পুরোনো প্রশ্নপত্রে দাখিল পরীক্ষা, পাঁচজনকে অব্যাহতি

এশিয়া পোস্ট নিউজ
পুরোনো প্রশ্নপত্রে দাখিল পরীক্ষা, পাঁচজনকে অব্যাহতি

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় দাখিল গণিত পরীক্ষায় পুরোনো সিলেবাসের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে হল সুপারসহ চার কক্ষ পরিদর্শককে পরীক্ষার সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইদুজ্জামান হিমু বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল জোব্বার এবং শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার মো. জাকির হোসেন।

অব্যাহতি পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন, হল সুপার হায়দার আলী এবং কক্ষ পরিদর্শক হাসনা খাতুন, জোবায়দা খাতুন, কাওছার আহম্মেদ ও মামুনুর রশিদ।

এর আগে রোববার শেরপুর শহীদিয়া আলীয়া কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে দাখিল গণিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রের ১০১ ও ১০২ নম্বর কক্ষে ২৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে ফুলতলা দাখিল মাদ্রাসার ১০ জন, রাজারদীঘির ১৩ জন, চকসাদির ৩ জন এবং উলিপুর আমেরিয়া মাদ্রাসার ৩ জন শিক্ষার্থী ছিলেন। তারা সবাই নতুন সিলেবাসের শিক্ষার্থী।

শিক্ষার্থীরা জানান, পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর তাদের হাতে ২০২৫ সালের পুরোনো সিলেবাসের প্রশ্নপত্র তুলে দেওয়া হয়। বিষয়টি বুঝতে না পেরে তারা ওই প্রশ্নেই পরীক্ষা শেষ করেন। পরে বাড়ি ফিরে বিষয়টি বুঝতে পেরে অভিভাবকদের জানান। এতে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব ও শেরপুর শহীদিয়া আলীয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান বলেন, এটি অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল। পরীক্ষার সময় বিষয়টি কারও নজরে আসেনি। পরে বিষয়টি জানতে পেরে মাদ্রাসা বোর্ডের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে।

ইউএনও মো. সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, শিক্ষার্থীরা যাতে কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনাটি তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং দায়িত্বে অবহেলার কারণে সংশ্লিষ্ট পাঁচজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।