Advertisement

মোদির বাড়ির বাইরে রাহুল-প্রিয়াঙ্কার মিছিল

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
মোদির বাড়ির বাইরে রাহুল-প্রিয়াঙ্কার মিছিল
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে বিক্ষোভে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদ অভিমুখে লংমার্চের এক দিন পরই ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ নতুন মোড় নিয়েছে। বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশি অ্যাকশনের প্রতিবাদে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী ও তার বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেসহ হাজার হাজার নেতাকর্মী নয়াদিল্লির রাজপথে নেমে এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘গতকাল তরুণ শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ যে নৃশংসতা ও বলপ্রয়োগ করেছে, সে বিষয়ে সরকারের কাছে জবাব চাইতে আমরা প্রধানমন্ত্রী মোদির বাসভবন পর্যন্ত গণমিছিল করেছি।’

তিনি আরও বলেন, সরকার কোনো দায় নিতে চায় না, কিংবা সংসদে এ নিয়ে কোনো গঠনমূলক বিতর্কেও জড়াতে রাজি নয়। ভারতের কোটি কোটি যুবকের ভবিষ্যৎ এভাবে ধ্বংস করার জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত।’

শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় কেন্দ্রের বিজেপি পরিচালিত সরকারকে সরাসরি দায়ী করে কংগ্রেস নেতাকর্মীরা মোদি বিরোধী নানা স্লোগান দেন। প্রধানমন্ত্রী বাসভবনের মতো অত্যন্ত সুরক্ষিত এলাকায় রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সরাসরি এই বিক্ষোভ ভারতের রাজনৈতিক ময়দানে নতুন করে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছে।

এদিন বিকেলে রাজাজি মার্গে অবস্থিত কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনের সামনে জড়ো হন দলটির জ্যেষ্ঠ নেতাকর্মীরা। সেখান থেকে প্রিয়াঙ্কা ও রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে একটি বিশাল প্রতিবাদ মিছিল প্রায় এক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ৭, লোক কল্যাণ মার্গের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের দিকে এগিয়ে যায়।

তারও আগে সোমবার নিট ও অন্যান্য সরকারি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করে সংসদ অভিমুখে পদযাত্রার ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। কিন্তু সেই পদযাত্রায় অধিকাংশ ছাত্র ও তরুণ বিক্ষোভকারীদের ওপর দিল্লি পুলিশ ও র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) নির্মম লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস প্রয়োগ করে বলে অভিযোগ ওঠে।

সিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর এই ক্র্যাকডাউনে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তাদের শরীর রক্তে ভেসে গেছে।

অন্যদিকে দিল্লি পুলিশ অভিযোগের তির ছুড়েছে বিক্ষোভকারীদের দিকেই। পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীরা অত্যন্ত ‘অবাধ্য, আক্রমণাত্মক ও সহিংস আচরণ’ করেছে। তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ, পুলিশের একাধিক গাড়ি ভাঙচুর এবং ব্যাপক সহিংসতা চালিয়েছে। সংঘর্ষে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ অন্তত ১১৮ জন পুলিশ কর্মী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ।

সূত্র: রয়টার্স, এনডিটিভি