ধূমপান নিষিদ্ধ ক্যাম্পাসের রান্নাঘরের পাশে সিগারেটের অবশিষ্টাংশের ‘মেলা’

এশিয়া পোস্ট নিউজ, সোহরাওয়ার্দী কলেজ
ধূমপান নিষিদ্ধ ক্যাম্পাসের রান্নাঘরের পাশে সিগারেটের অবশিষ্টাংশের ‘মেলা’
সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের ফটক, ইনসেটে সিগারেটের অবশিষ্টাংশ। ছবি: এশিয়া পোস্ট

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ধূমপানমুক্ত রাখার লক্ষ্যে দেশে সুস্পষ্ট আইন ও সরকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে সিগারেটের অবশিষ্ট অংশ পড়ে থাকার চিত্র দেখা গেছে।

ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে ধূমপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও কলেজের প্রশাসনের জন্য খাবার প্রস্তুতের রান্নাঘরের পাশেও সিগারেটের ফিল্টার ও খালি প্যাকেট পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে ধূমপান নিষিদ্ধের বিধান বাস্তবায়ন এবং তদারকির কার্যকারিতা নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সরেজমিনে শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, পুরোনো ভবনের রসায়ন বিভাগের পেছনসহ বিভিন্ন আড়াল স্থানে সিগারেটের ফিল্টার ও খালি প্যাকেট ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।

এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে অর্থনীতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. নাইমুর রহমান বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নৈতিকতা ও মূল্যবোধ গড়ে তোলার জায়গা, সেখানে এমন চিত্র অত্যন্ত দুঃখজনক। ধূমপানমুক্ত নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, নিয়মিত নজরদারি বৃদ্ধি এবং ক্যাম্পাসের আশপাশে সিগারেট বিক্রি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আগন্ত বাবু জানান, সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকার সুযোগ নিয়ে আড়ালে গিয়ে অনেকে ধূমপান করছে। তাই ক্যাম্পাসকে পরিচ্ছন্ন ও ধূমপানমুক্ত রাখতে প্রশাসনের উচিত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজের এক কর্মচারী জানান, ওই স্থানে বহিরাগতদের যাতায়াত নেই বললেই চলে, বরং কলেজের কিছু শিক্ষার্থীই সেখানে গিয়ে ধূমপান করেন। তাদের নিষেধ করা হয় কি না জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, ধূমপানকারীরা ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে সোহরাওয়ার্দী কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রুবেল এশিয়া পোস্টকে বলেন, ছাত্রদলের কেউ ক্যাম্পাসের ভেতরে ধূমপান করে বলে তার জানা নেই। তবে কলেজের অভ্যন্তরে যদি ছাত্রদলের কোনো কর্মীর এমন সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, তবে তাকে আইনের হাতে তুলে দেওয়ার পাশাপাশি সাংগঠনিকভাবেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ ড. কাকলী মুখোপাধ্যায় এশিয়া পোস্টকে বলেন, সিগারেটের অবশিষ্ট অংশ দ্রুত পরিষ্কার করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা না ঘটে, সেজন্য নির্দিষ্ট স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে এবং নিয়মিত নজরদারিসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।