শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে শচীন টেন্ডুলকারের বিবৃতি
-565cf5.jpg)
ভারতের শিক্ষাব্যবস্থায় অনিয়মের প্রতিবাদে পুরো ভারতজুড়ে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনের মধ্যে স্বচ্ছতা ও মেধাভিত্তিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন কিংবদন্তি ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকার। তার ভাষায়, কোনো শিক্ষার্থী যেন মনে না করে যে কঠোর পরিশ্রম করেও সে প্রাপ্য ফল পায়নি।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় সরাসরি চলমান আন্দোলন কিংবা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অপসারণের দাবি নিয়ে মন্তব্য করেননি শচীন। তবে সততা, পরিশ্রম ও মেধাকে মূল্য দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন ভারতের সাবেক এই ব্যাটার।
অধ্যাপক বাবার কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষার কথা স্মরণ করে শচীন লিখেছেন, ‘আমার বাবা একজন অধ্যাপক ছিলেন। তিনি অনেক তরুণ শিক্ষার্থীর পরামর্শদাতা ও পথপ্রদর্শক ছিলেন। ছোটবেলাতেই তিনি আমাকে একটি শিক্ষা দিয়েছিলেন, ব্যর্থ হওয়া দোষের নয়, কিন্তু প্রতারণা করা ঠিক নয়। কখনো শর্টকাটের পথ বেছে নেবে না।’
শচীনের মতে, সমাজে ফলাফলের চেয়ে পরিশ্রম ও সৎ প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দিতে হবে। তা না হলে মেধার পরিবর্তে শর্টকাট নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হবে।
— Sachin Tendulkar (@sachin_rt) July 23, 2026
তিনি লিখেছেন, ‘সমাজের প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ হিসেবে সংস্কৃতি গড়ে তোলার দায়িত্ব আমাদের। যে সমাজ প্রচেষ্টার চেয়ে ফলাফলকে বেশি গুরুত্ব দেয়, সেখানে মেধার বদলে শর্টকাট খোঁজার প্রবণতা তৈরি হয়। নিজেদের কঠোর পরিশ্রমের পুরস্কার না পেয়ে শিক্ষার্থীরা হতাশ হলে সেটি বোধগম্য। ভবিষ্যতে তারা যেন আর এমন অনুভব না করে, তা নিশ্চিত করতে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
ভারতের তরুণ প্রজন্মকে দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক। শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন ও উদ্যম ধরে রাখতে অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের দায়িত্বের কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তিনি।
শচীন বলেন, ‘তরুণ ভারত স্বপ্ন ও শক্তিতে পরিপূর্ণ। তারাই আমাদের সাফল্যের জ্বালানি। তরুণদের উৎসাহিত ও প্রাণবন্ত রাখতে অভিভাবক, শিক্ষক, বন্ধু, আত্মীয়স্বজন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং প্রশাসনসহ আমাদের সবারই বড় দায়িত্ব রয়েছে।’
শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও আকাঙ্ক্ষা রক্ষায় কার্যকর সমাধান পাওয়া যাবে বলেও আশাবাদ প্রকাশ করেছেন শচীন। তিনি লিখেছেন, ‘আমাদের এমন সংস্কৃতি তৈরি করতে হবে, যেখানে কঠোর পরিশ্রম পুরস্কৃত হবে, সততাকে উৎসাহিত করা হবে এবং মেধার জয় হবে। আমি নিশ্চিত, আমরা এমন সমাধান খুঁজে পাব, যা আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ শক্তিশালী করবে এবং তাদের স্বপ্নকে সুরক্ষিত রাখবে।’
উল্লেখ্য পুরো শিক্ষাব্যবস্থায় অনিয়ম এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অপসারণের দাবিতে ভারতজুড়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে শচীনের এই বক্তব্য এল। গত ২০ জুলাই কয়েক হাজার শিক্ষার্থী সংসদ অভিমুখে মিছিলের চেষ্টা করলে দিল্লি পুলিশ তাদের বাধা দেয়। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিপেটা করা হয়।
.png)






