‘স্ত্রীকে বলা হয়েছিল, আপনার স্বামীর লাশ থানায় আছে’

মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আলহাজ আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শতাধিক মামলার আসামি হয়ে একাধিকবার কারাবরণ করেছেন। গুমের শিকার হয়েছেন এবং নানা নির্যাতন-নিপীড়নের মধ্যেও রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। সম্প্রতি এশিয়া পোস্টের ধারাবাহিক অনুষ্ঠান আলাপনে এসেছিলেন অতিথি হয়ে। রাজনৈতিক সংগ্রাম, কারাবাসের দুঃসহ স্মৃতি এবং বর্তমান জাতীয় রাজনীতি নিয়ে কথা বলেছেন। সঞ্চালনা করেছেন রাহাত রূপান্তর।
এশিয়া পোস্ট: আপনি ছাত্রনেতা থেকে আজ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এই দীর্ঘ পথযাত্রার শুরুটা জানতে চাই। রাজনীতিতে আসার পেছনে কোন অনুপ্রেরণা কাজ করেছিল?
আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন: রাজনীতি ছাত্রজীবনে ছাত্রনেতা হিসেবে যেভাবে নেতৃত্ব দিয়ে এসেছিলাম, সেই অভিজ্ঞতা থেকেই আজকের এই অবস্থানে আসা। মানুষ যত বড় হয়, দায়িত্বও তত বেড়ে যায়। আমার রাজনীতির শুরু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকারের শেষ সময়ে আমি ভর্তি হই। ১৯৯৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের মিছিলে অংশগ্রহণের মাধ্যমে সক্রিয় রাজনীতিতে আমার হাতেখড়ি। অবশ্য যখন গ্রামে কলেজে পড়াশোনা করতাম, তখন সেখানে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ছিল না। তবে স্কুলজীবন থেকেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি আমার অন্যরকম ভালো লাগা ও ভালোবাসা কাজ করত। সেই ভালো লাগা থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পর মিছিলে অংশগ্রহণ করা এবং ভবিষ্যতে রাজপথের রাজনীতি করার একটা প্রবল ইচ্ছা ছিল। সেই ইচ্ছা থেকেই আজকের এই পথচলা।
এশিয়া পোস্ট: ছাত্ররাজনীতির শুরুতে আপনার পরিবারিক সমর্থন কেমন ছিল?
আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন: অবশ্যই, পারিবারিক সমর্থন ভালো ছিল। শুরুতে বাবা-মায়ের কিছুটা উদ্বেগ থাকলেও ইনশাআল্লাহ আমি তাদের পূর্ণ সহযোগিতা পেয়েছি।
এশিয়া পোস্ট: মাদারীপুরের মানুষ আপনাকে ‘খোকন ভাই’ বলে ডাকতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর এই ‘খোকন ভাই’ নাকি ‘এমপি খোকন’—কোনটিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?
আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন: সংসদ সদস্য হওয়ার পরেও মানুষ আমাকে আগের মতোই দেখে এবং আমি তাতেই সবচেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। আমি চাই মানুষ আমাকে সেভাবেই ভালোবেসে ডাকুক। যারা আমার সহযোদ্ধা, আমার পরিবারের সদস্য এবং যারা রাজনৈতিক সিনিয়র নেতৃবৃন্দ আছেন, তারা আগে যেভাবে আমাকে দেখতেন বা যে নামে ডাকতেন, সেটাই আমার কাছে বেশি প্রিয়।
এশিয়া পোস্ট: রাজনৈতিক জীবনে আপনি দুইবার ‘গুম’ হওয়ার শিকার হয়েছেন। ২০১৪-১৫ সালের সেই অভিজ্ঞতা শুনতে চাই।
আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন: ২০১৪ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাড়ির সামনে যখন বালুর ট্রাক রেখে তাকে অবরুদ্ধ করা হলো, সেই বিষয়টি আমি কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলাম না। আমার বন্ধু বেলায়েতসহ কয়েকজন মিলে আমরা পরিকল্পনা করলাম কীভাবে এই ট্রাক সরানো যায়। আমি দায়িত্ব নিলাম যে কোনো উপায়ে এই ট্রাক সরাতে হবে। কারণ, এটি আমাদের জন্য লজ্জার বিষয় ছিল। আমরা এমনভাবে পরিকল্পনা করলাম যেন প্রশাসন ট্রাক সরাতে বাধ্য হয়। এরপর আমার সহযোদ্ধা মাহমুদ, সুমন চেয়ারম্যান এবং সোহাগ নামের এক সাংবাদিকসহ আমরা মুভ করি। আমাদের আন্দোলনের মুখে সন্ধ্যার মধ্যে প্রশাসন ট্রাক সরাতে বাধ্য হলো। ঠিক তার পরের দিন রাতেই মাহমুদ, পারভেজ ও ফারুককে র্যাব তুলে নিয়ে গুম করে। সোহাগ এবং আমাকেও ধরার চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু পারেনি। প্রায় দুই মাস পর ওই তিনজনকে যখন গ্রেপ্তার দেখানো হলো, তখন ওরা আমাকে বলেছিল যে র্যাব আমাকে খুঁজছে এবং মেরে ফেলার পরিকল্পনা করছে।
এরপর ২০১৫ সালের ৬ মার্চ আন্দোলনের সময় আমি মতিঝিলে যুবদল নেতা ডেভিডের সঙ্গে মিটিং শেষ করে গ্যান্ডারিয়া ছাত্রদলের জনি এবং ঢাকা জেলা ছাত্রদলের রাশেদকে নিয়ে ধানমন্ডি মেট্রো শপিং মলের সামনে যাই। সেখানে আরও কয়েকজনের সঙ্গে আমার দেখা করার কথা ছিল। হঠাৎ দেখলাম দুজন যুবক মোটরসাইকেলে এসে আমাদের গাড়ির সামনে দাঁড়াল। তারা র্যাবের সিভিল টিমের পরিচয় দিয়ে আমাকে গ্রেপ্তার করল। সঙ্গে সঙ্গেই আমার হাতে হাতকড়া পরিয়ে এবং মাথায় টুপি দিয়ে চোখ বেঁধে ফেলা হলো। এরপর আমাকে মোহাম্মদপুর ফিজিক্যাল কলেজের ভেতরে একটি র্যাব অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একজন আমাকে বলল যে আমি খুব ‘বাজে’ একটি টিমের হাতে পড়েছি এবং আমাকে অনেক নির্যাতন করা হবে। এরপরের তিন মাস ১৭ দিন আমি টানা চোখ বাঁধা অবস্থায় ছিলাম।
এশিয়া পোস্ট: সেই বন্দিদশায় আপনার ওপর কী ধরনের নির্যাতন চালানো হয়েছিল?
আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন: গ্রেপ্তারের এক ঘণ্টা পর আমাকে অন্য একটি জায়গায় নিয়ে যাওয়া হলো। সেখানে কোনো কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই হকিস্টিক দিয়ে অমানুষিকভাবে প্রায় এক ঘণ্টা আমাকে পেটানো হলো। ব্যথায় আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেললাম। তারা বলছিল যে আমরা নাকি মানুষ পুড়িয়ে মেরেছি, তাই আমাদের পানি না খাইয়ে মারা হবে। টানা তিন দিন ওরা আমাকে কোনো পানি দেয়নি। বেশির ভাগ সময় আমি জ্ঞান হারিয়ে থাকতাম। ওরা আমার ঘাড়ে একটি ইনজেকশন দিত। ওই ইনজেকশন দেওয়ার পর আমার মনে হতো আমি বাসায় ফ্যামিলির সঙ্গে বা সহযোদ্ধাদের সঙ্গে আছি। আমি ঘোরের মধ্যে কথা বলতাম। প্রথম ১০-১২ দিন অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছিল। মাঝে মাঝে আমাকে বের করে মুখোশধারী কিছু লোক ভিডিও করত এবং কিছু তথ্য জানার চেষ্টা করত।
সবচেয়ে যন্ত্রণাদায়ক ছিল পিপাসা। একবার আমার যখন প্রবল পানি পিপাসা পেল, আমি পানির জন্য চিৎকার করছিলাম। কিন্তু পানি না দেওয়ায় আমি বললাম বাথরুমের প্রেশার এসেছে। যখন আমাকে বাথরুমে নিয়ে হাতকড়া ও চোখের বাঁধন খুলে দিল, দেখলাম কল খুললে পানি নেই। তখন মনে হলো আমি আর বাঁচব না। ড্রামে সামান্য শ্যাওলা পড়া পানি দেখে আমি সেই ময়লা পানিই মগ দিয়ে তুলে খেলাম। মনে হলো যেন জীবন ফিরে পেলাম। সবসময় কানে অন্য বন্দিদের চিৎকারের শব্দ আসত। জনি, রানা রিয়াজদের মারার শব্দ শুনতাম। আমিও তখন আল্লাহর নাম জপে চিৎকার করতাম। একটা সময় আমার হাতের চামড়া পচে গিয়েছিল। তখন আমি নিশ্চিত ছিলাম যে আমার জীবন এখানেই শেষ। স্ত্রী-সন্তান ও বাবা-মায়ের মুখ ভেসে উঠত চোখের সামনে। শারীরিক কষ্টের চেয়ে মানসিক কষ্টটাই ছিল বড়।
এশিয়া পোস্ট: বন্দিদশা থেকে মুক্তির মুহূর্তটি কেমন ছিল?
আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন: এক দিন দুপুরে হঠাৎ লকআপ খোলার শব্দ পেলাম। ভাবলাম আজই হয়তো মেরে ফেলবে। ওরা আমার চোখ খুলে বাথরুমে নিয়ে গেল এবং দাড়ি ও চুল কেটে ফেলতে বলল। এরপর আমার সেই পুরোনো কাপড়গুলো পরতে দেওয়া হলো। ভয়ে আর উত্তেজনায় আমি থরথর করে কাঁপছিলাম। আমাকে গাড়িতে করে অনেক জায়গায় ঘোরানো হলো। হঠাৎ আরিচা ফেরির শব্দ পেলাম। এরপর অন্য একটি গাড়িতে তুলে আমাদের ফরিদপুরে নিয়ে যাওয়া হলো। সেখানে আমাদের লাইনে দাঁড় করিয়ে বলা হলো সামনের দিকে হেঁটে যেতে। মনে হচ্ছিল এই বুঝি পেছন থেকে গুলি করে ‘ক্রসফায়ার’ দেবে। কিন্তু কিছুক্ষণ পর দেখলাম গাড়ি থেকে পেট্রোলবোমা এবং ককটেল বের করে সাজানো হলো। আমাদের সন্ত্রাসী সাজিয়ে স্থানীয়দের সাক্ষী বানানো হলো। এরপর র্যাব আমাকে গ্রেপ্তার দেখাল। ফরিদপুর র্যাব অফিসে নিয়ে যাওয়ার পর সেখানকার একজন অফিসার আমাকে চিনে ফেললেন এবং বললেন যে আমাদের নাকি মেরে ফেলার কথা ছিল, কিন্তু গাড়ি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় দিনের আলো ফুটে গেছে বলে তারা আমাদের মেরে ফেলতে পারেনি। এভাবেই আল্লাহ আমাদের জীবন দান করলেন।
এশিয়া পোস্ট: আপনার অনুপস্থিতিতে পরিবারের অবস্থা কেমন ছিল?
আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন: আমার পরিবার চরম মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। আমার স্ত্রীকে নরসিংদী থানা থেকে ফোন করে বলা হয়েছিল যে আমার লাশ পাওয়া গেছে। সেই খবর শুনে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিল। এখনও সে সেই ট্রমা থেকে বের হতে পারেনি। আমার তখন চার বছরের মেয়ে খেলার সঙ্গীদের বলত যে তার বাবা মারা গেছে। আমার বাবা আমার শোকে হার্ট অ্যাটাক করে মারা গেছেন। আমার শ্বশুর আমাকে খুঁজতে খুঁজতে জন্ডিসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। জেলখানায় থেকে প্যারোলে ওনার জানাজায় যাওয়ার সুযোগও আমাকে দেওয়া হয়নি। আমি যখন গুম ছিলাম, তখন শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবারই যেন গুম হয়ে গিয়েছিল।
এশিয়া পোস্ট: ওয়ান-ইলেভেন বা তার পরবর্তী সময়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর যে নির্যাতন চালানো হয়েছিল, সেই সময়ের কোনো স্মৃতি কি আপনার মনে আছে?
আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন: ওয়ান-ইলেভেনের সময় আমি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক। যেদিন তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়, আমি সেদিন সারা রাত ক্যাম্পাসে বসে মিছিলের প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। পরে তাকে যখন ঢাকা মেডিকেলে এমআরআই করার জন্য আনা হলো, আমি পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ভেতরে ঢুকে ওনার পাশে বসেছিলাম। ওনার শরীরের অবস্থা দেখে আমার চোখ দিয়ে পানি পড়ছিল, কিন্তু উনি উল্টো আমাকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন। পরবর্তীতে উনি যখন লন্ডন যাচ্ছিলেন, আমি তাকে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দিতে গিয়েছিলাম। উনি যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলেন। এয়ারপোর্টে ওনাকে যখন হুইলচেয়ারে করে নেওয়া হচ্ছিল, এয়ারপোর্টের স্টাফরা পর্যন্ত ওনার অবস্থা দেখে কেঁদে ফেলেছিলেন। জোর করে ওনাকে সিগনেচার নিয়ে বিমানে তোলা হয়েছিল। সেই নির্যাতনের স্মৃতিগুলো আমাদের এখনও কাঁদায়।
এশিয়া পোস্ট: জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আপনার এবং আপনার দলের ভূমিকা কেমন ছিল?
আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন: জুলাই আন্দোলনে আমি বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে রাজপথে সক্রিয় ছিলাম। ১৯ জুলাই পল্টনে আমাদের দলের সিদ্ধান্তে যখন মাঠে নামলাম, আমার চোখের সামনে চারজন মারা গেছে। আমার নিজের কর্মী নবীন তালুকদারের মাথায় গুলি লেগে সে আমার পাশেই ঢলে পড়ে। প্রতিটা দিন আমি ছাত্রদের সঙ্গে মাঠে ছিলাম। তারেক রহমানের নির্দেশ ছিল সাধারণ মানুষের সঙ্গে থেকে আন্দোলনকে বেগবান করা। আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বুলেটের সামনে দাঁড়িয়েছিলাম। কারণ, আমরা জানতাম এই ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন অনিবার্য।
এশিয়া পোস্ট: ৫ই আগস্টের পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হয়েছে। অনেকেই বলছেন রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে খুব একটা বদল আসেনি। আপনার মতামত কী?
আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন: যারা এই কথা বলছেন, তারা হয়তো গভীরভাবে চিন্তা করছেন না। শেখ হাসিনা শুধু রাজনীতিকদের গুম করেননি, তিনি মাদ্রাসার ছাত্র, ব্যবসায়ী, এমনকি মসজিদের ইমামকেও গুম করেছেন। তিনি পুরো দেশটাকে জিম্মি করে রাখতে চেয়েছিলেন। জনাব তারেক রহমান এবং আমাদের দল কখনোই এমন আচরণ করবে না। আমরা চাই মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশটাকে সামনে এগিয়ে নিতে। ১৭ বছরের আবর্জনা পরিষ্কার করতে আমাদের অন্তত কিছুটা সময় দিতে হবে।
এশিয়া পোস্ট: আপনার নির্বাচনি এলাকা মাদারীপুর নিয়ে আপনার স্বপ্ন কী? আগামী ৫ বছরে মানুষ আপনাকে কেন মনে রাখবে?
আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন: আমি সবসময় মানুষের পাশে থাকতে চাই। আমার কোনো বড় চাহিদা নেই। আমি চাই মানুষের মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিত করতে। মাদারীপুরে দীর্ঘ ৪৭ বছর পর আমাদের দল থেকে কেউ সংসদ সদস্য হয়েছে। এলাকার মানুষ খুব খুশি। আমি এবং আমার নেতাকর্মীরা মানুষের সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই। তারেক রহমানের স্বপ্ন হচ্ছে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা, আমরা সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নেই কাজ করছি।
এশিয়া পোস্ট: ব্যক্তিগতভাবে আগামী ১০ বছর পর নিজেকে কোথায় দেখতে চান?
আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন: আমি দলেই থাকতে চাই। এই দলের নেতাকর্মীদের ভালোবাসা এবং দোয়াতেই আমি গুমের জীবন থেকে ফিরে এসেছি। দল আমাকে যেখানে যোগ্য মনে করবে, সেখানেই থাকব। আমার মূল লক্ষ্য হচ্ছে দলের প্রধানের এবং সাধারণ মানুষের ভালোবাসা নিয়ে আমৃত্যু কাজ করে যাওয়া।
এশিয়া পোস্ট: সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন: আপনাকে এবং এশিয়া পোস্টের পাঠক-দর্শকদেরও ধন্যবাদ।




