‘হানি ট্র্যাপে’ ফেলে চাঁদাবাজি/দুই যুবদল নেতা গ্রেপ্তার, চারজনের পদ স্থগিত

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় পরিমল চন্দ্র বর্মন (৩০) নামে এক যুবককে ‘হানি ট্র্যাপে’ ফেলে মারধর, ২৫ হাজার টাকা চাঁদাবাজি এবং জোরপূর্বক নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগে দুই যুবদল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত চার যুবদল নেতার পদ স্থগিত করেছে বোদা পৌর যুবদল।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে আদালতে সোপর্দ করলে শুনানি শেষে আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেলে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ তাদের আটক করে। পরবর্তীতে একই দিন রাতে ভুক্তভোগী পরিমল বাদী হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৩-৪ জনকে আসামি করে বোদা থানায় মামলা দায়ের করেন। তখন পুলিশ তাদের এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠায়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন বোদা পৌর যুবদলের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন (৩০) এবং ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সোহেল রানা (৩৪)।
এ ঘটনায় ওই দুই যুবদল নেতাসহ মোট চারজনকে জড়িতের প্রমাণ মেলায় তাদের দলীয় পদ স্থগিত করেছে পৌর যুবদল।
মামলার অন্য নামীয় আসামিরা হলেন বোদা পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহীন মজুমদার (৫০), ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন আরিফ (৩৫) এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি রাজু ইসলাম (৩২)।
বোদা থানা সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের চামেশ্বরী এলাকার বাসিন্দা পরিমল চন্দ্র বর্মন গত শনিবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ব্যক্তিগত কাজে বোদা বাজারে যান। রাত ৯টার দিকে বোদা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রামাণিক পাড়া শিমুলতলী মোড়ে এক নারী কৌশলে ডেকে তাকে থামান। মুহূর্তের মধ্যেই একদল লোক তাকে ঘিরে ধরে মারধর করে এবং ওই নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের ভুয়া অভিযোগ এনে পার্শ্ববর্তী একটি বাড়িতে নিয়ে আটকে রাখে। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার পকেটে থাকা ২৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে মোটরসাইকেলের চাবি কেড়ে নিয়ে ১০০ টাকা মূল্যমানের চারটি ফাঁকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
ঘটনার পরদিন রোববার বিকেলে ভুক্তভোগী পরিমল প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে নিয়ে শিমুলতলী মোড়ে গিয়ে আনোয়ার ও সোহেলকে শনাক্ত করেন। এসময় আনোয়ারের কাছ থেকে পরিমলের স্বাক্ষর করা চারটি স্ট্যাম্প এবং সোহেলের কাছ থেকে ছিনতাইকৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়। পরে উপস্থিত জনতা তাদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
ভুক্তভোগী পরিমল চন্দ্র বর্মন এশিয়া পোস্টকে বলেন, একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে নারী দিয়ে আমাকে এই ফাঁদে ফেলেছে। আসামিরা কেউই আমার পরিচিত ছিলেন না। ভয় দেখিয়ে টাকা ছিনিয়ে নেওয়া ও ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়ার এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।
এ বিষয়ে বোদা পৌর যুবদলের সদস্য সচিব আফসারুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, ঘটনার সত্যতা যাচাই ও প্রাথমিক তদন্তে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলায় ৪ নেতার দলীয় পদ স্থগিত করা হয়েছে। তবে ৬ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি রাজু ইসলামের নাম মামলায় কীভাবে এলো তা খতিয়ে দেখা দরকার, তিনি সম্ভবত সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।
বোদা পৌর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মো. অলিয়ার রহমান অলি ও সদস্য সচিব মো. আফছারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে অভিযুক্তদের সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা ও গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামিকে জেলহাজতে প্রেরণের তথ্য নিশ্চিত করেছেন বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোয়েল রানা।
