পশারীর গার্ড অব অনারে বাধা: ৮ দিন পর বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিবাদ সভা

বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মৃত্যুর আট দিন পর প্রতিবাদ সভা করেছে পিরোজপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মরা।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে পিরোজপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ভবনে এ প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন যুদ্ধকালীন ক্যাম্প কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা ওবায়দুল কবির বাদল। প্রধান বক্তা ছিলেন যুদ্ধকালীন ক্যাম্প কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরদীদা খালেদ রবি এবং সভা সঞ্চালনা করেন সাবেক জেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক সেন্টু।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পিরোজপুর সদর উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ রব্বানী ফিরোজ, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বাতেন ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান দরাণী। এ ছাড়াও বক্তব্য দেন কাউখালী উপজেলার এস এম দুলাল, ভান্ডারিয়া উপজেলার মো. মতিউর রহমান, মঠবাড়িয়া উপজেলার মো. মাহাবুবুর রহমান, জিয়ানগর উপজেলার আব্দুর রশিদ হাওলাদার এবং নাজিরপুর উপজেলার আকরাম খান প্রমুখ। সভায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দায়ের করা হত্যা মামলার সাক্ষী হিসেবে পরিচিত পিরোজপুরের সমীর কুমার বাচ্চুসহ মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবাদ সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে মানিক পশারীর মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে নতুন করে বিতর্ক ও আলোচনা শুরু হয়। তার ভাই চাঁনমিয়া পশারী অভিযোগ করেছেন, অর্থের বিনিময়ে তার ভাই সাঈদীর মামলায় সাক্ষী হয়েছিলেন এবং তিনি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না।
এ বিষয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা ওবায়দুল কবির বাদল বলেন, চাঁন পশারী কী বলেছেন এবং কেন বলেছেন সে বিষয়ে তারা অবগত নন।
মানিক পশারীর মৃত্যুর আট দিন পার হলেও কোনো মুক্তিযোদ্ধা তার কবরের পাশে গেছেন কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতারা নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বাতেন বলেন, অনেকে কে কে মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। এ সময় তিনি জহিরুল হককে দেখিয়ে বলেন, তার পরিবারের সবাই যুদ্ধের সময় ক্যাম্পে অবস্থান করেছেন। পিরোজপুরের মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে কোনো গ্রুপিং নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
এলাকা ছাড়লেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর বোন হেনা
মানিক পশারীর দাফনে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধন
মানিক পশারীর দাফন নিয়ে বিতর্কের আসল কারণ খুঁজতে তদন্ত কমিটি
মানিক পশারীর দোয়া অনুষ্ঠানে এসেছিলেন অনেকে, তবু আতঙ্ক কাটেনি পরিবারের
মানিক পশারীর কবর খোঁড়া নিয়ে নতুন তথ্য
‘সন্ধ্যায় কবর খুঁড়লাম, পরে দেখি লোকজন ভরাট করে দিছে’ মানিক পশারীর বোন
১৭ ঘণ্টা পর দাফন হলো সাঈদীর মামলার বাদী মানিক পশারীর
তবে এ সময় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার খোকন তালুকদারের ছেলে ও মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মের নেতা নাঈম তালুকদার মানিক পশারীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি জানতে চান, মানিক পশারীকে কারা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নির্বাচন বা স্বীকৃতি দিয়েছিলেন? তিনি আরও বলেন, মানিক পশারী প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা না হয়ে থাকলে যে তিনজন মুক্তিযোদ্ধার সুপারিশে তিনি গেজেটভুক্ত হয়েছিলেন, তাদেরও আইনের আওতায় আনা উচিত।
নথি অনুযায়ী, মানিক পশারী ২০২৩ সালের ১১ জানুয়ারি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত হন (গেজেট নম্বর: ২৯৩২)।
সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তর পর্বের একপর্যায়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা ওবায়দুল কবির বাদল উপস্থিত অধিকাংশ সাংবাদিককে ‘বট’ বলে মন্তব্য করেন। এ সময় সাংবাদিকেরা তার কাছে জানতে চান, ঠিক কোন সাংবাদিককে তিনি ‘বট’ বলছেন? তবে নির্দিষ্ট করে কারও নাম বলতে না পেরে পরে তিনি দুহাত জোড় করে সাংবাদিকদের কাছে ক্ষমা চান।
সভায় বক্তারা বলেন, মানিক পশারীর মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়, গেজেটভুক্তির প্রক্রিয়া এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও নথিপত্র যাচাই করা প্রয়োজন। সম্পূর্ণ যাচাই-বাছাই ছাড়া তাকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বলা যাবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি গেজেটভুক্ত রয়েছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দিতে হবে।
বক্তারা বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান ও পারিবারিক কবরস্থানে দাফন নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতির তীব্র প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে তারা মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার জোর দাবি জানান এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।