logo

খুলনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আজমুল হত্যায় গ্রেপ্তার ৩

খুলনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আজমুল হত্যায় গ্রেপ্তার ৩
গ্রেপ্তার মো. হাসনাত হাবিব রিফাত, প্রতাপ সরকার ও তারেক হাসান ওরফে রুবেল। ছবি: এশিয়া পোস্ট কোলাজ

খুলনায় নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আজমুল হোসেন হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন ৩ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) খুলনা, বরিশাল ও পিরোজপুরে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে মামলার অন্যতম অভিযুক্ত মো. হাসনাত হাবিব রিফাত (৩০) রয়েছেন। তিনি সিরাজগঞ্জ সদর থানার গুণেরগাতী গ্রামের মনোয়ার হোসেনের ছেলে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে রিফাত হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।

গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন— যশোরের অভয়নগর থানার ধূলগ্রাম সিদ্ধিপাশা এলাকার শিবপদ সরকারের ছেলে প্রতাপ সরকার (২৮), খুলনার হরিণটানা থানার খানজাহান নগর এলাকার লাল মিয়ার ছেলে তারেক হাসান ওরফে রুবেল (৩৫)।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বরিশালের উজিরপুর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রতাপ সরকারকে গ্রেপ্তার করে।

কেএমপি ডিবির ডিসি মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি এশিয়া পোস্টকে জানান, আজমুল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের একটি তালিকা সংগ্রহ করা হয়েছিল। ওই তালিকায় প্রতাপ সরকারের নাম পাওয়া যায়। পরে ডিবির একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

এদিকে, মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল রোডের খাজা হল গেটসংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তারেক হাসান ওরফে রুবেলকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি-৬। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ ও পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে হরিণটানা থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

এর আগে মঙ্গলবার ভোরে পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) থানার কুড়িয়ানা-আদাবাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে হাসনাত হাবিব রিফাতকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসআরবি-৬ খুলনা ও এসআরবি-৮ বরিশালের যৌথ আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে।

এসআরবি-৬ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত আড়াইটার দিকে ওই এলাকায় অভিযান চালানো হয়। আজমুলের মৃত্যুর পর রিফাত আত্মগোপনে চলে যান। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযানে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে রিফাত হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী হলের বিপরীতে মসজিদ গলির একটি ভবনে আজমুল হোসেনকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে তার মৃত্যু হয়। অভিযোগ রয়েছে, মেসে মিল না দিয়ে ভাত খাওয়াকে কেন্দ্র করে আজমুলকে মারধর করা হয় এবং তার চুল কেটে দেওয়া হয়। এ সময় তার বাবার কাছে ফোন করে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

মারধরের পর ভবনের চতুর্থ তলা থেকে আজমুলকে ফেলে দেওয়া হয়েছে এমন অভিযোগও উঠেছে। এ ঘটনায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

মামলায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এফএমআরটি ডিসিপ্লিনের ১৭ ও ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী রবিন ও মবিন, গণিত ডিসিপ্লিনের ১৯ ব্যাচের সাগর এবং এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের ২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী ওবায়দুলকে আসামি করা হয়েছে।