জুলাই আন্দোলনের সেই রক্তাক্ত স্মৃতি ভুলতে পারছি না: নাদিয়া পাঠান পাপন

ঢাকা মেডিকেলের মর্গের সামনে লাশের সারি এবং সাধারণ মানুষের রক্তাক্ত নিথর দেহগুলো দেখার সেই মুহূর্তটি আমার জীবনের সবচেয়ে মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা— বলেছেন বিএনপি মনোনীত নারী সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপন।
সম্প্রতি এশিয়া পোস্টের ‘আলাপন’ অনুষ্ঠানে এসে এই মন্তব্য করেছেন তিনি।
তিনি বলেছেন, জুলাই আন্দোলন ছিল দীর্ঘ ১৭ বছরের জমানো ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ এবং সাধারণ মানুষের দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার এক চূড়ান্ত প্রতিফলন। ১৭ জুলাই বদরুন্নেসা কলেজের মেয়েদের তালা ভেঙে মুক্ত করা এবং ১৯ জুলাই কাকরাইল মোড়ে গোলাগুলির মধ্যে রাজপথে সক্রিয় থাকার সময় তারা চরম জীবনের ঝুঁকি নিয়েছিলেন। রাবার বুলেটে আহত হওয়া সত্ত্বেও তারা রাজপথ ছাড়েননি এবং মুমূর্ষু সাধারণ মানুষকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য জীবনের মায়া ত্যাগ করে কাজ করেছেন। আন্দোলনের সেই উত্তাল দিনগুলোতে প্রতিটি মুহূর্ত ছিল অনিশ্চয়তায় ঘেরা তবুও জনগণের মুক্তির নেশায় তারা অবিচল ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষ যেভাবে আমাদের খাবার ও পানি দিয়ে এবং ওপর থেকে পুরোনো খাতা-কাগজ ফেলে টিয়ার গ্যাস থেকে বাঁচতে সাহায্য করেছে, তা কোনোদিন ভোলার মতো নয়। ঢাকা মেডিকেলের সেই বীভৎস চিত্র এবং লাশের ওপর লাশের স্তূপ তাকে এতটাই নাড়া দিয়েছিল যে তিনি অঝোরে কেঁদেছিলেন এবং সেই অমানবিকতা সহ্য করতে পারছিলেন না। ফ্যাসিজমের দোসররা তখনও যেভাবে তৎপর ছিল এবং লাশগুলোর প্রতিও মায়া দেখাচ্ছিল না, তা দেখে তিনি স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। তৃণমূলের সাধারণ নারীরা তাদের ভোটাধিকার এবং ন্যায়ের লড়াইয়ে যেভাবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মাঠে নেমেছিল, তা এই গণঅভ্যুত্থানকে পূর্ণতা দান করেছে।





