায়ন নিশ্চিত করতে হবে। এই রোডম্যাপ তারা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সামনে সশরীরে পেশ করতে চান এবং তার কাছ থেকে লিখিত নির্দেশনা চান।
এ ছাড়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী থেকে লিখিত নির্দেশনা পাওয়ার আগ পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী সাইদুল ইসলাম সাকিব বলেন, ২০২৪ সাল থেকেই আমরা বারবার এমন আশ্বাস শুনে আসছি। আশ্বাস আশ্বাসেই থেকে যায়, বাস্তবায়ন আর হয় না। কলেজের সমস্যাগুলো নিয়ে আমরা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে কথা বলতে চাই। এজন্য গতকাল আমরা জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনের মাধ্যমে স্মারকলিপিও দিয়েছিলাম।
সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তাক আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীরা সন্তুষ্ট নয়। কিন্তু সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ নাই না মানার। বুধভার মন্ত্রণালয়ের সভায় আমরা কলেজ ও হাসপাতালের সকল বিষয় উত্থাপন করেছি। শিক্ষক পদায়ন হয়ে গেছে। অন্য সকল বিষয়ে রোডম্যাপ তাদের জানানো হয়েছে। আশা করছি ৬-৭ দিনের মধ্যে লিখিত রেজুলেশন পেয়ে যাবে। এরপরও তাদের ক্লাসে না ফেরার কোনো কারণ নেই এবং আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা আছে বলে মনে করি না।
২০১৮ সালের ৮ নভেম্বর সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদিত হয়। মেডিকেল কলেজ এবং ৫০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের জন্য প্রথমে এক হাজার ১০৭ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে এই ব্যয়ের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পায়। ইতোমধ্যে এই প্রকল্পে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও হাসপাতাল ভবনের নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি এবং হাসপাতালও চালু করা যায়নি।





