logo

সাবেক ভিসিকে ফেরাতে সপ্তম দিনেও চুয়েটে শাটডাউন, ১২ আন্তর্জাতিক অধ্যাপকের চিঠি

সাবেক ভিসিকে ফেরাতে সপ্তম দিনেও চুয়েটে শাটডাউন, ১২ আন্তর্জাতিক অধ্যাপকের চিঠি
পোস্টার তৈরিতে ব্যস্ত আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে সপ্তম দিনেও চলছে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। শিক্ষার্থীদের একাংশের লাগাতার আন্দোলনের পাশাপাশি এই দাবিতে যুক্ত হয়েছেন চুয়েট শিক্ষক সমিতিও।

এ ছাড়াও আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এর ইতিবাচক সাড়া দেখা গেছে। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও নরওয়ের ১২টি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ জন অধ্যাপক অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক নেতৃত্বের প্রশংসা করে অধ্যাপক সায়েমকে চুয়েটের উপাচার্য পদে বহাল রাখার সমর্থনে বিবৃতি ও চিঠি দিয়েছেন।

তবে এখন পর্যন্ত আন্দোলনরতদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাউকেও আলোচনা করতে দেখা যায়নি।

গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অব্যাহতি দিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগের খবর প্রকাশ পায়। এরপরই ওই রাতেই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন চুয়েটের শিক্ষার্থীরা। তারা উপাচার্য ভবনে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে লাগাতার ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

সপ্তম দিনেও চলছে আন্দোলন

আন্দোলনের সপ্তম দিনে চুয়েট ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নানা বৈচিত্র্যময় ও প্রতিবাদী কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়। শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় পালিত হওয়া উল্লেখযোগ্য কর্মসূচিগুলো হলো ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন ও শাটডাউন, ৫৬ বলের প্রতিবাদী ক্রিকেট ম্যাচ, শিক্ষকদের অবস্থান কর্মসূচি, শ্বেত শাড়িতে গণস্বাক্ষর।

গত সাত দিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ আছে। এ ছাড়া অধ্যাপক সায়েমের মাত্র ৫৬ দিনের স্বল্প মেয়াদি দায়িত্বকালকে কেন্দ্র করে প্রতীকী ‘৫৬ বলের ক্রিকেট খেলা’র আয়োজন করা হয় সোমবার। এ ছাড়া সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে চুয়েট শিক্ষক সমিতি অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্যকে ফিরিয়ে আনার আন্দোলনে ভিন্নমাত্রা যোগ করতে সাদা শাড়িতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়।

এ ছাড়া দিনের শেষভাগে বিকেলে শিক্ষার্থীদের আয়োজনে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্র প্রদর্শনী এবং রাতে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা আছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ১২ অধ্যাপকের সংহতি ও চিঠি

অধ্যাপক সায়েমের সঙ্গে দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক গবেষণা ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করে বহির্বিশ্বের বিভিন্ন প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ জন অধ্যাপক আলাদা আলাদা চিঠি দিয়েছেন। চিঠিগুলোতে অধ্যাপক সায়েমের নেতৃত্ব ও চুয়েটের প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নে তার ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ওই ১২ শিক্ষক হলেন যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম সিটি ইউনিভার্সিটির ড. মোস্তাফিজ রহমান, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ওকলাহোমা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোহাম্মদ রবিউল হোসাইন, ওয়াশিংটন স্টেট ইউনিভার্সিটির দুই অধ্যাপক প্রশান্ত দত্ত ও নন্দিতা বিশ্বাস, সাউদার্ন উটাহ ইউনিভার্সিটির ড. মো. আবদুস সালাম, অস্ট্রেলিয়ার মার্ডক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জিএম শফিউল্লাহ (চুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী), নিউজিল্যান্ডের ম্যাককুয়েরি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাজমুল হুদা এবং ইউনিভার্সিটি অব দ্য সানশাইন কোস্টের ডিন অধ্যাপক আমান, নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির অধ্যাপক মাসুদ খান, নরওয়ের এগডার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৌমেন রুদ্র।

চুয়েট শিক্ষক সমিতি এবং শিক্ষার্থীদের সর্বাত্মক বর্জনের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, অধ্যাপক সায়েমকে চুয়েটের উপাচার্য পদে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত এবং আন্দোলনকারীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা কোনো অবস্থাতেই ক্লাসে ফিরবেন না।

এদিকে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের আগমন ঠেকাতে গোপন পরিকল্পনার করার অভিযোগ উঠেছে শিক্ষক সমিতির একটি অংশের বিরুদ্ধে। শিক্ষকদের একটি সভার অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিবেদকের হাতে আসা একটি অডিও ক্লিপে এক শিক্ষককে বলতে শোনা যায়, ‘প্রোভোস্ট ও হল প্রশাসনের মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার্থীদের হল খালি করার কৌশল নিতে হবে। হলের বেশির ভাগ ছাত্র-ছাত্রী চলে গেছে। যেখানে ১০০ থেকে ১৫০ জন আছে, তাদের হল বন্ধ করে বের করে দেব। এক মাস পর ডাকলে স্যুট-ট্যুট পরে আসবে, তখন অটোমেটিক্যালি মেনে নেবে।’

আরেকজন শিক্ষককে বলতে শোনা যায়, ‘আগামীকাল যেন (ভিসি) গাড়ি নিয়ে ঢুকতে না পারে, আমরা কিছু ছাত্রদেরকে দিয়ে গাছের গুঁড়ি রাস্তায় ফেলে দিই, তাহলে ভালো হবে। এতে তারা নিরাপদে আসতে বাধাগ্রস্ত হবে।’