Advertisement

সুব্রত বাইনের মেয়ে জুলাই আন্দোলনের মামলায় গ্রেপ্তার

এশিয়া পোস্ট নিউজ
সুব্রত বাইনের মেয়ে জুলাই আন্দোলনের মামলায় গ্রেপ্তার

যুবদল নেতা আরিফ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারের পর এবার জুলাই আন্দোলনকেন্দ্রিক একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের মেয়ে খাদিজা ইয়াসমিন বিথীকে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত সজিব খান নামে এক ব্যক্তিকে হত্যাচেষ্টার মামলায় খাদিজাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন গ্রেপ্তার দেখানোর তথ্য নিশ্চিত করেন।

এর আগে গত ১৫ ডিসেম্বর কুমিল্লা জেলা কারাগারের সামনে থেকে বিথীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাকে যুবদল নেতা আরিফ হত্যার ঘটনায় রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় করা মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় নতুন বাজার এলাকায় সজিব খানকে হত্যাচেষ্টা মামলায় গত ১৭ মার্চ বিথীকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাসানুজ্জামান। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন বৃহস্পতিবার ধার্য করেন। এদিন শুনানিকালে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।

গ্রেপ্তারের আবেদনে বলা হয়, তদন্তে সন্দিগ্ধ হাজতি আসামি খাদিজা ইয়াসমিন বিথি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আছে মর্মে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তাকে একাধিকবার ভাটারা থানা এলাকার আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের সঙ্গে উসকানিমূলক কথাবার্তা বলতে দেখা যায় মর্মে যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।

আরও বলা হয়, আসামি এ মামলার ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত আছে মর্মে তদন্তে প্রতীয়মান হচ্ছে। এ অবস্থায় তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন। আসামি জামিনে মুক্তি পেলে পলাতক হয়ে মামলার তদন্তে ব্যাঘাত ঘটানোর আশঙ্কা রয়েছে।

মামলার বিবরণ থেকে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই আন্দোলন চলাকালীন ভাটারার নতুন বাজার ব্রিজের নিচে মো. সজিব খান আন্দোলনে অংশ নেন। এ সময় ১৫০ থেকে ২০০ জন আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী লাঠি, লোহার রড, হকিস্টিক এবং আগ্নেয়াস্ত্রসহ আন্দোলনকারীদের ওপর বেপরোয়া গুলিবর্ষণ, ককটেল, হাতবোমা ও পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করে। এতে অনেকে নিহতসহ আহত হয়।

আসামিরা হত্যার উদ্দেশ্যে সজিবসহ মিছিলে অংশগ্রহণকারী সব ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণ, হাতবোমা, পেট্রোলবোমা ও ককটেল নিক্ষেপ করলে অনেক ছাত্র-জনতা গুলিবিদ্ধ হয় এবং আহত হয়। এ সময় তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আসামিরা এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে তার বাঁ হাতে ও শরীরে বিভিন্ন জায়গায় বিদ্ধ হয়।

এ ঘটনায় গত বছরের ১৪ মার্চ সজিব খান বাদী হয়ে ভাটারা থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে মামলা করেন।