বিজিসিসিআইয়ের ব্যবসা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ওপর প্রভাব শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ-জার্মান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিজিসিসিআই) উদ্যোগে ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: ব্যবসা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ওপর প্রভাব’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (৫ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর দ্য ওয়েস্টিন ঢাকার বলরুম-১ ও ২-এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
দেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগ পরিস্থিতির ওপর সদ্য ঘোষিত জাতীয় বাজেটের প্রভাব নিয়ে আলোচনার লক্ষ্যে আয়োজিত এই সেমিনারে নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী নেতা, কর বিশেষজ্ঞ, উদ্যোক্তা এবং সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ফেডারেল রিপাবলিক অব জার্মানির দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত প্রধান (চার্জ ডি’অ্যাফেয়ার্স) মিসেস আনজা কার্স্টেন প্রধান অতিথি হিসেবে এই সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন। তার বক্তব্যে তিনি টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদার করার ক্ষেত্রে একটি স্থিতিশীল, স্বচ্ছ ও ব্যবসাবান্ধব রাজস্ব পরিবেশের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
এ ছাড়াও সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের-এনবিআর (শুল্ক: নীতি ও আইসিটি) প্রথম সচিব মো. তারিক হাসান, এনবিআরের (ভ্যাট নীতি) প্রথম সচিব মো. মশিউর রহমান, এনবিআরের উপ-কর কমিশনার মিসেস নুসরাত ফারজানা।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ‘স্নেহাশিস মাহমুদ অ্যান্ড কোং’য়ের পার্টনার স্নেহাশিস বড়ুয়া (এফসিএ, এসিএ-আইসিএইডব্লিউ)। তিনি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের ওপর বিস্তারিত বিশ্লেষণ তুলে ধরেন এবং বাজেটের প্রধান রাজস্ব-সংক্রান্ত পদক্ষেপ, কর সংস্কার, শুল্ক নীতি ও ভ্যাট-বিষয়ক বিধান নিয়ে আলোচনা করেন। একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ওপর এগুলোর সম্ভাব্য প্রভাব বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেন।
বিজিজিসিআইয়ের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. ফারুক খানের স্বাগত বক্তব্য ও সঞ্চালনার মধ্য দিয়ে সেমিনার শুরু হয়। তিনি অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা ও টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে সরকার ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনার গুরুত্বের ওপর বিশেষ জোর দেন।
বিজিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. রোকনুজ্জামান অংশগ্রহণকারীদের স্বাগত জানান। তিনি নীতিনির্ধারণী আলোচনা সহজতর করা, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের প্রসার এবং প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায়িক পরিবেশের পক্ষে কাজ করার মাধ্যমে বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে ভূমিকা পালনে বিজিসিসিআইয়ের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি এমন সব রাজস্ব নীতির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে অর্থবহ আলোচনার গুরুত্ব তুলে ধরেন, যা সরাসরি ব্যবসায়িক আস্থা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নকে প্রভাবিত করে।
সেমিনারে একটি প্রাণবন্ত ও অংশগ্রহণমূলক আলোচনার আয়োজন করা হয়েছিল, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা মূল বক্তা ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাজেট-সংক্রান্ত বিভিন্ন পদক্ষেপ, কর নীতি, শুল্ক প্রক্রিয়া, ভ্যাটসংক্রান্ত বিষয় এবং বিনিয়োগবিষয়ক বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন। এই আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় বাজেটের বাস্তব প্রভাব অনুধাবন এবং বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নের সুযোগগুলো চিহ্নিত করার বিষয়ে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের গভীর আগ্রহ ফুটে ওঠে।
বিজিসিসিআইয়ের পরিচালক ও অনুষ্ঠানের সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম সরকার ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে সেমিনার সমাপ্ত করেন। তিনি সেমিনার সফলভাবে আয়োজনে অবদান রাখার জন্য প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি, মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক, বিশিষ্ট অংশগ্রহণকারী, পৃষ্ঠপোষক এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।





