অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক মারা গেছেন

এশিয়া পোস্ট নিউজ
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক মারা গেছেন
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। ছবি: সংগৃহীত

বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক, লেখক, গবেষক ও রাষ্ট্রচিন্তাবিদ অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক মারা গেছেন।

রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

এশিয়া পোস্টকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজম।

১৯৪০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন আবুল কাসেম ফজলুল হক। তিনি ছিলেন দেশের অন্যতম বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক, গবেষক, ঐতিহাসিক, অনুবাদক, সমাজবিশ্লেষক, সাহিত্য সমালোচক ও রাষ্ট্রচিন্তাবিদ। রাষ্ট্রভাষা বাংলা রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। নিরপেক্ষ রাজনৈতিক বিশ্লেষণ, স্বদেশচিন্তা ও সমাজ-রাষ্ট্র নিয়ে গভীর গবেষণাধর্মী লেখার জন্য তিনি বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন।

২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাকে বাংলা একাডেমির সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেয়। এর আগে ১৯৮১ সালে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হন। এছাড়া বাংলাদেশ লেখক শিবির পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার ও অলক্ত সাহিত্য পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননা লাভ করেন।

শিক্ষাজীবনে তিনি ময়মনসিংহ জিলা স্কুল থেকে মাধ্যমিক, আনন্দমোহন কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবনে অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী, আহমদ শরীফ, হুমায়ুন আজাদ ও নীলিমা ইব্রাহিমের সান্নিধ্যে এসে প্রগতিশীল চিন্তাধারার সঙ্গে যুক্ত হন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে প্রায় চার দশক শিক্ষকতা করেন আবুল কাসেম ফজলুল হক। তিনি বিভাগীয় চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। একই সঙ্গে নজরুল রচনাবলীর সম্পাদনা পরিষদের সদস্য ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে নিয়মিত কলাম লিখেছেন। ১৯৮২ সাল থেকে তিনি মননশীল সাময়িকী ‘লোকায়ত’ সম্পাদনা করে আসছিলেন।

রাষ্ট্র, রাজনীতি, সমাজ, ইতিহাস, সংস্কৃতি, দর্শন ও সাহিত্য নিয়ে তার গবেষণা ও প্রবন্ধ বাংলা চিন্তাজগতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান হিসেবে বিবেচিত হয়। তিনি ‘মুক্তিসংগ্রাম’, ‘একুশে ফেব্রুয়ারি আন্দোলন’, ‘উনিশশতকের মধ্যশ্রেণি ও বাংলা সাহিত্য’, ‘রাজনীতি ও দর্শন’, ‘রাষ্ট্রচিন্তায় বাংলাদেশ’, ‘মানুষের স্বরূপ’ এবং ‘শ্রেষ্ঠ প্রবন্ধ’সহ দুই ডজনেরও বেশি গ্রন্থের রচয়িতা।

এ ছাড়া তিনি দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেলের ‘রাজনৈতিক আদর্শ’ ও ‘নবযুগের প্রত্যাশায়’ গ্রন্থ বাংলা ভাষায় অনুবাদ করেন এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ সম্পাদনা করেন।

তার স্ত্রীর নাম ফরিদা প্রধান। তার দুই সন্তানের নাম যথাক্রমে শুচিতা শরমিন ও ফয়সল আরেফিন দীপন। তার মেয়ে শুচিতা শরমিন বর্তমানে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ছেলে ফয়সল আরেফিন দীপন জাগৃতি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ছিলেন। ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর দীপনকে দুবৃত্তরা হত্যা করে।