পাহাড়িদের ঐতিহ্যবাহী অলংকার তৈরি করে স্বাবলম্বী দীপ্তি চাকমা

পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী অলংকারের প্রতি ছোটবেলা থেকেই ছিল গভীর ভালোবাসা। সেই ভালোবাসা, অদম্য চেষ্টা ও ইচ্ছাশক্তিকে পুঁজি করে আজ সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন খাগড়াছড়ির দীপ্তি চাকমা। তার প্রতিষ্ঠিত ‘Ornaments of Dhanpudi’ এখন পাহাড়ি ঐতিহ্যবাহী অলংকারের একটি পরিচিত নাম।
পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অন্যতম অনুষঙ্গ হলো অলংকার। বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় উৎসবে নারীরা বিশেষ নকশার ঐতিহ্যবাহী অলংকার পরিধান করে অংশ নেন। এসব অলংকারকে নিজেদের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে মনে করেন তারা।

নারী উদ্যোক্তা দীপ্তি চাকমা জানান, ছোটবেলা থেকেই পাহাড়ি ঐতিহ্যবাহী অলংকারের প্রতি তার বিশেষ দুর্বলতা ছিল। অনার্স পড়ার জন্য ঢাকায় সুযোগ হলে দীপ্তি অলংকার তৈরির কারিগরদের সঙ্গে পরিচিত হন। পড়াশোনার পাশাপাশি সময় বের করে নিয়মিত কারিগরদের কাছ থেকে অলংকার তৈরির বিভিন্ন কৌশল রপ্ত করেন। দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের ফল হিসেবে আজ তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা।
বর্তমানে খাগড়াছড়ি শহরের পানখাইয়াপাড়া সড়ক সংলগ্ন সুইসগেট এলাকায় ‘Ornaments of Dhanpudi’ নামে তার প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন দীপ্তি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্রেতারা অর্ডার করছেন। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন নকশার অলংকার কাস্টমাইজ করে সরবরাহ করছেন তিনি। তার নিখুঁত হাতের কাজ ও ব্যতিক্রমী ডিজাইন ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হয়েছে। কর্মচারী দীপ চাকমা বলেন, দীপ্তি দিদির উদ্যোগে আমরা কাজের সুযোগ পেয়েছি। এই প্রতিষ্ঠানে আমার মতো আরও একজন নারী কাজ করেন। খাগড়াছড়িতে তৈরি অলংকারের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। কাস্টমারের ডিজাইন মতো আমরা কাজ ডেলিভারি দিচ্ছি।
ক্রেতা মৌমিতা চৌধুরী জানান, খাগড়াছড়িতে শুধু পাহাড়ি জনগোষ্ঠী নয়, স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের কাছেও ‘Ornaments of Dhanpudi’ একটি বিশ্বস্ত ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে। তাদের বিভিন্ন সামাজিক উৎসবে গহনাগুলো পরিহিত নারীদের দেখতে পাওয়া যায়।
পর্যটক মনিষা কর্মকার বলেন, আমি অনলাইনে দেখে একটি আদিবাসীদের ডিজাইনের গহনা বুকিং করি। খাগড়াছড়িতে বেড়াতে আসায় গহনাটি সরাসরি এসে সংগ্রহ করলাম। গহনার কারুকাজ অসাধারণ হয়েছে।

নারী উদ্যোক্তা দীপ্তি চাকমা বলেন, সরকারি আর্থিক সহযোগিতা ও প্রণোদনা পেলে তিনি ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী অলংকারের প্রদর্শন ও বিপণনের ব্যবস্থা করতে চান। পাশাপাশি বড় শপিংমলগুলোতে গহনার শোরুম প্রতিষ্ঠারও পরিকল্পনা রয়েছে তার।
খাগড়াছড়ি মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের পরিচালক সুষ্মিতা খীসা বলেন, নারী উদ্যোক্তাদের স্বাবলম্বী করতে সরকার বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দিয়ে আসছে। এছাড়াও নামমাত্র সুদে ঋণ গ্রহণের সুযোগও রয়েছে, যা নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।






