‘শ্রমিক আন্দোলনে দুষ্কৃতকারীদের বিশেষ উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা চলছে’

পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের অন্তরালে দুষ্কৃতকারীরা বিশেষ উদ্দেশ্য হাসিল করার চেষ্টা করছে এবং তাদের কঠোর হাতে দমন করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বরে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে ডিএমপির পিওএম দক্ষিণ বিভাগের পুলিশ কমিশনার (ডিসি) তৌহিদুল আরিফ এ কথা বলেন।
ডিসি বলেন, কিছু দুষ্কৃতিকারী সবকিছু নষ্ট করার চেষ্টা করেছে। তারা মিরপুর-১১ নম্বরে সড়কে ব্যারিকেড দিয়েছিল। আপনারা দেখেছেন, আমরা কঠোর হাতে পরিস্থিতি দমন করেছি। প্রয়োজনে আরও কঠোর হব।
সন্দেহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এখন যারা মাঠে রয়েছে, তাদের কেউই প্রকৃত অর্থে গার্মেন্টস কর্মী বা শ্রমিক বলে মনে হচ্ছে না। তারা বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে মাঠে রয়েছে বলে আমাদের ধারণা। সে কারণে তাদের কঠোর হাতে দমনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।
তৌহিদুল আরিফ বলেন, আপনারা দেখছেন, পরিস্থিতি এখন আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর নিক্ষেপ করেছে। এতে কতজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন, তা আমি এই মুহূর্তে সরাসরি বলতে পারছি না। কারণ, আমি এখনো মাঠে রয়েছি। আহত ও গ্রেপ্তারের সঠিক সংখ্যা পরে জানা যাবে।
আরিফ বলেন, সড়কের পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে। আমরা বিভিন্ন অলিগলিতে টহল দিচ্ছি। সেখানে কেউ অবস্থান করছে কি না, তা দেখা হচ্ছে। আজ সকালে এই এলাকায় এক পুলিশ সদস্যকে লাঠিপেটা করার একটি ভিডিও আমরা দেখেছি। ভিডিওটি ইতোমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
উল্লেখ্য, গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার করার দাবিতে গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) মিরপুরের বিভিন্ন পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। প্রথমে কারখানার ভেতরে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই অসন্তোষ রোববার (১ নভেম্বর) প্রকাশ্যে রূপ নেয়।
এদিন শ্রমিকদের বিক্ষোভ এবং সড়ক অবরোধ, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, হামলার কারণে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরে রোববার আন্দোলনকারীরা রাস্তায় নামে এবং গাড়িতে ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করে। পুলিশের ওপর হামলার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়, কঠোর অবস্থানের কারণে আন্দোলনকারীরা চলে যেতে বাধ্য হয়। সোমবারও (২ নভেম্বর) মিরপুরের পরিস্থিতি ছিল উত্তপ্ত।



