জুলাই আন্দোলনবিরোধী শিক্ষকদের তালিকা ভিসিকে দিলেন আম্মার

জুলাই আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কয়েক শিক্ষকের একটি প্রাথমিক তালিকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলামের কাছে জমা দিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মার।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে উপাচার্যের কার্যালয়ে তিনি এ তালিকা হস্তান্তর করেন।
জানা গেছে, তালিকার সঙ্গে বিভিন্ন জাতীয় টেলিভিশন চ্যানেলের ভিডিও ফুটেজ, সংবাদ প্রতিবেদন এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য-প্রমাণ সংযুক্ত করা হয়েছে। নথিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের নাম, বিভাগ এবং আন্দোলনের সময় তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিবরণও উল্লেখ রয়েছে।
এ বিষয়ে রাকসুর এজিএস সালমান সাব্বির বলেন, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়েই আমরা নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। কিন্তু যেসব শিক্ষক ওই আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে গত দুই বছরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি। বরং তাদের মধ্যে কেউ কেউ এখনো জুলাইয়ের চেতনা ও গণ-অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের ন্যারেটিভ তৈরির চেষ্টা করছেন। তাই অভিযোগগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমরা তথ্য-প্রমাণসহ একটি প্রাথমিক তালিকা প্রশাসনের কাছে জমা দিয়েছি।
রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, আমরা আজ তিনটি বিষয় নিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা করেছি। প্রথমত, ১৬ জুলাইকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ইতিহাসের অংশ হিসেবে প্রশাসনের উদ্যোগে ‘সন্ত্রাস প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছি। দ্বিতীয়ত, আওয়ামীপন্থি শিক্ষক-কর্মচারীদের তালিকা প্রশাসনের কাছে দেওয়ার পরও গত দুই বছরে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে বলে আমরা মনে করি। এ বিষয়ে আমরা প্রশাসনের কাছে একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা চেয়েছি।
তিনি আর বলেন, তৃতীয়ত, বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে বিচার পাওয়ার অধিকার আমাদের রয়েছে। রাকসুর সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যও এ বিষয়ে একমত হয়েছেন। আমাদের কাছে যেসব আওয়ামীপন্থি শিক্ষকের তালিকা রয়েছে, তাদের কাউকে পেলে আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সোপর্দ করব। প্রয়োজনে আমরা নিজেরাই বাদী হয়ে মামলা করব। জুলাইয়ের ঘটনায় কোনো ধরনের আপস হবে না।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। তাই যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমাদের একটি শক্ত আইনগত ভিত্তি তৈরি করতে হবে। আইনগত ভিত্তি ছাড়া এগোলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। আপনাদের দাবির প্রতি আমরা আন্তরিক। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারণী মহলের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে। এটি আমার একার সিদ্ধান্তের বিষয় নয়; প্রশাসনের সম্মিলিত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।





