logo

দুর্ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠাল রুয়েট প্রশাসন

দুর্ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠাল রুয়েট প্রশাসন
এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হচ্ছে আহত শিক্ষার্থীকে। ছবি: এশিয়া পোস্ট

‎রাজশাহীর বিনোদপুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শিক্ষার্থী রাফিদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর একটা ১৫ মিনিটের দিকে তাকে বহনকারী এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

এর আগে, এদিন সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল হাসপাতালে গিয়ে রাফিদের চিকিৎসার খোঁজ নেওয়ার ঢাকায় পাঠানো হয়।

‎তারা হাসপাতালের মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, মাথায় তীব্র আঘাত পাওয়ায় রাফিদের মস্তিষ্কে রক্ত জমে আছে। উন্নত চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া প্রয়োজন। তাৎক্ষণিক ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম সরকার, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন এবং ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আবু ইসমাইল সিদ্দিকী সাইফের উদ্যোগে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আড়াই লাখ টাকা দিয়ে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বুকিং দেওয়া হয়।

‎রাফিদ শাহরিয়ার রুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বুধবার রাত আনুমানিক নয়টার দিকে বিনোদপুর বাজারে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হন রাফিদ।

‎প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেল আকস্মিকভাবে ইউ-টার্ন নেওয়ার সময় রাফিদের মোটরসাইকেলের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে বাইক থেকে ছিটকে পড়ে তার মাথা সড়ক বিভাজকে আঘাতপ্রাপ্ত হয়।

‎দুর্ঘটনার পর তাকে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং সাময়িকভাবে অপারেশন থিয়েটারেও নেওয়া হয়েছিল।

‎রাফিদের চিকিৎসার জন্য রুয়েটের ছাত্রকল্যাণ দপ্তর ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে চিকিৎসা ফান্ড সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় ২ লাখ টাকার বেশি ক্রাউড ফান্ডিং হয়েছে। চিকিৎসায় আরও ১৮-২০ লাখ টাকার অর্থের প্রয়োজন হতে পারে বলে জানা গেছে।

‎রাজশাহী মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা যায়, রাফিদের অবস্থা সংকটাপন্ন এবং তিনি কোমায় যাওয়ার আগের পর্যায়ে রয়েছেন। বর্তমানে কোমা স্কেলে তার অবস্থা তিন দশমিক পাঁচ। প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার সম্ভব না হওয়ায় ঢাকায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।‎

‎রুয়েট ছাত্রকল্যাণ দপ্তর পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার বলেন, খবর পাওয়ার পর থেকে আমরা তার চিকিৎসার বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। তার মাথায় গুরুতর আঘাতে মস্তিষ্কে রক্ত জমেছে। উন্নত চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার রাজশাহীতে সম্ভব না, চিকিৎসকদের পরামর্শে ঢাকায় চিকিৎসা করাতে প্রশাসনের থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করি।

তিনি বলেন, রাফিদ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। তার এই সংকটময় সময়ে রুয়েট প্রশাসন তার পাশে আছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসার বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে সে দ্রুত সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসুক এটাই প্রত্যাশা। রাফিদের জন্য সবার কাছে দোয়া প্রার্থী।