বিদ্যুতের তারে টিন জড়িয়ে মুহূর্তেই প্রাণ গেল মা-বাবা-ছেলের

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের মা, বাবা ও ছেলেসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের অনন্তপুর গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন অনন্তপুর গ্রামের নুরুল আমিন (৬৫), তার স্ত্রী ফাতেমা আক্তার (৫০) ও ছেলে ফরহাদ শাহ (৩০)।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অনন্তপুর গ্রামের নুরুল আমিনের বাড়িতে একটি মুদি দোকান রয়েছে। আজ দুপুরে সেই দোকানঘর মেরামত করছিলেন তিনি ও তার ছেলে ফরহাদ শাহ। এ সময় দোকানঘরের টিন পাশে থাকা বিদ্যুৎ লাইনের তারের সঙ্গে জড়িয়ে যায়। এতে নুরুল আমিন ও তার ছেলে ফরহাদ প্রথমে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। তাদের চিৎকার শুনে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে মা ফাতেমা আক্তারও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন এবং তিনজনই গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে ফোনে জানিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। এরপর আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
অনন্তপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং ফতেহপুর ইউনিয়ন পরিষদের ১, ২ ও ৩ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সদস্য আকলিমা বেগম বলেন, নুরুল আমিন ও তার ছেলে দোকানঘর মেরামত করছিলেন। হঠাৎ করে টিনের চালে দুজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরে ছেলের চিৎকার শুনে মা এগিয়ে গেলে তিনিও আক্রান্ত হন। আমরা ফোনে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করাই। আহত তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর ডাক্তার তাদের মৃত ঘোষণা করেন। পুরো গ্রামে এখন শোকের ছায়া বিরাজ করছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুজন সরকার বলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন বলে আমরা জেনেছি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মিলন কুমার কুণ্ডু বলেন, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার অনন্তপুর গ্রামের এক গ্রাহক আমাদের না জানিয়ে নিজেই মিটারের কাজ করছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ওই সময় অসাবধানতাবশত এই দুর্ঘটনা ঘটে এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের তিনজন মারা যাওয়ার খবর আমরা পেয়েছি।





